kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়

অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

শরীফুল আলম সুমন   

৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

রাজধানীর মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কালাম মোস্তফার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ বিস্তর। সব সময় টাকার পেছনে ছোটেন তিনি।

বিভিন্ন অভিযোগে দুবার তাঁকে ঢাকার বাইরে বদলিও করা হয়। গত বছর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে তিনি আবার ঢাকায় চলে আসেন। এসেই টাকা কামানোর নতুন নতুন পথ বের করেন তিনি।

স্কুলের সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালামের মেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে প্রশ্নপত্র বণ্টনের দায়িত্ব দেন তিনি। অথচ নীতিমালা অনুযায়ী কোনো শিক্ষক বা কর্মচারীর ছেলেমেয়ে পরীক্ষার্থী হলে তিনি পরীক্ষার কাজে অংশ নিতে পারেন না। অভিযোগ রয়েছে, এতে অর্থের যোগ রয়েছে। বেশ কিছু অভিযোগের তদন্ত করছে ঢাকা জেলা শিক্ষা অফিস। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এসএসসির পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার দিন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বোর্ডের কর্মকর্তারা মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে যান। সেখানে তাঁরা নানা অনিয়ম দেখতে পান। তাত্ক্ষণিক কেন্দ্রসচিব ও প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম মোস্তফা এবং সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালামকে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

ওই স্কুলের কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করে বলেন, ১৪ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রের বাইরে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনে বোর্ড কর্মকর্তারা প্রশ্নের নমুনা দেখতে পান। সকাল পৌনে ৯টায় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ কয়েকজন কর্মকর্তা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে যান। সেখানে প্রশ্ন খোলা অবস্থায় দেখতে পান তাঁরা। পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির কোনো তালিকা তাঁদের দেখাতে পারেননি প্রধান শিক্ষক।

সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালামকে প্রশ্নপত্র বণ্টনের দায়িত্ব দেওয়ার ব্যাপারে অন্য শিক্ষকরা আপত্তি তুললেও তা মানেননি প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম মোস্তফা। ঢাকা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিদা বেগম নাজমা বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ের আগে প্রশ্নপত্র খোলায় মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রসচিব আবুল কালাম মোস্তফার বিরুদ্ধে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ’

সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক হওয়ায় আশপাশের সব বেসরকারি স্কুলের নিয়োগ বোর্ডে তিনি মাউশির প্রতিনিধিত্ব করেন। শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেতে হলে তাঁকে দিতে হয় বড় অঙ্কের টাকা। অভিযোগ রয়েছে, গত বছরের এপ্রিলে ধামরাইয়ের সৈলান সুরমা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সামছুল ইসলাম নামের একজন প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নেন তিনি। পরে বেশি টাকা পেয়ে আব্দুল মান্নান নামের আরেকজন প্রার্থীকে নিয়োগ দেন। গত সেপ্টেম্বরে মোহাম্মদপুরের বেঙ্গলি মিডিয়াম হাই স্কুলে এবং রায়ের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগের সময় তাঁকে টাকা দিতে হয়েছে প্রার্থীদের। গত ২৪ নভেম্বর বছিলা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক ও সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে নিয়োগ পরীক্ষা হয়। তিনি পছন্দের প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে যোগ্যদের বঞ্চিত করেছেন বলে একজন প্রার্থী জেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ জানান। মোহাম্মদপুর থানা শিক্ষা কর্মকর্তা রাজু আহমেদ বলেন, ‘বছিলা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের জন্য টাকা নেওয়ার অভিযোগে আবুল কালাম মোস্তফার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। ’

সরকার শিশুদের ওপর থেকে বইয়ের বোঝা কমাতে বলেছে। কিন্তু আবুল কালাম মোস্তফা তাঁর স্কুলের প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব শ্রেণিতে এনসিটিবির বইয়ের বাইরে আরো পাঁচ-ছয়টি বই পাঠ্য করেছেন। এ জন্য তিনি প্রকাশক-সরবরাহকদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা নিয়েছেন। চলতি বছর প্রাথমিক শাখার ২১০ জন শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। তাদের ছাড়পত্র বাবদ নিয়ম বহির্ভূতভাবে ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই টাকা তিনি স্কুল ফান্ডে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। জেএসসি ও এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হতে পারে না, টাকার বিনিময়ে তাদের জন্য দ্বিতীয়বার পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, অনেক সময় তিনি ইচ্ছা করে শিক্ষার্থীদের ফেল করান, যাতে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা নেওয়া যায়। টাকা নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এসব ব্যাপারে বক্তব্য জানার জন্য আবুল কালাম মোস্তফাকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। তবে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রসচিবের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পর তিনি বলেছিলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা। ’


মন্তব্য