স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। চীন বাংলাদেশের উন্নয়নে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা করে আসছে। ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষি ও শিল্প খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চীন সহযোগিতা করবে। তাই চলতি বছর ঠাকুরগাঁওয়ে বিভিন্ন কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য চীনের প্রতিনিধিদল ঠাকুরগাঁও পরিদর্শনে আসবে।
গতকাল ঠাকুরগাঁও শহরের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী উদ্যোগের আয়োজনে স্কুলব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার ছিলেন বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রীও শিশুদের নিয়ে কাজ করতে চান। শিশুদের ভালোভাবে লেখাপড়া করাতে চান, তাদের উন্নত করতে চান। এ জন্য তিনি কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। শিক্ষার্থীদের পোশাকসহ শিক্ষাসামগ্রী, কিড ফ্রিতে বিতরণ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। সেই সঙ্গে শিশুরা যাতে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে পারে সেই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের শিক্ষার উন্নয়নে সহায়তা করতে পেরে চীন সরকার আনন্দিত। শিক্ষা উপকরণ বিতরণের এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরো উৎসাহ জোগাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ইয়াও ওয়েন বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষি, শিল্প ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা যাচাই করতে চলতি বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে চীন থেকে একটি প্রতিনিধিদল সফরে আসবে। তারা এলাকাটি পরিদর্শন করে সম্ভাব্য বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলো মূল্যায়ন করবে। চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, আগামী বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ঠাকুরগাঁওসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীদের চীন সফরের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সংস্কৃতি ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের শিশু-কিশোরদের সঠিক শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এ বিষয়ে আরো সচেতন হতে হবে।

