kalerkantho


আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসবে আসছেন ১৪ দেশের অতিথি

নওশাদ জামিল   

১৬ নভেম্বর, ২০১৫ ০০:০০



আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসবে আসছেন ১৪ দেশের অতিথি

শীত জেঁকে বসতে না বসতেই রাজধানীতে হয়ে গেল কয়েকটি উৎসব-পার্বণ। প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো জ্যাজ অ্যান্ড ব্লুজ এবং আন্তর্জাতিক লোকসংগীত উৎসব। দুটি আয়োজনই ছিল উৎসবপ্রিয় বাঙালির জন্য নতুন সংযোজন। এ মাসের শেষ দিকে বসছে পাঁচ দিনের শাস্ত্রীয় সংগীতের আসর। এর আগেই হবে আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসব। এতে অংশ নিতে ঢাকায় আসছেন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নরওয়ে, সুইডেন, ভারত, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, কেনিয়াসহ বিশ্বের ১৪টি দেশের অতিথিরা। সেসব দেশের কবি, সাহিত্যিক, লেখক, বিজ্ঞানী, সাংবাদিক, সাহিত্য সমালোচক, সম্পাদক, মানবাধিকারকর্মীসহ শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের প্রায় ২৫০ জন অতিথি আসছেন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে এবং অন্যান্য দেশের কবি-সাহিত্যিকদের মধ্যে যোগসূত্র গড়ার তাগিদে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এ উৎসব। জাতির মননের প্রতীক বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের পোশাকি নাম 'ঢাকা লিট ফেস্ট'।

জানা যায়, এর আগে এ উৎসবের নাম ছিল 'হে ফেস্টিভ্যাল'। গত বছর তাতে যোগ দিতে এসেছিলেন উইলিয়াম ডালরিম্পল, লুসি হকিং, জয় গোস্বামীর মতো সাহিত্যের বড় তারকারা। দেশের সাহিত্যিকরা তো ছিলেনই। তখন বেশ কিছু ইস্যুতে 'হে উৎসব'-এর সমালোচনা করেছিলেন দেশের অনেক নামি লেখক। পরে নাম বদল করা হয় উৎসবের। এবার থেকে উৎসবটি হবে 'ঢাকা লিটারেরি ফেস্টিভ্যাল' নামে। সংক্ষেপে তা হচ্ছে-'ঢাকা লিট ফেস্ট'।

আগামী ১৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে এ জমকালো আয়োজন। আসছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী আমেরিকান বিজ্ঞানী ও লেখক হ্যারল্ড ভারমাস, ভারতের স্বনামধন্য কথাসাহিত্যিক নয়নতারা সহগাল, নারীবাদী লেখক শোভা দে, ব্রিটিশ সাংবাদিক ও লেখক জন স্নো, কিউবান শীর্ষ বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর লেখক হোসে ফার্নান্দেজ ইয়োস, কেনিয়ার শিশু সাহিত্যিক ও বক্তা মুথোনি গারল্যান্ড, পাকিস্তানের মানবাধিকারকর্মী আসমা জাহাঙ্গীর, ফিলিস্তিনি কবি ঘাসান জাকতান, ঔপন্যাসিক অমিত চৌধুরী, কবি অরবিন্দ কৃষ্ণ মেহরোত্রাসহ শিল্প-সাহিত্য অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা। এর পাশাপাশি থাকছেন বাংলাদেশের খ্যাতিমান সাহিত্যিকরাও।

দেশের সাহিত্যকে বিশ্ব দরবারের সুপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়েই শুরু হচ্ছে এ উৎসব। তাই এর প্রতিপাদ্য হচ্ছে 'সারা বিশ্ব বাংলাদেশকে সাহিত্য সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে চিনুক'।

আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উৎসবে শিল্প-সাহিত্য, অনুবাদসহ নানা বিষয়ে থাকছে বিভিন্ন অধিবেশন। এ ছাড়া বাংলার আদি সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে মঞ্চস্থ হবে মনসামঙ্গলের বিশেষ অংশ 'বেহুলার লাচারি'। এই অংশটি মঞ্চায়নের জন্য টাঙ্গাইল থেকে আসছে যাত্রাদল। প্রকাশিত হবে কায়জার হকের ইংরেজি ভাষায় অনূদিত 'মনসামঙ্গল'। উৎসব উপলক্ষে প্রথমবারের মতো খ্যাতনামা ব্রিটিশ জার্নাল 'ওয়াসিফিরি' বাংলাদেশের সাহিত্য নিয়ে প্রকাশ করছে বিশেষ সংখ্যা। উৎসবে সেটির প্রকাশনা হবে। বেঙ্গল লাইটসের জার্নাল, সিক্স সিজন রিভিউসহ বেশ কয়েকটি জার্নাল আসছে এ আয়োজনে। ভারতীয় অনুবাদক অরুণাভ সিনহার তত্ত্বাবধানে 'লাইব্রেরি অব বাংলাদেশ'-এর উদ্বোধন হবে উৎসবে। লাইব্রেরি অব বাংলাদেশ শিরোনামে এবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে সৈয়দ শামসুল হক, হাসান আজিজুল হক ও সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের অনূদিত বই।

আয়োজকরা জানান, ভারতীয় কবি সুদীপ সেনের সম্পাদনায় বাংলাদেশিসহ বেশ কয়েকজন বিদেশি কবির একটি বইয়ের প্রকাশনা উৎসব হবে এ আয়োজনে। আন্তর্জাতিক সাহিত্য অঙ্গনে সাড়া জাগানো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত গালিব হাসানের বই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আসবে। ফিলিস্তিনি কবি ঘাসান জাকতান শোনাবেন ১৩ বছর বয়সে তাঁর গৃহহীন হয়ে যাওয়ার গল্প। উৎসব চত্বরে পাওয়া যাবে পাকিস্তানের ক্রিকেটের ইতিহাস নিয়ে একটি বই। এতে থাকবে কিভাবে বাংলাদেশিরা বঞ্চিত হয়েছে পাকিস্তান আমলে সে কাহিনী।

গতকাল রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয় উৎসবের নানা দিক। বাংলা একাডেমির সভাকক্ষে এসব তথ্য জানান ঢাকা লিট ফেস্টের পরিচালক সাদাফ সায্ সিদ্দিকী। উৎসবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য দেন সংস্কৃতিসচিব বেগম আকতারী মমতাজ, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, উৎসবের অন্য দুই পরিচালক ও লেখক কাজী আনিস আহমেদ ও আহসান আকবর এবং উৎসবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক সিটি ব্যাংকের সিইও সোহেল আর কে হুসেইন।

আগামী বৃহস্পতি থেকে শনিবার পর্যন্ত তিন দিন দর্শনার্থী ও সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উৎসব প্রাঙ্গণে থাকছে নানা আয়োজন। এই উৎসব উপভোগ করতে হলে আগে থেকে নাম নিবন্ধন করতে হবে। এ জন্য উৎসবের বাইরে আটটি বুথ স্থাপন করা হবে। সেখানেই তাৎক্ষণিকভাবে বিনা মূল্যে নাম নিবন্ধন করে প্রবেশ পাস সংগ্রহ করতে হবে।

 


মন্তব্য