kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান

বিধি ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা : পূর্তমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



রাজধানীর পরিকল্পিত আবাসিক এলাকাগুলোতে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এ ক্ষেত্রে ২০০৭ সালের পরিপত্র জারির পর যারা বিধি ভঙ্গ করে এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

আর এক মাসের মধ্যে ভবনগুলোর বেজমেন্ট খালি করতে বলেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক।

গতকাল সোমবার রাজধানীর গুলশান ক্লাবে ডিএনসিসি আয়োজিত ‘আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মন্ত্রী ও মেয়র এসব কথা বলেন।

মেয়র আনিসুল হক সভায় সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। অন্যদের মধ্যে বত্তৃদ্ধতা করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও গুলশান সোসাইটির সভাপতি এ টি এম শামসুল হুদা, রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জি এম জয়নাল আবেদীন প্রমুখ। ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) খান মো. বিলাল ও ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজবাহুল ইসলামসহ বিভিন্ন সংস্থার শতাধিক প্রতিনিধি এতে অংশ নেন।

পূর্তমন্ত্রী বলেন, ‘শুরু থেকেই ঢাকা শহরের পরিকল্পনা সঠিক নিয়মে হয়নি। প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরা অর্থ নিয়েছে আর প্লট বরাদ্দ দিয়েছে। এ জন্য এখন নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। সুষ্ঠু নগর পরিকল্পনা করা হলে তেজগাঁও এলাকাকে কোনোভাবেই শিল্প এলাকা করা হতো না। তেজগাঁও এলাকায় বিমানবন্দরও হতো না। ঢাকার দুই মেয়রের সঙ্গে আলোচনা করে শহরের সব অব্যবস্থাপনা সমাধানের কাজ হাতে নিয়েছি। ’

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘রাজউকের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং কর্তব্যে অবহেলার কারণে ঢাকা শহরের আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। আমি চেষ্টা করছি রাজউককে সজাগ করে তাদের সঠিক দায়িত্ব পালনে মনোযোগী করে তুলতে। ’

ডিএনসিসি মেয়র আনিসুল হক বলেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আবাসিক এলাকায় অনুমোদন ছাড়াই ছয় হাজার ৫৯টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কারণে আবাসিক এলাকায় যানজট ও পরিবেশদূষণ হচ্ছে, এসব এলাকা বসবাসের উপযোগিতা হারাচ্ছে।

মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, ‘অপরিকল্পিতভাবে শহর গড়ে ওঠায় আজ বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় স্থান হয়েছে ঢাকার। গুলশান-বনানীর মতো ধানমণ্ডির আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে রাজউকের নকশার বাইরে বাজার, স্কুল, হাসপাতালসহ নানা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এভাবে আর চলতে দেওয়া যায় না। আমরা আশা করব, অবৈধ এসব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা সরিয়ে নেবে। অন্যথায় আইন প্রয়োগ করা হবে। ’

রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জি এম জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া বলেন, ‘নগরীর সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে চাই। অনেকে আমাদের নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করছে না। আমরা উচ্ছেদে

যেতে চাইলে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা এনে দেখানো হয়। এর পরও আমরা বসে নেই। নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি। ’

সভায় কয়েকজন কাউন্সিলর এবং গুলশান, বনানী ও উত্তরা এলাকার বাসিন্দারা বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ উথাপন করে। উপস্থিত অতিথিরা তা শুনে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা হবে বলে আশ্বাস দেন।


মন্তব্য