বন্দরে এবার জব্দ সাত কোটি টাকার-331589 | খবর | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

রবিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১০ আশ্বিন ১৪২৩ । ২২ জিলহজ ১৪৩৭


মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি

বন্দরে এবার জব্দ সাত কোটি টাকার বিদেশি সিগারেট

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



এক সপ্তাহের ব্যবধানে চট্টগ্রাম বন্দরে আবার ‘মিথ্যা ঘোষণায়’ আনা বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ আমদানি নিষিদ্ধ সিগারেটের ২৮৮টি মাস্টার কার্টন জব্দ করে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য সাত কোটি ২০ লাখ টাকা।এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি আমদানি নিষিদ্ধ পৌনে পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের বেনসন অ্যান্ড হেজেস সিগারেট জব্দ করা হয়েছিল।

গতকাল বন্দর ইয়ার্ডে রাখা কনটেইনার থেকে জব্দ করা সিগারেটের মধ্যে মন্ড ব্র্যান্ডের ৩৮ কার্টন এবং ইজি ব্র্যান্ডের ২৫০ কার্টন সিগারেট রয়েছে।চট্টগ্রাম কাস্টমস গোয়েন্দা দলের ও সহকারী কমিশনার মুকিতুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঢাকার আশুলিয়ার জেনেটিক ফ্যাশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান বন্ডের আওতায় সুতা আমদানির ঘোষণা দিয়ে এসব সিগারেট নিয়ে আসে। গার্মেন্টের সুতা আমদানির ঘোষণা দিয়ে সাকি শিপিং লাইনসের মাধ্যমে কনটেইনারটি চট্টগ্রাম বন্দরে আনা হয়েছিল।’

জানা যায়, ২৫ ফেব্রুয়ারি যে জাহাজে করে চালানটি আনা হয়েছিল এর স্থানীয় শিপিং এজেন্ট ছিল সাকি শিপিং লাইনস। সুতা আমদানির ঘোষণা দিয়ে এবারও এই শিপিং লাইনসের মাধ্যমে কনটেইনারটি চট্টগ্রাম বন্দরে আনা হয়েছিল। দুই চালানের শিপিং এজেন্ট একই প্রতিষ্ঠান হলেও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আলাদা।

জানা যায়, ওয়েবল্যাংকসেন নামের জাহাজে করে আনা কনটেইনারটিতে নথিপত্র অনুযায়ী সুতা থাকার কথা থাকলেও সেখানে পাওয়া গেছে ২৮৮ মাস্টার কার্টন সিগারেট, যা আমদানি নিষিদ্ধ। গতকাল বুধবার আটক চালানটির আমদানিকারক দেখানো হয়েছে ঢাকার সাভারের জেনেটিক ফ্যাশনকে। আগেরবার আমদানিকারক দেখানো হয়েছিল গাজীপুরের একটি প্রতিষ্ঠানকে।

গতকাল জব্দ করা চালানটি আসে দুবাই থেকে মালয়েশিয়া কেলাং বন্দর হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা ওয়েবল্যাংকসেন নামের জাহাজটিতে করে। আগের বার আরব আমিরাতের জেবল আলী বন্দর থেকে হো চি মিন নামের জাহাজটি আসে মালয়েশিয়ার একই বন্দর হয়ে। তখন জব্দ করা হয় ৫৫০ কার্টন ভর্তি ৪৭ লাখ বেনসন অ্যান্ড হেজেস সিগারেট, যার বাজারমূল্য পৌনে পাঁচ কোটি টাকা। ওই সময় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছিল র‌্যাব-৭।

তাঁরা হলেন সাকি শিপিং লাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার শওকত আফসার, ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শফি, কর্মচারী মো. নাছির ও মো. ইমরান। নগরের বন্দর থানায় দায়ের হওয়া ওই মামলায় চার দিন পর জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান আফসার। গতকাল একই প্রতিষ্ঠানের পণ্য আটক হওয়ার পর আফসার আবার আলোচনায় আসেন। তিনি চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক।

জানতে চাইলে আনোয়ার শওকত আফসার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গতবার আটক হওয়া পণ্যের বিল অব এন্ট্রি (বিএল) জমা দেওয়ার সুযোগ পেলে বোঝা যেত কারা জালিয়াতি করেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘গতকাল আটক হওয়া কনটেইনারটি খালাসের জন্য সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের পক্ষ থেকে যে নথিপত্র নিয়ে এসেছিল তা সন্দেহজনক দেখে আমি কাস্টমস কর্মকর্তাদের অবহিত করি। এর সঙ্গে আমার শিপিং লাইনস জড়িত নয়।’

মন্তব্য