kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কাফনের কাপড় পরানোর সময় নড়ে উঠলেন প্রসূতি

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মৃত্যুর সংবাদ মাইকিং করে প্রচার করাসহ কবর খোঁড়াও শেষ। জানাজার জন্য দলে দলে মানুষ আসছে বাড়িতে।

১৩ দিনের শিশুসন্তানকে রেখে মায়ের এমন করুণ মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ পরিবারের লোকজন। প্রতিবেশীরা এসেছে সান্ত্বনা জানাতে। এরই মধ্যে গোসল শেষ করে কাফনের কাপড় পরানো হবে, ঠিক সেই মুহূর্তেই নড়ে উঠলেন প্রসূতি জহুরা বেগম (৩৫)।

গত রবিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) নজিরবিহীন এ ঘটনা ঘটেছে ব্রহ্মপুত্র নদসংলগ্ন জনবিচ্ছিন্ন দুর্গম দই খাওয়া চরে প্রসূতির বাবার বাড়িতে। এলাকাটি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার আওতাধীন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জহুরা বেগম বর্তমানে কিছুটা সুস্থ। তাঁকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দই খাওয়া চরের ইউপি সদস্য জুরান আলী জানান, রবিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে প্রসূতি জহুরা বেগম হঠাৎ করেই অচেতন হয়ে পড়েন। দিশাহারা হয়ে স্বজনরা ওই অঞ্চলের পল্লী চিকিৎসক লিয়াকত আলীকে ডেকে আনেন। তিনি রোগীকে দেখে মৃত ঘোষণা করেন। এর পরপরই শুরু হয় জানাজাসহ দাফন কার্যক্রম। ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দাফনের সময় নির্ধারণ করে এলাকায় মাইকিংও করা হয়। কবর খোঁড়াসহ সব কাজ শেষ হয়। মৃতকে গোসল করিয়ে গায়ে কাফনের কাপড় পরানোর সময় ঘটে ওই ঘটনা।

বাবা আমির হোসেন জানান, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ছেলে সন্তানের জন্ম দেন জহুরা বেগম। জন্মের পরপরই শিশুটি সুস্থ থাকলেও মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। ১৩ দিন ধরে তিনি এক প্রকার অচেতন অবস্থায়ই ছিলেন। চরের পল্লী চিকিৎসক ও একাধিক কবিরাজকে দেখানো হয়েছে। কিন্তু সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় তাঁকে চিকিৎসার জন্য কোনো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

স্বামী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের মৃত্যুর সংবাদ দেওয়া হয়। এ সংবাদ পেয়ে আমি ভেঙে পড়ি। তা ছাড়া মরা মানুষকে যেভাবে ফেলে রাখে সে অবস্থায় রাখার কারণে তার দিকে কারো নজর ছিল না। পরের ঘটনা তো আপনারা শুনলেনই। ’

এ বিষয়ে পল্লী চিকিৎসক লিয়াকত আলী বলেন, ‘বাড়ির সবাই কয় যে মারা গেছে। বাড়ির চারদিকে মরা মানুষের মতো কান্নাকাটি। এ অবস্থায় রোগীর অবস্থা এত দুর্বল ছিল যে মরছে না বেঁচে আছে তা তাত্ক্ষণিকভাবে বুঝতে পারিনি। ’


মন্তব্য