kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জাল টাকাসহ গ্রেপ্তার বিদেশি নাগরিকের জামিন নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বিপুল অঙ্কের জাল টাকা ও টাকা তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার এক বিদেশি নাগরিককে জামিন দেওয়া হয়েছে। তাঁর নাম ক্যালভিন জনসন।

ক্যামেরুনের এই নাগরিককে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর তৃতীয় অতিরিক্ত দায়রা আদালত ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক জিয়াউর রহমান জামিন দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ক্যালভিন ক্যামেরুনের লিটুরাল জেলার ডোরালা সিটির বাসিন্দা। তাঁকে ২০ হাজার টাকার মুচলেকায় দুজন জামিনদারের জিম্মায় জামিন দেওয়া হয়। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ক্যালভিনের পক্ষে তাঁর আইনজীবী জামিনের আবেদন করলে গতকাল শুনানির দিন ধার্য করা হয়। শুনানি শেষে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।

এর আগেও অনেকবার ক্যালভিনের জামিন নামঞ্জুর হয়। সর্বশেষ গত ১০ জানুয়ারি একই আদালতের বিচারক তাঁর জামিন নামঞ্জুর করেন। ওই আদেশে আদালত উল্লেখ করেন (মামলার নথি অনুযায়ী), ‘আসামির হাতে থাকা ট্রাভেল ব্যাগ থেকে এক হাজার টাকার ২৪৪টি বাংলাদেশি জাল মুদ্রা ও জাল টাকা তৈরির কেমিক্যাল উদ্ধারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। ১০ জন সাক্ষীর (ওই তারিখ পর্যন্ত) সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা সাক্ষ্য দিলেই মামলাটি নিষ্পত্তি হবে। এ ছাড়া  আসামি একজন বিদেশি নাগরিক। জামিন দেওয়া হলে চিরতরে পলাতক হওয়ার আশঙ্কা আছে। এমতাবস্থায় জামিনে মুক্তি দেওয়া সমীচীন হবে না। ’ 

কিন্তু আগের ধার্য তারিখে আসামির পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হলেও তার অল্প কিছুদিনের মাথায় আসামিকে জামিন দেওয়ায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ও আইনজীবীদের মধ্যে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওই আদালতের অতিরিক্ত পিপি আসাদুজ্জামান খান (রচি) কালের কণ্ঠ’র কাছে জামিনের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি স্পর্শকাতর। আমি জামিনের বিরোধিতা করেছি। তবু বিজ্ঞ আদালত জামিন দিয়েছেন। আসামির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা উদ্ধার হয়েছে তা আদালতকে জানিয়েছি। বিদেশি নাগরিক জামিন পেলে পালাবেন, এ কথাও বলেছি। ’ অতিরিক্ত পিপি আরো বলেন, ‘আগের তারিখে আদালত জামিন দেননি। আসামি বিদেশি নাগরিক বলে চিরতরে পলাতক হওয়ার আশঙ্কা করেছেন। হঠাৎ করে কী এমন ঘটনা ঘটল যে আদালতের কাছে মনে হয়েছে আসামি পালাবে না। ’

ঢাকার আদালতের আইনজীবী ইদ্রিস আলী বলেন, বিদেশি নাগরিককে জামিন দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। জাল টাকা দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। বিপুল অঙ্কের জাল টাকার মামলায় বিদেশি আসামির জামিন অস্বাভাবিক।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর র্যাব-২-এর সদস্যরা রাজধানীর শ্যামলী সিনেমা হল মার্কেটের সামনে চেকপোস্ট বসান। বিকেল পৌনে ৫টার দিকে একটি নীল রঙের প্রাইভেট কার (ঢাকা-মেট্রো-গ-১৪-৬৫৭০) থামান র্যাব সদস্যরা। ওই গাড়িতে যাত্রী ছিলেন ক্যালভিন। তাঁর কাছে একটি ট্রাভেল ব্যাগ ছিল। র্যাব সদস্যরা ব্যাগটি তল্লাশি করলে তার ভেতরে বাংলাদেশি এক হাজার টাকার ২৪৪টি জাল নোট পাওয়া যায়। ক্যালভিন স্বীকার করেন তিনি ও গুয়াতেমালার নাগরিক লুকাস দীর্ঘদিন বাংলাদেশে বসবাস করছেন। তাঁরা একত্রে জাল টাকা তৈরি করে তা বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। পরে লুকাসকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ক্যালভিনকে আটকের দুই দিন পর র্যাব-২-এর উপপরিচালক শেখ শহিদুর রহমান বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। ২০১৪ সালের ২৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুর থানার এসআই আমিনুল ইসলাম তদন্ত শেষে ক্যালভিনের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য এই আদালতে স্থানান্তর করা হয়।

মামলাটির বিচারও নিষ্পত্তি হওয়ার প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অতিরিক্ত পিপি আসাদুজ্জামান খান জানান, শুধু তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণ করলেই মামলা নিষ্পত্তি হবে। মামলার নথি থেকে দেখা যায়, ২০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।


মন্তব্য