kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাহুবলে চার শিশু খুন

হত্যাকাণ্ডে ৯ জনের জড়িত থাকার তথ্য দিল সাহেদ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামে চার শিশু হত্যার ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে আরো একজন। জবানবন্দি দেওয়া চতুর্থ আসামি সাহেদ মিয়া বলেছে, শিশুদের অপহরণ ও হত্যার পর মাটিচাপা দিতে সহযোগিতা করেছিল সে।

দ্বিতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ডে থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় দিনে গতকাল বুধবার প্রধান অভিযুক্ত আবদুল আলী বাগালের ভাতিজা সাহেদ হবিগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচার বিভাগীয় হাকিম কাউসার আলমের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

হবিগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক কামাল উদ্দিন জানান, আদালতে সাহেদ মিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। সে জানিয়েছে, ৯ জন এই ঘটনায় জড়িত। স্বীকারোক্তিতে সাহেদ মিয়া বলেছে, চার শিশুকে অটোরিকশায় করে অপহরণ করতে সহযোগিতা করেছিল সে। পরে শিশুদের আবদুল আলী বাগালের বাগানে নিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর শিশুদের মাটিচাপা দেওয়ার সময়ও সে সেখানে ছিল বলে আদালতকে জানিয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হবিগঞ্জ পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি মুক্তাদির হোসেন জানান, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সাহেদ মিয়াকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে যে তথ্য দিয়েছিল তাতে পুরো ঘটনার বিবরণে মিল পাওয়া যায়নি। তাই তাকে আবারও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দ্বিতীয় দফায় মঙ্গলবার তাঁকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। দ্বিতীয় দিন গতকাল সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয়। তাদের জবানবন্দিতে আটজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়।

এর আগে আবদুল আলীর দুই ছেলে রুবেল ও জুয়েল এবং তাদের সহযোগী হাবিবুর রহমান আরজু আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এই চারজনের স্বীকারোক্তি পাওয়ায় মামলার তদন্তকাজ অনেকটাই সহজ হয়েছে। তাদের স্বীকারোক্তিতে আসা আসামি বিল্লাল মিয়া, উস্তার মিয়া ও বাবুল মিয়াকে ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে বলে ডিবি কর্মকর্তা মুক্তাদির হোসেন জানান। এখন পর্যন্ত ছয়জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বাচ্চু মিয়া নামের অটোরিকশাচালক নিহত হয়েছে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে।

এদিকে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে শিশুদের পরিবারকে দুই লাখ টাকা দিয়েছেন। গতকাল তিনি এই টাকা সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর কাছে হস্তান্তর করেন বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া গতকাল সুন্দ্রাটিকি গ্রাম পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) নেতারা। তাঁরা চার শিশুর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন। বিচারকাজে সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন তাঁরা।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সুন্দ্রাটিকি গ্রামের মো. ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে জাকারিয়া আহমেদ শুভ (৮), তার চাচাতো ভাই আব্দুল আজিজের ছেলে তাজেল মিয়া (১০) ও আবদাল মিয়ার ছেলে মনির মিয়া (৭) এবং তাদের প্রতিবেশী আব্দুল কাদিরের ছেলে ইসমাঈল হোসেনের (১০) লাশ উদ্ধার করা হয়। তারা ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিল।


মন্তব্য