kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কাল সিলেটে শুরু হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ

উদ্বোধন করবেন প্রধান বিচারপতি

রেজাউল করিম   

১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



দেশে এই প্রথম বিচারিক আদালতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। আগামীকাল বুধবার সিলেট জেলা জজ আদালত থেকে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধান বিচারপতি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিলেটে এ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর ক্রমান্বয়ে দেশের সব আদালতেই এই পদ্ধতির প্রচলন করা হবে। এ পদ্ধতি বাস্তবায়িত হলে নিখুঁতভাবে মামলা পরিচালনা এবং বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতার অবসান হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, সিলেটে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সাক্ষ্যগ্রহণের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। ক্রমান্বয়ে দেশের সব আদালতে এই পদ্ধতি চাল করা হবে। এটি মূলত প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার উদ্যোগ বলে রেজিস্ট্রার জেনারেল উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি সহায়তা করছে। তিনি আরো বলেন, ডিজিটাল এই পদ্ধতিতে সাক্ষীর বক্তব্য টাইপ করবেন কম্পিউটার অপারেটররা। বক্তব্য সঠিকভাবে লেখা হচ্ছে কি না তা মনিটরে দেখতে পাবেন বিচারক, মামলার সাক্ষী, সাক্ষীর ও আসামির আইনজীবীরা। শুধু তাই নয়, সবার দেখার সুবিধা করে দিতে থাকছে বড় মনিটরে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা। টাইপিংয়ের পাশাপাশি পুরো সাক্ষ্যগ্রহণ রেকর্ডিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।

সিলেটের জেলা জজ মনির আহমেদ পাটোয়ারি কালের কণ্ঠকে বলেন, সিলেট জেলা জজের অধীনে প্রায় ৪০টি আদালত রয়েছে। এর মধ্যে ২০টিতে এই ডিজিটাল পদ্ধতির কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। দেশে যে পরিমাণ মামলাজট, এই পদ্ধতি বাস্তবায়িত হলে তা দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব। তিনি বলেন, দেখা যায় সাক্ষীর সাক্ষ্য আদালতে দায়িত্বরত ব্যক্তিকে হাতে লিখতে হয়। ফলে একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য নিতে অনেক সময় ব্যয় হয়। এ কারণে এক দিনে একটি আদালত চার-পাঁচজনের বেশি সাক্ষ্য নিতে পারেন না। ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রতিদিন ১০-১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া সম্ভব হবে। ফলে মামলার বিচারকাজও দ্রুত নিষ্পত্তি হবে।

মনির আহমেদ আরো বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধি হিসেবে হাতে লেখার মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণের ইতিহাস প্রায় ১৫৬ বছরের পুরনো। কিন্তু সাক্ষীর বক্তব্য ঠিকমতো লেখা হচ্ছে কি না, এ নিয়ে সন্দেহ থাকত সব পক্ষেরই। এ অবস্থার উত্তরণ ঘটবে ডিজিটাল পদ্ধতি প্রবর্তন হলে। এ ছাড়া আগের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে সাক্ষ্য

নেওয়া সম্ভব হবে। প্রতিটি আদালতে এই ডিজিটাল ডিভাইস স্থাপনে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হচ্ছে বলে মনির আহমেদ পাটোয়ারি জানান।


মন্তব্য