kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দেবীগঞ্জে পুরোহিত হত্যাকাণ্ড

গোপালের গুলিবিদ্ধ কবজি কেটে ফেলা হলো

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে হিন্দু ধর্মীয় গুরু যজ্ঞেশ্বর রায় (৫০) হত্যাকাণ্ডের সময় গুলিতে আহত গোপাল চন্দ্র রায়ের (৩৫) বাঁ হাতের কবজি অস্ত্রোপচার করে কেটে ফেলা হয়েছে। গতকাল বুধবার ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক (পঙ্গু) হাসপাতালে এই অস্ত্রোপচার করা হয়।

গোপাল বর্তমানে ওই হাসপাতালেই চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন। তাঁর চিকিৎসার সব খরচ সরকার বহন করছে।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি দেবীগঞ্জের সন্ত গৌড়ীয় মঠে মঙ্গল আরতি দিতে এসে ভক্ত গোপাল চন্দ্র রায় পুরোহিত যজ্ঞেশ্বর রায়কে হত্যার ঘটনা দেখে ফেলেন। এ সময় তিনি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত দুর্বৃত্তদের দেখে পালাতে উদ্যত হলে তাদেরই একজন পিস্তল দিয়ে তাঁকে গুলি করে। এতে তিনি বাঁ হাতের কনুইয়ে গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় মঠের সাধু নির্মল চন্দ্র রায় পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন।

ওই দিনই গোপালকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ও পরদিন সেখান থেকে ঢাকার জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউটে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি দেবীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী।

পঙ্গু হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল পৌনে ১১টায় হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক (সার্জারি) ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে চারজন চিকিৎসকের একটি দল গোপালের হাতে অস্ত্রোপচার করে। সময় লাগে প্রায় ৪৫ মিনিট। অস্ত্রোপচার করে বাঁ হাতের কবজির কিছুটা ওপর পর্যন্ত কেটে ফেলা হয়েছে। তবে হাতের মাংসপেশিতে ধরা পচনের সম্ভাব্য মাত্রা বুঝতে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার অংশে স্বাভাবিক সেলাই দেননি। ২৪ বা ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ডা. জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের বলেন, গোপালের হাতে ঢুকে গুলিটি ঘূর্ণির মতো ঘুরে ভেতরের মাংসপেশি ও রক্তনালি ছিন্নভিন্ন করে ফেলেছে। অনেক দেরিতে ঢাকায় এনে রক্তনালি জোড়া লাগানোর জন্য অস্ত্রোপচার করা হলেও সেটা কাজে লাগেনি। এ জন্য রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে তাঁর হাত আঙুলসহ ফুলে যায় ও কালো বর্ণ ধারণ করে। একই সঙ্গে ইনফেকশনে (সংক্রমণ) মাংসপেশিতে পচন ধরে। সংক্রমণের কারণে তাঁর প্রচণ্ড জ্বর হচ্ছিল। এতে একসময় কিডনিও সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা ছিল, যা তাঁর জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলত। এ জন্যই হূদরোগ ইনস্টিটিউটের মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গোপালের অস্ত্রোপচার করে হাতের কবজির কিছুটা ওপর পর্যন্ত কেটে ফেলা হয়েছে।

পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, জেএমবি সদস্যদের গুলিতে আহত গোপালের চিকিৎসার সব খরচ সরকার বহন করছে। সরকার তাঁর চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সব কিছুই করবে। চিকিৎসা শেষে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতেও তাঁকে সহায়তার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

গোপালের স্ত্রী কুনটি রাণী (৩০) বলেন, তাঁর স্বামীর চিকিৎসার শুরু থেকে সরকারিভাবে সব খরচ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ভবিষ্যতে কী হবে তা নিয়ে তিনি বেশ চিন্তায় আছেন। কারণ কলেজ থেকে বেতন না পেলেও তাঁর স্বামী দুই হাতে কাজকর্ম করে সংসার সামলান। একটি হাত কেটে ফেলায় সেই শক্তি আর থাকল না। তিনি দ্রুত তাঁর স্বামীর বেতন-ভাতা চালু করতে সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।

যজ্ঞেশ্বর রায় হত্যাকাণ্ডে দায়ের করা দুই মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচজন বর্তমানে রিমান্ডে আছে। রিমান্ডে নেওয়ার তিন দিনের মধ্যে আলমগীর হোসেন নামের একজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে এই হত্যাকাণ্ডে জেএমবির সংশ্লিষ্টতা এবং নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। দুই দফায় তিনজন করে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের প্রায় সবাই জেএমবি সদস্য।


মন্তব্য