kalerkantho


তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর প্রবাহ রক্ষার তাগাদা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ জুন, ২০১৫ ০০:০০



তিস্তাসহ আন্তর্জাতিক নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় এবং অভ্যন্তরীণ নদী ও জলাধারের দখল-দূষণ রোধে সরকারকে আরো তৎপর হতে হবে। দেশের ভেতরে এবং বাইরের জলক্ষেত্রগুলোর পানিপ্রবাহ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে সবাইকে। কারণ এ নদ-নদীগুলো জীবন ও জীবিকার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সেমিনারে আলোচকরা এ অভিমত দেন।
অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) গতকাল ‘তিস্তাসহ আন্তর্জাতিক নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় এবং অভ্যন্তরীণ নদী-জলাশয়-জলাধার দখল-দূষণ রোধে করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করেছিল। সেমিনারে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন এএলআরডির চেয়ারপারসন এবং নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির। আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক স্বপন আদনান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, বেলার নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বেলার সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আবদুল মতিন এবং এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা প্রমুখ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক প্রকৌশলী ইনামুল হক।
সেমিনারে আলোচকরা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের ৫৪টি অভিন্ন নদ-নদীর মধ্যে তিস্তা অন্যতম তালিকাভুক্ত আন্তর্জাতিক নদী। ভূগর্ভস্থ ও ভূপরিস্থ জলপ্রবাহ নিয়ে তিস্তা অববাহিকার পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার কিলোমিটার। যার মধ্যে ভারতে ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার ও বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ৫৭টি অভিন্ন নদী আছে, যাদের উৎস ভারত, নেপাল, ভুটান, চীন ও মিয়ানমার। তারা ড্যাম ও ব্যারাজ নির্মাণ করে পানিপ্রবাহ আটকে দিচ্ছে। ফলে ভাটিতে বাংলাদেশের জনগণের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। আর দেশে বর্তমানে দখল, ভরাট ও দূষণের ফলে নদ-নদীগুলো মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে পরিবেশ বিপর্যয়। তাই দেশের ভেতরে এবং বাইরের জলক্ষেত্রগুলোর পানিপ্রবাহ রক্ষা করার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসা উচিত।

মন্তব্য