kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

মেয়েটি কার?

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মেয়েটি কার?

মেয়েটি এখন হয়তো এসএসসি পরীক্ষা দিত। রাত জেগে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিত।

পরীক্ষা হলের সামনে তার প্রতীক্ষায় বসে থাকতেন মা। অথচ আজ তার কাছে কেউই নেই। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের বারান্দায় শুয়ে ব্যথায় কাতরাচ্ছে মেয়েটি। আর কিছুক্ষণ পরপরই শুধু মা, মা বলে চিত্কার করে কেঁদে উঠছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ১৬ জানুয়ারি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন ভবনের দ্বিতীয় তলায় তাকে পাওয়া যায়। প্রায় অজ্ঞান অবস্থায় মেঝেতে পড়েছিল মেয়েটি। তার ডান পায়ের ঊরুতে ছিল পচা ঘা। ঘা থেকে খুব গন্ধ বের হচ্ছিল। পরনে কোনো পোশাক ছিল না। এ অবস্থায় তাকে সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়। ঊরুর ওই অংশ পচে যাওয়ায় তার অপারেশনও করা হয়। কিছুটা সুস্থ হলে তাকে অন্য ইউনিটে সরিয়ে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানান, ‘মেয়েটির বয়স আনুমানিক ১৬ থেকে ১৭ বছর হবে। সে মানসিক রোগ ক্রনিক সাইকোসিসে ভুগছে। পাশাপাশি ঊরুতেও সেলুলাইটিস রোগ রয়েছে। মেয়েটি নিজের নাম বা এলাকার নাম সঠিকভাবে বলতে পারে না। ’ মেয়েটির ঊরুতে আগে কোনো অপারেশন হয়েছিল। এখানে বড় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ছাড়া মেয়েটিকে ধর্ষণসহ শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অনুমান করছেন চিকিৎসকরা। তাঁরা জানান, ‘হাসপাতালের সমাজসেবা বিভাগ থেকে মেয়েটির যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিনা মূল্যে করা হচ্ছে। কয়েকজন চিকিৎসক ব্যক্তিগত টাকা দিয়ে মেয়েটির ওষুধসহ অন্যান্য প্রয়োজন মেটাচ্ছেন। হাসপাতালের রোগীদের পরিচর্যাকারী তাসলীর মাধ্যমে মেয়েটির সেবা-যত্নও করা হচ্ছে। ’

মেয়েটিকে সম্পূর্ণ সুস্থ করার জন্য পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি জরুরি হয়ে পড়েছে বলে জানান আসাদ নামের একজন চিকিৎসক। তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে মেয়েটির জন্য পরিবারের সদস্যদের সহানুভূতি খুব জরুরি, যার মাধ্যমে সে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারবে। ’


মন্তব্য