kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এ নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি

সংবাদ সম্মেলনে সুজন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘২০১৩ সালের পর এ নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। সরকার নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করছে না।

মানসম্মত নির্বাচন না হওয়ায় কমিশনের ওপর প্রার্থীদের আস্থা নেই। ’ গতকাল বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন আয়োজিত সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বানে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন সুজন সভাপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান। এতে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

হাফিজ উদ্দিন খান আরো বলেন, ‘আমরা সুজন-এর পক্ষ থেকে বলেছি, দলভিত্তিক স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফলাফল শুভ হয় না। আমরা বিগত পৌর নির্বাচনেও তা দেখেছি। স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলভিত্তিক করার সিদ্ধান্ত যুক্তিযুক্ত হয়নি। ’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দিলীপ কুমার সরকার বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যেসব অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর মধ্যে মনোনয়ন বাণিজ্য; মনোনয়নপত্র দাখিলে বাধা ও ছিনিয়ে নেওয়া; যাচাই-বাছাইয়ের সময় প্রভাবিত হয়ে বা অর্থের বিনিময়ে প্রার্থিতা বাতিল বা প্রার্থিতা বৈধকরণ; প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করা বা প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করা, অভিযোগ দায়েরের পরও ব্যবস্থা না নেওয়া; এক ইউনিয়নে একটি রাজনৈতিক দল থেকে একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও নির্বাচনী আইন অনুযায়ী সব বাতিল না হওয়া ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ’

দিলীপ কুমার আরো বলেন, ‘নির্বাচনের তারিখ বেশ দূরে থাকলেও এখন থেকেই সংঘর্ষ শুরু হওয়া; ২৫টি ইউনিয়নে শুধু আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিল; ১১৪টি ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী না থাকা, অতীতের তুলনায় প্রার্থী কমে যাওয়া; দক্ষ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীর পরিবর্তে অযোগ্যদের মনোনয়ন প্রদানের অভিযোগগুলোকে আমরা নেতিবাচক বলে মনে করছি। ৭৩৮টি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র ১২ জন নারীর (ছয়জন আওয়ামী লীগ ও ছয়জন বিএনপি থেকে) চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নকেও আমরা উদ্বেগের বিষয় বলে মনে করছি। ’

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে হলফনামা প্রদানের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আমরা কয়েকজন মিলে হাইকোর্টে এ বিষয়ে মামলা করেছিলাম। যেদিন এ মামলার রায় হওয়ার কথা সেদিন সিনিয়র জজকে আপিল বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। ফলে রায় হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পর আমরা এ বিষয়ে আবারও উদ্যোগ নিব। ’ তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার জনগণের দোরগোড়ার সরকার। আর তাই এ নির্বাচনে যদি সৎ ও যোগ্য লোক নির্বাচিত হয়ে না আসে, তাহলে তা আপামর জনগণের জন্য কখনোই কল্যাণ বয়ে আনবে না। ’ সংবিধানের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রজাতন্ত্র হবে গণতন্ত্র, গণতন্ত্রের জন্য নির্বাচন দরকার। আর নির্বাচন হতে হবে, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য। ’ ড. মজুমদার আরো বলেন, ‘এবারে নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা গড়ে ৪.৮২ শতাংশ।


মন্তব্য