kalerkantho

বাঘাইছড়ির ঘটনা এবং নির্বাচন কমিশনের ক্ষীণ দৃষ্টি

ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

২১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



বাঘাইছড়ির ঘটনা এবং নির্বাচন কমিশনের ক্ষীণ দৃষ্টি

রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে উপজেলা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলায় নির্বাচন কর্মকর্তাসহ সাতজন নিহত হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। উপজেলা নির্বাচন কেন্দ্রীয় রাজনীতির বিষয় নয়, বরং এটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং স্থানীয় রাজনীতির বিষয়। তবে এ নির্বাচনে মূল পদের জন্য প্রার্থিতা এখন রাজনৈতিক অনুমোদনের বিষয়। ইদানীং রাজনৈতিক পরিচয় ও রাজনৈতিক মনোনয়ন নিয়েই উপজেলা পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পরিষদের নির্বাচন হচ্ছে। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া যায় না। বাঘাইছড়িতে সহিংসতার যে ঘটনা ঘটেছে তা দেশের সার্বিক রাজনীতি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক রাজনীতির জন্য অশনিসংকেত। এ কথা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই।

রাজনীতি এবং রাজনীতির বিষয়ে আলোচনা আমার প্রধান বিষয় নয়। আমি রাজনীতির ভাষ্যকারও নই। আমার আগ্রহের প্রধান বিষয় সমাজতত্ত্ব, নৃতত্ত্ব যার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক ও সমাজতাত্ত্বিক প্রসঙ্গ আমার আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে। এসব বিষয়ের নিরিখেই আমি পার্বত্য চট্টগ্রামের ঘটনাবলিকে দেখে থাকি। এসব বিষয়ের আলোচনায় রাজনীতির প্রসঙ্গ স্বাভাবিকভাবেই যতটুকু আসে ততটুকুতেই দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখি। ফলে উপজেলা নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার যে ঘটনা ঘটেছে, তাকে শুধুই রাজনৈতিক দিক থেকে দেখা আমার জন্য কঠিন। আমি নৃতাত্ত্বিক ও সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিতে পার্বত্য চট্টগ্রামকে দেখেছি, সেখানে প্রচুর গবেষণার কাজ করেছি। এসব করতে গিয়ে সেখানকার বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর লোকদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কথা বলেছি, আলোচনা করেছি। সেই অভিজ্ঞতার নিরিখেই ঘটনাটিকে দেখতে চাই।

বাঘাইছড়ির দুঃখজনক ঘটনার ব্যাপারে সরলীকৃত মন্তব্য করা উচিত হবে না। এ ঘটনার ফলে পার্বত্য এলাকার রাজনীতি ও সামাজিক পরিস্থিতি যে কঠিন হয়ে উঠতে পারে সে আশঙ্কা বেশ প্রবল। সাম্প্রতিক সময়ে অনেক রক্তপাতের ঘটনা ঘটেছে। বেশির ভাগ ঘটনাই ঘটেছে খাগড়াছড়িতে এবং রাঙামাটির উত্তর ভাগে (ওই অঞ্চলের দক্ষিণের অংশ তথা বান্দরবান জেলার শঙ্কার খুব বড় কারণ নেই, তবে তা প্রভাবমুক্ত এলাকাও নয়)। এসব ঘটনার জেরে অশান্ত হয়ে উঠছে পার্বত্য এলাকা। শান্তিচুক্তি সম্পাদনের আগে-পরে তিন জেলার বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি। এখনো কাজের প্রয়োজনে যাতায়াত হয়।

শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে ১৯৯৭ সালে, আজ থেকে ২২ বছর আগে। চুক্তির ফলে এই ২২ বছরে সব সমস্যার সমাধান যে হয়ে গেছে তা নয়, তবে সার্বিকভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতির লক্ষণীয় উন্নতি হয়েছে—এ কথা নির্দ্বিধায় বলতে চাই। আরো উন্নতি অবশ্যই হওয়া দরকার, তার জন্য তৎপরতা বাড়ানো দরকার। পরিস্থিতির উন্নতির মাত্রা আরো বেশি গতিতে হওয়া দরকার। কী কী প্রতিবন্ধকতার কারণে তা হচ্ছে না খুঁজে বের করা দরকার এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। চুক্তির পর সহিংসতা বন্ধ হওয়ার কথা ছিল। চুক্তি-পরবর্তী কয়েক বছর বন্ধ হবে বলে মনেও হয়েছিল; সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় রাজনীতিতে বিরোধ এবং অভিবাসী তথা বাঙালি জনগোষ্ঠীর আপত্তির বিষয়গুলো স্পষ্ট হতে থাকলে আবার সহিংসতার বাতাবরণ সৃষ্টি হয়। নিজস্ব অধিকারের জন্য যে সংগঠনটি—পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) সোচ্চার ছিল এবং লড়াই করেছে, একসময় সেটিতেই বিরোধ প্রকট আকার ধারণ করে। তুলনামূলকভাবে কট্টর অংশটি ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) নামে আলাদা হয়ে যায়। তারা অধিকার আদায়ের প্রশ্নে সশস্ত্র তৎপরতা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। আর জনসংহতি সমিতি চুক্তির শর্তপূরণে চাপ প্রয়োগের নীতি অবলম্বন করলেও সশস্ত্র তৎপরতা পরিত্যাগ করে। পরে দুটি সংগঠনেই ভাঙন দেখা দেয়। তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এই পরিপ্রেক্ষিতে পাহাড়ে আবার অশান্তি শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

দুটি সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষের অনেক ঘটনাই ঘটেছে গত ২২ বছরে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিরোধের, সংঘর্ষের অনেক ঘটনা ঘটেছে। মধ্যবর্তী একসময়ে সরকারের পক্ষ থেকে সেটলারদের (বাঙালি জনগোষ্ঠী) কাজে লাগিয়ে সংঘাত বাধানোর এবং শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টাও করা হয়েছে। তদুপরি বলা চলে শান্তিচুক্তি বেশ পরিবর্তন এনেছে পার্বত্য চট্টগ্রামে। চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হবে। এতে সন্দেহ করা চলে না।

দুঃখজনক বিষয় হলো, ক্ষমতার রাজনীতিপ্রসূত বিরোধ থামছে না। পাহাড়িদের ভেতরে যেমন দ্বন্দ্ব-সংঘাত রয়েছে, পাহাড়ি-বাঙালি দ্বন্দ্ব-সংঘাতও রয়েছে। কখনো পাহাড়িদের এক অংশের ওপর আরেক অংশের হামলা হচ্ছে, কখনো বাঙালিদের নামে পাহাড়িদের ওপর হামলা হচ্ছে; আবার কখনো পাহাড়িরা হামলা করছে বলে বাঙালিরা দাবি করছে। এসব ঘটনায় বিভিন্ন পক্ষ জড়িত; কখনো বিদেশি কোনো পক্ষ ইন্ধনদাতা হিসেবে সংশ্লিষ্ট থাকছে। কিন্তু কোনো ঘটনার তদন্তই সন্তোষজনক মাত্রায় হচ্ছে না এবং দায়ী ব্যক্তিরা যথাযথভাবে চিহ্নিত হচ্ছে না বলে বিচারের সম্মুখীন হচ্ছে না। এসব কারণে পার্বত্য এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে, তারা স্থানীয় নৃগোষ্ঠীর লোকই হোক বা বাঙালি হোক—ভয় কাজ করে। আক্রান্ত মানুষগুলো মামলা করতে যেতেও ভয় পায়। এমন একটি পরিস্থিতি বিরাজ করছে সেখানে।

