kalerkantho


ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন

ভূমি ব্যবস্থাপনায় ২৫ সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩০ জুলাই, ২০১৫ ০০:০০



কৃষিজমি বন্দোবস্ত দেওয়ার পরবর্তী কোনো সময়ে গ্রহীতা বন্দোবস্তের কোনো শর্ত লঙ্ঘন করলে ওই বন্দোবস্ত কেস বাতিল করা হয়। কিন্তু সম্পাদিত দলিল বাতিল হয় না।

ফলে নতুন করে বন্দোবস্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হয়। এ জন্য বন্দোবস্ত দলিল বাতিল বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে। জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন গতকাল বুধবার ঢাকা ও ঝালকাঠির জেলা প্রশাসকরা এসব কথা বলেন।

জবাবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সফিউল আলম বলেন, কৃষি খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়ার শর্তগুলো রাখা হবে কি না সে বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।

সম্মেলনে ডিসিরা ভূমি ব্যবস্থাপনা যুগোপযোগী, সহজতর ও ডিজিটালাইজেশন করার জন্য ২৫টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেন। গতকাল সম্মেলনে ভূমি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের যৌথ সেশনে ডিসিরা মন্ত্রণালয়ের কাছে এসব প্রস্তাব করেন। জবাবে ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ও সচিব মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

সম্মেলনে ডিসিরা বলেন, জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রাক্কলন তৈরির পর ক্ষতিপূরণের অর্থ জমা দেওয়ার সময়সীমা রয়েছে মাত্র দুই মাস। কিন্তু কোনো কোনো সময় সরকারি প্রকল্পের জন্য পর্যাপ্ত অর্থের বরাদ্দ না থাকায় এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ক্ষতিপূরণের অর্থ জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় অধিগ্রহণ মামলা বাতিল হয়ে যায়।

এ জন্য ডিসিরা অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের অর্থ জমা দেওয়ার সময়সীমা কমপক্ষে ছয় মাস করার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে মন্ত্রণালয় এ সময়সীমা ৬০ দিনের পরিবর্তে ১২০ দিন করার পক্ষে মত দিয়েছে। ডিসিরা বলেন, জলমহাল লিজের বিষয়ে উচ্চ আদালতে দায়ের করা মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণে কোনো কোনো জলমহাল ইজারা দেওয়া যাচ্ছে না। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ জন্য উচ্চ আদালতের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। জবাবে ভূমিসচিব সফিউল আলম ডিসিদের বলেন, এ বিষয়ে আদালতে একটি পৃথক বেঞ্চ করার প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন।

সম্মেলনে ডিসিরা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী ও উপসহকারী কর্মকর্তা পদে জনবল নিয়োগ ও পদোন্নতির সুপারিশ করলে ভূমি মন্ত্রণালয় সচিব এ ক্ষেত্রে হাইকোর্টে একটি রিট মামলা রয়েছে বলে জানান। দেওয়ানি মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে জেলা প্রশাসক বা কালেক্টরেটকে কোর্ট ফি ও কার্টিজ পেপার সরবরাহ করতে হয়। অনেক সময় অর্থের অভাবে তা করা যায় না। ফলে রাষ্ট্রপক্ষ মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারি সম্পদ বেহাত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এ জন্য ডিসিরা এ খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোর সুৃপারিশ করেন। জবাবে ভূমিসচিব দেরি না করে এ বিষয়ে যথা সময়ে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে চিঠি লেখার নির্দেশনা দেন।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সফিউল আলম বলেন, উপজেলা পর্যায়ে ভূমি-সংক্রান্ত দলিলপত্র ও যাবতীয় তথ্য সংরক্ষণের জন্য উপজেলা ভূমি অফিস ও উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোকে একই সার্ভারে আনার লক্ষ্যে ডিজিটাল কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় শুরু হয়েছে। দেশের ১৩৯টি উপজেলায় ভূমি অফিস এবং ৫০০টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে আগামী অর্থবছরে একটি কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

জনগণকে ভূমি আইন ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতন করে তোলার লক্ষ্যে বছরে একটি নির্দিষ্ট সপ্তাহকে ভূমি সপ্তাহ হিসেবে পালন করা যেতে পারে-ডিসিদের প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এসি ল্যান্ড পদের কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ির প্রাধিকার সৃজন করারও দাবি জানান ডিসিরা। জবাবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, এমন প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন রয়েছে।

গতকাল সকালে প্রথম অধিবেশন শেষে ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ জানান, বালুমহল ও জলমহাল ব্যবস্থাপনা, নাম খারিজ, নামজারিসহ ভূমি অফিসে মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ডিসিদের তাগিদ দিয়েছেন।

অধিবেশন শেষে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, ডিসিরা পরিবেশ আদালত ও এর পরিধি বাড়ানোর ও চিনিকলের বর্জ্য নিষ্কাশনে যে পরিবেশদূষণ হয় তা রোধে ইটিপি বসানোর কথা বলেছেন ডিসিরা। এছাড়া কোনো প্রস্তাব ছিল না।


মন্তব্য