kalerkantho


ঢাবিতে তিন দিনের প্রদর্শনী 'না' উদ্বোধন

ছবিতেই অন্যায়ের প্রতিবাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৩ নভেম্বর, ২০১৪ ০০:০০



ছবিতেই অন্যায়ের প্রতিবাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে গতকাল থেকে কাকলী প্রধানের 'না' শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

রোজী নামের মেয়েটির চেহারায় হতাশার ছাপ। ফ্যালফ্যাল দৃষ্টিতে সে একদিকেই তাকিয়ে আছে।

তার বাবার সম্পত্তি দখল করতে উঠেপড়ে লেগেছে প্রভাবশালী চক্র। এর অংশ হিসেবে তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিয়েছে ওই চক্রটি। কিন্তু আসল উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে সে বলে, 'কোনো দিন বিয়ে করব না, কিন্তু...। '

একটি ছবিতে দুটি শিশুর ছবি। দুজনেরই কানে হলুদ রঙের ফুল দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুজনই গা ঘেঁষে বসে আছে। চেহারা হাস্যোজ্জ্বল কিন্তু ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, 'বলতে পারেন, আমি হিন্দু না মুসলমান?'

আরেকটি ছবিতে একজন বৃদ্ধা মহিলা আঙুল দিয়ে নিজ ভিটামাটিকে নির্দেশ করছেন। তাঁর চেহারায় আতঙ্কের ছাপ। একসময় এই জমি ও বাড়িটি তাঁর ছিল কিন্তু প্রভাবশালী মহলের থাবায় এখন তা হাতছাড়া।

কিন্তু তিনি এই অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে পারছেন না। পারিবারিক আইন ও সামাজিক বিধানের চরম বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হয় নারী। নগর কিংবা গ্রামে সর্বত্রই এমন দৃশ্য। ভূমি অধিকারবঞ্চিত নারী ও অধিকার রক্ষায় প্রতিবাদী নারীদের প্রতিচ্ছবি ক্যামেরায় ধারণ করেছেন কালের কণ্ঠের সংবাদকর্মী কাকলী প্রধান। এসব ছবি নিয়ে গতকাল বুধবার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে তিন দিনব্যাপী 'না' শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। সবার জন্য উন্মুক্ত এই প্রদর্শনীতে ৪৫টি ছবি স্থান পেয়েছে। যৌথভাবে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যা-রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতাবিষয়ক পত্রিকা মাধ্যম। অপরাজেয় বাংলা ছাড়াও মধুর ক্যান্টিন, ডাকসু ভবন ও রাজু ভাস্কর্যে এই প্রদর্শনী চলবে।

গতকাল তিন দিনের 'না' প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন এএলআরডির চেয়ারপারসন খুশী কবির, ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী, বিশিষ্ট সাংবাদিক দিল মনোয়ার মনু, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আখতারুজ্জামান প্রমুখ।

আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, 'জমি দখলের অন্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে এ ধরনের প্রদর্শনী।

কাকলী প্রধান বলেন, "৮-৯ বছর ধরে নারীদের নিয়ে কাজ করছি। একজন নারী হিসেবে এই বিষয়ে ডুবে গিয়েছি। একজন নারীর জন্মগ্রহণের পর থেকে 'না' শব্দের সঙ্গে পরিচিত হতে হয়। খাবারদাবার, চলাফেরা, পোশাক-পরিচ্ছদ সব কিছুতেই 'না' জড়িয়ে আছে। প্রতিটি নারীর কপালে 'না' শব্দটির সিল বসানো হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় প্রদর্শনীতে 'না' শব্দটি নেওয়া হয়েছে। "

 

 


মন্তব্য