শান্তিচুক্তি হওয়ার পরও সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে নির্ভয় পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারেনি। এসবের জন্য কে দায়ী—পাহাড়িরা, বাঙালিরা, নাকি বহির্দেশীয় কেউ, নাকি সরকারেরই কোনো প্রতিষ্ঠান? অনিরাপত্তার, ভয়ের কারণগুলো স্পষ্ট করতে পারছে না সরকার। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, বিভিন্ন বাম সংগঠন, অধিকারসংক্রান্ত সংস্থা, উন্নয়ন সংস্থা পার্বত্য এলাকায় সহিংসতা বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে, অস্ত্র উদ্ধারের কথা বলে। সরকার মাঝেমধ্যে অভিযান চালায়; কিন্তু অস্ত্র উদ্ধারে সফলতা আমলযোগ্য নয়।

উপজেলা নির্বাচন ঘিরে যে সহিংসতার ঘটনা ঘটল, তার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। হতে পারে, এ ঘটনা পার্বত্য জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্ব ও আধিপত্যজনিত বিরোধের ফল। এ ঘটনার জন্য জনসংহতি সমিতির এক গ্রুপ অন্য গ্রুপের ওপর দায় চাপিয়েছে, অভিযুক্ত গ্রুপ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইউপিডিএফ এ নির্বাচনে অংশ নেয়নি। ফলে তাদের সরাসরি দায়ী করা কল্পনাপ্রসূত বিষয় হবে। কিন্তু অনেকের সন্দেহ, তারা নির্বাচনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির জন্য এটা করেও থাকতে পারে, যেহেতু তাদের প্রতিপক্ষ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। জাতীয় রাজনীতির কেউ কিংবা অপাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কেউ কিংবা স্বার্থান্বেষী কোনো বিদেশি পক্ষও জড়িত থাকতে পারে। পার্বত্য অঞ্চলের বাইরে থেকে এ ব্যাপারে ধারণাই করা যায় শুধু; নিশ্চিত হওয়া চলে না।

বলা যায়, পার্বত্য অঞ্চলের স্থানীয় রাজনীতিতে ভারসাম্যের অভাব রয়েছে। সেখানে ১১টি নৃগোষ্ঠী রয়েছে। ফলে আন্তঃসম্পর্কের বিষয়টি জটিল হওয়ারই কথা। এসব নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলোতে অর্থাৎ জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফে সব গোষ্ঠীর সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নেই। কারণ লোকসংখ্যা, শিক্ষা, আর্থিক অবস্থান, সাংস্কৃতিক অবস্থান—এসবের নিরিখে নৃগোষ্ঠীগুলোর অবস্থান সমানুপাতিক নয়। সেটলারদের বিষয়টি তো রয়েছেই; ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিভিন্ন মাত্রায় অসন্তোষ কাজ করে। নৃগোষ্ঠীগত অসন্তোষ সাংঘর্ষিক মাত্রায় নেই, তবে আছে। থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাদের প্রতিনিধি রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর দ্বন্দ্ব সাংঘর্ষিক।

কারণ যা-ই হোক, এ অবস্থা পার্বত্য এলাকায় বিরাজমান এবং বর্তমান অশান্তির বড় একটি কারণ। শান্তিচুক্তির বিভিন্ন বিষয়ে সেটলারদের আপত্তিও অশান্তির পরিবেশ জিইয়ে রাখছে। উল্লেখযোগ্য কিছু শর্ত, যেমন—ভূমি কমিশন গঠন—পূরণ করার প্রক্রিয়ায় তারা বড় প্রতিবন্ধক। এ ক্ষেত্রে তিনটি জেলা প্রশাসনের ঢিলেমি ও অপরিপক্বতার বিষয় রয়েছে; সরকারের এজেন্সিগুলোর আপত্তি-অনাগ্রহের বিষয় রয়েছে; বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আপত্তির বিষয় রয়েছে; বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রকল্প-স্বার্থ রয়েছে; বিনিয়োগকারী বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রয়েছে; সর্বোপরি সরকারের বোঝাপড়ার ঘাটতি রয়েছে। অথচ ভূমি কমিশন গঠনের কাজটি যদি সম্পন্ন করে ফেলা যেত, তাহলে বিরোধের অনেক বিষয়ের অবসান ঘটানো যেত।

