kalerkantho


এবার পুলিশে যোগ হচ্ছে ডগ স্কোয়াড

সরোয়ার আলম   

১৫ মে, ২০১৪ ০০:০০



র‌্যাবের পর এবার পুলিশে যোগ হচ্ছে ডগ স্কোয়াড। প্রথমে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে ডগ স্কোয়াড যোগ দেবে। এরপর পর্যায়ক্রমে সব কয়টি মেট্রোপলিটন এলাকাসহ সারা দেশের থানাগুলো এ স্কোয়াড ব্যবহারের সুযোগ পাবে। ডগ স্কোয়াড গঠনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স। জার্মানি ও ইংল্যান্ডের পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের হাউন্ডজাতীয় কুকুর দিয়ে পুলিশের ডগ স্কোয়াডের যাত্রা শুরু হওয়ার কথা। ইতিমধ্যে হাউন্ড কুকুরগুলো দেখে এসেছে পুলিশের একটি দল। এর আগে হাউন্ড কুকুর দিয়ে র‌্যাব কাজ করে একাধিক সাফল্য পেয়েছে। পুলিশ সূত্র জানায়, মাদক বা অস্ত্র উদ্ধারের মতো ঘটনায় তারা মান্ধাতা পদ্ধতিতেই অভিযান চালায়। তারা বলছে, ডগ স্কোয়াড থাকলে খুব সহজে নিখুঁতভাবে অনেক অপারেশন চালানো যায়। এতে সাফল্যও মেলে ভালো।

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল কালের কণ্ঠকে বলেন, র‌্যাবের পাশাপাশি পুলিশকেও অত্যাধুনিক করা হবে। পুলিশের লজিস্টিক সাপোর্ট সরকার সার্বক্ষণিক দিয়ে আসছে। পুলিশের জন্য ডগ স্কোয়াড গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। আশা করি অল্প সময়ের মধ্যে পুলিশ প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে অপারেশন চালাতে পারবে। তিনি বলেন, পুলিশের জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রও দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে কিছু অস্ত্র বিদেশ থেকে আনা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোথাও কোনো বড় ধরনের নাশকতার আগে বা পরে ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশিতে ব্যাপক সুফল মেলে। যে বাহিনীতে এ স্কোয়াড আছে, তাদের সাফল্যও ভালো। র‌্যাবের সহযোগিতায় পুলিশ মাঝেমধ্যে অভিযানের সময় কুকুর ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছে। এর পাশাপাশি ভিভিআইপিদের নিরাপত্তার স্থানে তল্লাশি চালাতে হচ্ছে র‌্যাবের ডগ স্কোয়াড দিয়ে। কিন্তু নিজেদের স্কোয়াড না থাকলে খুব ভালো সুফল পাওয়া যাবে না। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আজ পর্যন্ত পুলিশের জন্য কোনো কুকুর আনা হয়নি। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার পুলিশের আরো উন্নতির জন্য কিছু পদক্ষেপ নেয়। এর মধ্যে ডগ স্কোয়াড গঠনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। কয়েক মাস আগে ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠকে পুলিশের জন্য ডগ স্কোয়াড গঠনের প্রস্তাব করেন। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাঁর প্রস্তাব সমর্থন করে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সকে পদক্ষেপ নিতে বলে। কিছুদিন আগে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠায়। প্রস্তাবে বলা হয়, জার্মানি ও ইংল্যান্ড থেকে কুকুর আনা যেতে পারে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের হাউন্ড জাতের কুকুরও বিবেচনায় আছে, যেগুলো উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়ে ব্যবহার করা যাবে। ইতিমধ্যে র‌্যাব হাউন্ড কুকুর দিয়ে অপরাশেন চালাচ্ছে। ডগ স্কোয়াড গঠন করার পর প্রথম পর্যায়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এটি ব্যবহার করার সুযোগ পাবে। পর্যায়ক্রমে সব মেট্রোপলিটন এলাকাসহ দেশের সব কয়টি থানার পুলিশ প্রয়োজনে এটি ব্যবহার করতে পারবে।

সূত্র জানায়, ২০০৪ সালের ১৯ আগস্ট ৪০টি বিদেশি কুকুর নিয়ে র‌্যাব ডগ স্কোয়াডের যাত্রা শুরু হয়। ভিভিআইপি নিরাপত্তা, ইংরেজি নববর্ষ, বিশ্বকাপ ক্রিকেট, ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের নিরাপত্তা, ঈদ-পূজাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা এবং মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে ডগ স্কোয়াড মাঠে নামানো হয়। বড় ধরনের অপারেশনে যাওয়ার আগে ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এক কর্মকর্তা বলেন, ছয় মাসের মধ্যে পুলিশ ডগ স্কোয়াড পাবে বলে আশা করছি। মেট্রোপলিটন এলাকায় অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার ও জেলা পর্যায়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের স্কোয়াডের দায়িত্ব পালন করার কথা রয়েছে।

 

 



মন্তব্য