৬০ কোটি টাকার জমি নিয়ে সরকারি দুই-331640 | খবর | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৫ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৭ জিলহজ ১৪৩৭


৬০ কোটি টাকার জমি নিয়ে সরকারি দুই সংস্থা মুখোমুখি

তোফাজ্জল হোসেন রুবেল   

৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানা সংলগ্ন প্রায় দুই একর জমি নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে সরকারি দুটি সংস্থা। ৬০ কোটি টাকা মূল্যের এ জমির দাবিদার জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় চিড়িয়াখানা। আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি তাদের দখলচেষ্টা নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গতকালও সেখানে ঘটেছে বাগিবতণ্ডাসহ অপ্রীতিকর ঘটনা।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, জমি নিয়ে উচ্চ আদালতের মামলা মোকাবিলা করে রায় অনুকূলে পাওয়ায় মালিকানা প্রশ্নে ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের দাবি, এ জমিতে প্লট করে নব্বইয়ের দশকের দিকে সরকারি বিধি মোতাবেক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেখানে রাজউক থেকে নকশা নিয়ে অনেকে বাসাবাড়ি করেছেন। তাই এ জমি চিড়িয়াখানার হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

বিরোধপূর্ণ এ জমির দখল ও উচ্ছেদ নিয়ে গতকাল সকাল ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত দুটি সংস্থার কর্মকর্তারা দফায় দফায় বাগিবতণ্ডায় জড়ান। ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুশফিকুর রহমানও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে ঘটনা নিষ্পত্তি হয়নি।

জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান খন্দকার আখতারুজ্জামান বলেন, ‘এখানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বা চিড়িয়াখানার কোনো জমি নেই। যে জমি তারা দাবি করছে, তা আমাদের জমি। উচ্ছেদের সময় আমাদের কর্মকর্তারা তাদের কাছে জমির দালিলিক প্রমাণ চাইলে তারা তা দেখাতে পারেনি। আমাদের প্লট করে বরাদ্দ দেওয়া এ জমি ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।’

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আইন কর্মকর্তা ও জাতীয় চিড়িয়াখানার সম্পত্তি কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) অসীম কুমার দাস বলেন, ‘চিড়িয়াখানার সম্পত্তি দখলমুক্ত করতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছি। এরই মধ্যে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল সরেজমিন পরিদর্শন করেছে। তাদের সুপারিশ মতে, উচ্চ আদালতের মামলা মোকাবিলা করে আমরা জমি দখলে নিতে গেছি। সেখানে হাউজিংয়ের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী জমি নিজেদের বলে দাবি করছেন। আমরা ঢাকা জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় জমি দখলে নিয়ে আসব।’

গতকাল চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে জমিটির দখল নিতে গেলে সেখানে বাধা দেন জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা। বাগিবতণ্ডায় উচ্ছেদ সাময়িক স্থগিত থাকলেও একপর্যায়ে চিড়িয়াখানার কর্মীরা পুলিশের সহায়তায় উচ্ছেদ চালিয়ে যায়।

জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের (মিরপুর সার্কেল) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুনিফ আহমেদ বলেন, ‘এ জমি আমাদের, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবু আমরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহায়তায় একটি যৌথ সার্ভে হওয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি। কিন্তু চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ তা না করে উচ্ছেদ চালিয়ে দখলে নিতে চাচ্ছে।’

মন্তব্য