খালাস পেয়েও এক যুগ কারাবন্দি জাবেদ-330663 | খবর | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৫ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৭ জিলহজ ১৪৩৭


খালাস পেয়েও এক যুগ কারাবন্দি জাবেদ আলী!

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মেয়ে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলেও পরে হাইকোর্ট থেকে খালাস পেয়েছেন সাতক্ষীরার জবেদ আলী। কিন্তু কারামুক্তি ঘটেনি এক যুগ পরও। অবশেষে আইনজীবীরা সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নজরে এনেছেন বিষয়টি। গত রবিবার আদালত আবেদন শুনানি শেষে তথ্য যাচাইপূর্বক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কয়লা গ্রামের আমজেল আলী বিশ্বাসের ছেলে জবেদ আলী বিশ্বাস। মেয়ে লিলি (৮) ও রেক্সোনাকে (৫) রেখে মারা যান তাঁর স্ত্রী। এ অবস্থায় শিশুরা মামার বাড়ি তালা উপজেলার মানিকহার গ্রামে অবস্থান করছিল। ১৯৯৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর মেয়ে লিলিকে মামার বাড়ি থেকে নিয়ে আসেন জবেদ আলী। পরদিন লিলির মৃত্যু ঘটে বিষক্রিয়ায়। লিলির মামা আবুল কাশেম সরদার এ বিষয়ে তালা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। বিস্কুটের সঙ্গে বিষ খাইয়ে লিলিকে হত্যার অভিযোগ আনা হয় বাবা জবেদ আলীর বিরুদ্ধে। পুলিশ তাঁকে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করে। তালা থানার উপপরিদর্শক লিয়াকত আলী মামলার তদন্ত শেষে ১৯৯৬ সালের ৯ জুন চার্জশিট দাখিল করেন। বিচারে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালত ২০০১ সালের ১ মার্চ জবেদ আলীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। এ পর্যায়ে আসামি জবেদ আলী বিশ্বাস এ রায়ের বিরুদ্ধে জেলখানার মাধ্যমে হাইকোর্টে আপিল করেন। হাইকোর্ট ২০০৩ সালের ১৯ মার্চ তাঁকে নির্দোষ ঘোষণা করে খালাস দেন। এরপর হাইকোর্ট আদেশ অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিলেও কারামুক্তি ঘটেনি জবেদ আলীর।

আইনজীবীরা জানান, হাইকোর্টের আদেশ সংশ্লিষ্ট আমলি আদালতে পৌঁছার পর তার সত্যতা যাচাই করে আসামির মুক্তির ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। আসামির বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকলে তাঁকে জেলখানা থেকে মুক্তি দিতে আপত্তি নেই মর্মে জেল সুপারকে নির্দেশ দেওয়ার কথা ছিল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তা ঘটেনি রহস্যজনক কারণে। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেছে কি না, সে বিষয়টিও এত দিনে যাচাই করা হয়নি।

কারাবন্দি জবেদ আলীর বিষয়টি জানতে পেরে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান ও অ্যাডভোকেট ফাহিমুল হক কিসলু গত বুধবার সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারকের কাছে আবেদন করেন। রবিবার আবেদন শুনানি শেষে বিচারক আশরাফুল ইসলাম জানান, রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছিল কি না তা যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য