kalerkantho


বিদেশে কর্মী পাঠানোর হার বেড়েছে ৩০%

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ ডিসেম্বর, ২০১৫ ০০:০০



গত বছরের তুলনায় এ বছর বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কর্মী যাওয়া বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। চলতি বছরের ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ লাখের বেশি কর্মী চাকরি নিয়ে বিদেশে গেছেন। আগের বছর এ সংখ্যা ছিল চার লাখ ২৫ হাজার ৬৮৪। এদিকে গত বছরের তুলনায় এ বছর রেমিট্যান্স প্রবাহ ১.৮ শতাংশ বেড়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) চেয়ারম্যান ড. তাসনিম সিদ্দিকী গতকাল রবিবার ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘আন্তর্জাতিক শ্রম অভিবাসনের গতি-প্রকৃতি ২০১৫ : সাফল্য ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ কথা জানান। বেসরকারি সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় রামরু এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে রামরুর সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. সি আর আবরার, গবেষক আনসারউদ্দিন আনাস, আবুল বাসার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রামরুর গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩ সালের তুলনায় এ বছর বিদেশে কর্মী যাওয়ার হার ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। বিগত বছরগুলোতে অভিবাসন তেমন না বাড়ার কারণ হিসেবে বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন নীতি ও কর্মপরিকল্পনার সীমাবদ্ধতাকে চিহ্নিত করেছে রামরু।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এ বছর নারী কর্মীদের অভিবাসন আগের বছরের চেয়ে ১৯ শতাংশ বেড়েছে। তবে বিদেশে নারী অভিবাসনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাঁদের সুরক্ষায় প্রতিশ্রুত ব্যবস্থাগুলো যেমন—আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ এখনো নেওয়া হয়নি। তাঁদের ওপর নির্যাতনের বিষয়েও সরকারকে মনোযোগী হতে হবে। পাশাপাশি সাগরপথে মানবপাচারসহ অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ঘাটতি আছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালে একটি চক্র বাংলাদেশের লোকজনের জন্য একটি নতুন অনিয়মিত রুট চালু করেছে। সিরিয়ার শরণার্থীদের পাশাপাশি বাংলাদেশের লোকজনকেও অবৈধ পথে ইউরোপ পাঠানো হচ্ছে। এ ছাড়া সুদানের পর্যটন ভিসার সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশের লোকজনকে সুদান থেকে লিবিয়ায় পাঠানো হচ্ছে। অবিলম্বে এটি বন্ধ করতে হবে।

সাগরপথে মানবপাচারের সঙ্গে কারা জড়িত এবং তাদের কেন বিচার করা যাচ্ছে না জানতে চাইলে রামরু চেয়ারম্যান বলেন, বিভিন্ন অভিবাসন দপ্তরের তালিকা এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের উদ্ধৃত করে গণমাধ্যমে এরই মধ্যে সেখানকার জনপ্রতিনিধি ও তাঁর পরিবারের ২৬ জন সদস্যের নাম এসেছে। ইতিমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। অথচ ২০১৩ সালের অভিবাসী আইন ও মানবপাচার আইনের পরিবর্তে তাদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

রামরু জানায়, এ বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ১৪ দশমিক শূন্য বিলিয়ন (এক হাজার ৪০৪ কোটি) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বাংলাদেশে এসেছে। ডিসেম্বরেও এ ধারা অব্যাহত থাকলে রেমিট্যান্স গত বছরের তুলনায় প্রায় ১.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে, যা ১৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি। তবে এ বছর শ্রমিকদের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের হারে বাংলাদেশি টাকার দরপতনের কারণে রেমিট্যান্সের পরিমাণ যেমন কমেছে, অন্যদিকে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোকে নিরুৎসাহিত করেছে।

রামরুর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের মতো এবারও সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ (২১.৪৯ শতাংশ) রেমিট্যান্স এলেও তা বছর বছর কমে আসছে। বিগত বছরগুলোতে মোট রেমিট্যান্সের ৫০ শতাংশ সৌদি আরব থেকে এলেও এখন তা ২১ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। তবে মালয়েশিয়া থেকে আসা রেমিট্যান্স গত বছরের তুলনায় এ বছর বেড়েছে। মালয়েশিয়ার সঙ্গে সরকার ‘জিটুজি’ (দুই দেশের সরকারি উদ্যোগে) পদ্ধতি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে উল্লেখ করে রামরু জানায়, এ বছরের ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত মালয়েশিয়া গেছেন ২৮ হাজার ৬২৬ জন কর্মী, গত সাত বছরের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত পুরুষ বাংলাদেশি কর্মীর ওপর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখায় এ বছর দেশটিতে গেছেন মাত্র ২৪ হাজার ৮৯৮ জন নারী কর্মী।



মন্তব্য