kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


খালাসপীর কয়লাখনি ঘিরে স্বপ্ন দেখছে রংপুরের মানুষ

রংপুর অফিস   

২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার খালাসপীর কয়লাখনি ঘিরে নতুন করে স্বপ্ন দেখছে রংপুরের মানুষ। ২০০৬ সালে সরকারের কাছে খনির সমীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।

এরপর কেটে গেছে প্রায় ১০ বছর। গত শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-১ মো. জাহাঙ্গীর আলম ও হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন খনি এলাকা পরিদর্শন করার পর ওই এলাকার মানুষ আবার আশাবাদী হয়ে উঠেছে।

কয়লাখনি প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের মাগুড়া এলাকাটি উপজেলা সদর থেকে ১৩ কিলোমিটার পশ্চিমে। সেখানে ১৯৫৯ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর খালাসপীর খনির অবস্থান চিহ্নিত করে। এরপর ১৯৮৯-৯০ অর্থবছরে জিএসবি ২৫ বর্গকিলোমিটার খনি এলাকায় প্রাথমিকভাবে চারটি কূপ খনন করে তিনটিতে ২৮৪ মিটার থেকে ৪৮০ মিটার গভীরতায় উন্নতমানের বিটুমিনাস কয়লার সন্ধান পায়। পরে ২০০৩ সালে খনির টপোগ্রাফিক্যাল সার্ভের জন্য কনসোর্টিয়াম অব হোসাফ ইন্টারন্যাশনাল ও চায়নার সেনউইন মাইনিং গ্রুপ সরকারের কাছে আবেদন করে। একটি চীনা প্রতিষ্ঠান খনি জরিপের প্রাথমিক কাজ দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক সিসমিক সার্ভের জন্য ২০ থেকে ২৫ ফুট বোরিং করে সুড়ঙ্গপথে খনিতে সাড়ে সাত হাজার বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। পাশাপাশি কয়লার গভীরতা, পুরুত্ব, মজুদ ও স্তর জানতে সাতটি কূপ খনন করে। অন্যদিকে ভারতের জিওটেক কম্পানিও ১৪টি কূপ খনন করে সব কটির তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে। এসব জরিপের পর খনিটিকে এশিয়ার শ্রেষ্ঠ কয়লাখনি হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রটি আরো জানায়, ২৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের আট স্তরবিশিষ্ট খালাশপীরের কয়লাখনিতে সম্ভাব্য মজুদের পরিমাণ ৬৮৫ মিলিয়ন টন, যা দিয়ে বাংলাদেশের ২০০ বছরের কয়লার চাহিদা মেটানো সম্ভব। এর মধ্যে ২ দশমিক ৫২ কিলোমিটার এলাকায় ১৪৩ মিলিয়ন টন প্রমাণিত মজুদ কয়লা রয়েছে। সমীক্ষায় দেখা যায়, প্রতিবছর দুই মিলিয়ন টন কয়লা উত্তোলন করা যাবে, যা দিয়ে প্রথম পাঁচ বছর প্রতিদিন ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এবং কয়লা উত্পাদন বাড়ালে দশম বছরে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উত্পাদন করা সম্ভব। সেই সঙ্গে এখানে চার থেকে পাঁচ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে।

জানা যায়, হোসাফ কনসোর্টিয়াম ২০০৬ সালের আগস্টে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে সমীক্ষা প্রতিবেদন (ফেসিবিলিটি রিপোর্ট) জমা দিয়ে ইজারার জন্য আবেদন

প্রকল্প এলাকায় থাকা কনসোর্টিয়াম অব হোসাফ ইন্টারন্যাশনালের ভূ-তত্ত্ববিদ অনুপ কুমার রায় জানান, খালাসপীর কয়লাখনিতে বিটুমিনাস নামের উচ্চ জ্বালানি ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লা রয়েছে। প্রতি পাউন্ড কয়লার জ্বালানি ক্ষমতা ১০ হাজার ৫০০ ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (বিটিইউ)। এতে ক্ষতিকর সালফারের উপস্থিতি মাত্র ১ শতাংশেরও কম। খনির এক স্তরে ধাতু গলানোর কাজে ব্যবহূত কোকিংকোল, চুনাপাথর ও কাচ-বালু রয়েছে, যা অনেক খনিতেই পাওয়া যায় না।

গতকাল পরিদর্শনে আসা হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘পরিবেশের সঙ্গে ভারসাম্য রেখে ভূ-গর্ভস্থ পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করলে পরিবেশের কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে না। সরকার কয়লানীতি চূড়ান্ত করলে খালাসপীর কয়লাখনির কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব হবে। ’

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-১ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এলাকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকার কয়লা উত্পাদনে যাওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে। এ জন্য আমরা সবার সহযোগিতা কামনা করছি। ’

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর পীরগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সেখানকার মানুষ খালাসপীর কয়লাখনি থেকে কয়লা উত্তোলনের দাবি জানায়। ওই সময় শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে খনিটি থেকে কয়লা উত্তোলনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে খালাসপীর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা শামসুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন পরে হলেও প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব আসায় আমরা মনে করছি এখানে কার্যক্রম শুরু হবে। ’ এলাকার ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান বলেন, ‘এটা রংপুরের জন্য বিশাল প্রাপ্তি। এখানে কাজ শুরু হলে বিপুল মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং পিছিয়ে পড়া রংপুর তরতর করে এগিয়ে যাবে। ’


মন্তব্য