পার্বত্য নৃগোষ্ঠীগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলোর বিরোধের কারণে সংঘাতের নানা শর্ত তৈরি হচ্ছে। বিরোধের সে পালে হাওয়া দেওয়ার লোকের অভাব নেই। প্রধান প্রধান কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব যেহেতু বাঙালি, ফলে তারাও প্রায়ই ওই সব সংগঠনকে শুধু নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধি ভেবে থাকে, আপন করে নিতে পারে না। তারা কখনো নীরবতা অবলম্বন করে বা বিরোধ নিরসনের জন্য তৎপর হয় না। কোনো কোনো সংগঠন বরং বিরোধকে উসকে দেয়। সামরিক শাসনামলে বিষয়টি খুব স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। এমনকি তারা রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে, প্রশাসনকে বিরোধ সৃষ্টির কাজে ব্যবহার করেছে। শান্তিচুক্তি সম্পাদনের পর এ প্রবণতায় ভাটা পড়েছে বটে, তবে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলা চলে না। চাষপদ্ধতির পরিবর্তনের চেষ্টা, উপকরণ ও জাত পরিবর্তনের চেষ্টা, অস্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে জমি তথা পাহাড় লিজ দেওয়া—এসবও পাহাড়ে অসন্তোষের কারণ। ভিন্ন ভিন্ন কারণপ্রসূত অসন্তোষের যৌগিক ক্রিয়ার বহিঃপ্রকাশ প্রায়ই ঘটে—রাজনীতির বা সংগঠনের আবরণে অথবা নির্বাচনজাতীয় উপলক্ষের আবরণে। সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনাটিকে এই সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে দেখলেই ভালো। বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক বা দলীয় বিষয় হিসেবে দেখলে সাময়িক সমাধান মিলবে হয়ত; কিন্তু স্থায়ী সমাধান মিলবে না।

উপজেলা নির্বাচনকে স্থানীয় সরকারের বিষয় হিসেবেই দেখতে হবে। এর সঙ্গে জাতীয় রাজনীতির সরাসরি সংযোগ নেই। আবার তা জাতীয় রাজনীতির প্রভাবমুক্তও নয়। বাঘাইছড়ির ঘটনাটি জাতীয় রাজনৈতিক বিষয় নয়; কিন্তু একে এড়িয়ে গেলে বা গুরুত্ব না দিলে মারাত্মক ভুল হবে। কারণ পার্বত্য পরিপ্রেক্ষিতে-প্রতিবেশে যেকোনো সংঘাতের ঘটনা বিশেষ গুরুত্ববহ। জাতীয় পরিসরকে তা আলোড়িত করে, এমনকি আন্তর্জাতিক মহলকেও উদ্বিগ্ন করে। জাতীয় ও বহির্দেশীয় বিভিন্ন পক্ষ এতে সংশ্লিষ্ট হয়ে পড়ে নিজ নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য। নির্বাচন কমিশন এই সামগ্রিক দৃষ্টিতে বিষয়টিকে দেখতে পেরেছে বলে মনে হয়নি। বিশেষ এলাকায় নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় তাদের ভিন্ন ধরনের আয়োজন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকা উচিত। আগামী দিনে তাদের সে বিবেচনাতেই পদক্ষেপ নিতে হবে। নির্বাচনী এলাকার বিশেষ মাত্রিকতার বিষয়টি তাদের ধারণায় নেই। এ ব্যাপারে তাদের দৃষ্টি ক্ষীণ।

আর সরকারকে মনে রাখতে হবে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলেও বিশেষ এলাকায় তাকে বিশেষ নজর দিতে হবে এবং বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে নির্বাচন কমিশনকে সার্বিক সহযোগিতা দিতে হবে। কোনো উপলক্ষে পার্বত্য এলাকায় অশান্তি ঘটলে তা গোটা দেশের জন্যই শঙ্কার বিষয়—এ বিবেচনায় তাদের পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ঘটনার যথাযথ তদন্ত দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে এবং জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। না হলে সহিংসতার আবহ আরো ব্যাপ্ত হবে—এটি কারো কাম্য হতে পারে না।

লেখক : ডিন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্য