চলেই গেলেন সেই অগ্নিদগ্ধ তহমিনা-330672 | খবর | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


চলেই গেলেন সেই অগ্নিদগ্ধ তহমিনা

রংপুর অফিস   

১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



স্বামীর বাড়িতে দেওয়া আগুনে দগ্ধ তহমিনা শেষ পর্যন্ত মারা গেছেন। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর যখন উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল তখনই তিনি হেরে যান মৃত্যুর কাছে।

গতকাল সোমবার ভোরে রংপুরের মিঠাপুকুর এলাকায় অ্যাম্বুল্যান্সেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তহমিনা। পরে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে না ফেরার দেশে চলে যান এই গৃহবধূ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মারুফুল ইসলাম। ময়নাতদন্ত শেষে তহমিনার লাশ পীরগাছা উপজেলার পূর্ব চণ্ডীপুর গ্রামে বাবার বাড়িতে নেওয়া হয়। তাঁর লাশ পৌঁছলে সেখানে এক হূদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।

গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের দাদন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ ওই গৃহবধূর স্বামী আবদুল মান্নানকে রংপুর শহর থেকে গ্রেপ্তার করেছে।

গতকাল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, তহমিনার স্বজনদের ভিড়। তহমিনার এমন অকাল মৃত্যুতে সেখানে হূদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। এ সময় আশপাশের মানুষও অভিযুক্ত স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানায়।  

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, পীরগাছার পূর্ব চণ্ডীপুরের হতদরিদ্র তফিল উদ্দিনের মেয়ে তহমিনার সঙ্গে পাশের কান্দি ইউনিয়নের দাদন গ্রামের মনতে আলীর ছেলে আবদুল মান্নানের প্রায় ১২ বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মেয়ের সুখের জন্য তফিল উদ্দিন সাধ্যমতো যৌতুকও দেন। কিন্তু পরে আরো যৌতুকের জন্য তহমিনাকে নানাভাবে চাপ দিতে থাকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। বিয়ের পর থেকে স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও শারীরিক নির্যাতন করতেন।

এলাকাবাসী জানায়, ঘটনার দিন গত বৃহস্পতিবার রাতে তহমিনার সঙ্গে শাশুড়ি আলেমার কথাকাটাকাটি হয়। এর জের ধরে তহমিনার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন আলেমা বেগম। এতে তাঁর শরীরের প্রায় অর্ধেক অংশ পুড়ে যায়। তহমিনার চিত্কার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে ওই রাতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে প্রথমে পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার সকালে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভোগে ভর্তি করা হয় তহমিনাকে। কিন্তু সেখানেও অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। গতকাল ভোরে তহমিনাকে একটি অ্যাম্বুল্যান্সে করে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু পথেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

মৃত্যুর আগে গত রবিবার হাসপাতালে অনেক কষ্টে কালের কণ্ঠকে তহমিনা বেগম বলেছিলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে অমানসিক নির্যাতন সহ্য করেছি। দুই মেয়ে মুন্নী (১০) ও মুক্তার (৮) ভবিষ্যতের কথা ভেবে মুখ বুজে সেখানেই ছিলাম। শেষ পর্যন্ত ওরা আমার গায়ে (শরীরে) কেরোসিন তেল ঢেলে কুপির আগুন ধরিয়ে দিল।’

মন্তব্য