kalerkantho


২৬ পৌরসভার নির্বাচনে সংকট কাটেনি এক যুগেও

হোসেইন জামাল   

২২ আগস্ট, ২০১৫ ০০:০০



উচ্চ আদালতে রিট, সীমানা জটিলতা, মামলার খৰসহ সাতটি কারণে দেশের ২৬টি পৌরসভায় এক যুগের বেশি সময় ধরে নির্বাচন বন্ধ রয়েছে। পৌরসভার আয়তন বৃদ্ধি ও হ্রাসসংক্রান্ত জটিলতা, পৌরসভা গঠনের বিরুদ্ধে আদালতের স্থগিতাদেশ এবং ওয়ার্ড বিভাজনও নির্বাচন বন্ধে ভূমিকা রেখেছে। ইসির এক অনুসন্ধানে এ বিষয়গুলো উঠে এসেছে। দ্রুত সংকট কাটিয়ে এসব পৌরসভার নির্বাচন নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।

ইসির পর্যালোচনায় দেখা গেছে, যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভায় দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে মেয়র রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল। ১৯৯২ সালের ১০ এপ্রিল এ পৌরসভার যাত্রা শুরু হয়। ২০০০ সালের ৩ এপ্রিল প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পৌরসভার সীমানা নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। এ নিয়ে ২০০৫ সালে আদালতে মামলা হয়, যা আজও শেষ হয়নি। এ রকম আরো ২৫টি পৌরসভায় এক যুগের বেশি সময় ধরে নির্বাচনের আয়োজন করা যায়নি। প্রভাবশালীরা বিভিন্ন অজুহাত সৃষ্টি করে নির্বাচন আটকে রেখেছেন। ফলে ব্যাহত হচ্ছে উন্নয়ন কার্যক্রম, বাড়ছে হতাশা ও ক্ষোভ।

পঞ্চগড় জেলার বোদা পৌরসভা ও বগুড়ার সোনাতলা পৌরসভায় নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২০০১ সালে। ওই বছরে এ দুটি পৌরসভা গঠন হয়। তবে নতুন পৌরসভা গঠন এবং এলাকা বৃদ্ধির কারণে ১৪ বছর ধরে নির্বাচন বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট হওয়ার কারণে নির্বাচন করতে পারেনি কমিশন। এ সংকট নিরসনে বিগত কোনো কমিশন উদ্যোগও নেয়নি। নরসিংদীর শিবপুর পৌরসভা নির্বাচনের উপযোগী হয় ৯ বছর আগে। কিন্তু মামলার ফাঁদে পড়ে নির্বাচন বন্ধ রয়েছে। সীমানা ও ওয়ার্ড বিভক্তকরণ জটিলতায় দীর্ঘ ১১ বছর ধরে কুষ্টিয়া পৌরসভার নির্বাচন হচ্ছে না। ২০০৪ সালে সর্বশেষ এখানে নির্বাচন হয়েছিল। ইতিমধ্যে নির্বাচনের দুটি মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও আগের মেয়র ও কাউন্সিলররাই বহাল আছেন। উচ্চ আদালতে মামলা নিষ্পত্তি হলেও পৌরসভার সম্প্রসারিত এলাকার সীমানা নির্ধারণ ও ওয়ার্ড বিভক্তকরণ জটিলতায় নির্বাচন বন্ধ আছে। এ পৌরসভায় নতুন দুটি এলাকা যুক্ত করাতে মামলা হওয়ায় নির্বাচন করতে পারেনি ইসি। সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়াদ প্রায় দুই বছর আগে শেষ হলেও নির্বাচন হয়নি। ফলে মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলু তাঁর দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখেছেন। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান মেয়র স্থানীয় সরকার বিভাগের যোগসাজশে নির্বাচন বিলম্বিত করছেন। এ পৌরসভায় সীমানাসহ অন্য কোনো অভিযোগ নেই। ঢাকার দোহার পৌরসভার নির্বাচন হয় ২০০০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর। মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০০৫ সালের ৯ ডিসেম্বর। এ পৌরসভার নির্বাচনের পথেও বাধা মামলা। প্রতিষ্ঠার ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও নির্বাচন হয়নি কুমিল্লার দেবীদ্বার পৌরসভায়। আদালতে দুটি মামলা থাকায় এ পৌরসভার বাসিন্দারা এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলর পায়নি। ২০০২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার দেবীদ্বারকে পৌরসভা ঘোষণা করা হয়। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর পৌরসভা এক নির্বাচনে পার করেছে ১৫ বছর। ২০০০ সালের ২৮ অক্টোবর পৌরসভা নির্বাচনের পর সীমানা নির্ধারণ করা নিয়ে দেখা দেয় জটিলতা। বিএনপির দুই নেতার দায়ের করা মামলায় ১১ বছর ধরে ঝুলে আছে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন। সীমানা নির্ধারণ নিয়ে পৃথক দুটি মামলায় এ নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। ২০০৪ সালের ২১ জানুয়ারি আজমিরীগঞ্জ উপজেলা সদরকে পৌরসভা ঘোষণা করা হয়। এভাবে সীমানা নির্ধারণসহ নানা জটিলতার বেড়াজালে দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে রাজশাহী জেলার বাঘা, নওহাটা ও পুঠিয়া পৌরসভার নির্বাচন। নানা জটিলতায় মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও নির্বাচন না হওয়া অন্য পৌরসভাগুলোর মধ্যে রয়েছে নাটোরের বাগাতিপাড়া, নওগাঁর ধামইরহাট, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া, শরীয়তপুরের সদর ও গোসাইরহাট, গাজীপুরের শ্রীপুর, চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও সীতাকুণ্ড, রংপুরের পীরগঞ্জ ও বিরল, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার চুয়াডাঙ্গা, সিলেটের বিয়ানীবাজার। আইন অনুযায়ী, পাঁচ বছর পর পর পুনর্গঠন হয় ইসি। কিন্তু নির্বাচন না হওয়া পৌরসভাগুলোয় সংকট কাটিয়ে নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়নি কোনো কমিশন। মামলা জটিলতার কারণে কোনো কমিশন এসব নির্বাচনের বিষয়ে আগ্রহ দেখায়নি।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক বলেন, কিছু পৌরসভায় দীর্ঘদিন ধরে নানা ইস্যুতে নির্বাচন হয়নি। বন্ধ থাকা পৌরসভাগুলোর একটি তালিকা করা হচ্ছে। তালিকা পাওয়া পর আইনের দিকগুলো খতিয়ে দেখা হবে। এরপর শিগগিরই সংকটের সমাধান করে মেয়াদোত্তীর্ণ পৌরসভায় নির্বাচনের আয়োজন করা হবে।



মন্তব্য