kalerkantho

জেলখানায় বালিশ এবং বাস্তবতা

মো. নূরুল আনোয়ার

২০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



জেলখানায় বালিশ এবং বাস্তবতা

আমাদের এই উপমহাদেশে কয়েদখানা সৃষ্টির সঠিক দিনক্ষণ জানা নেই। তবে অনুমান করা যায়, সভ্যতার পূর্ব থেকেই এটা চালু ছিল। তবে তা ভিন্ন ধরনের ও অন্য কারণে করা হতো। সরল কথায়, মূলত আহারের জন্য বন্য পশু ধৃত করে জমা রাখা হতো, পরে ভক্ষণের জন্য বা এদের গৃহপালিত করার জন্য। সেটাকে বলা হতো খোঁয়াড়, যা এখনো চালু আছে। এখন অবশ্য ফসল খেলে গৃহপালিত পশু খোঁয়াড়ে আটকে রাখা হয়। অন্যদিকে বলশালী বৃহৎ মানবগোষ্ঠী দুর্বল জনগোষ্ঠীর নর-নারীদের কয়েদ করত বশ্যতা স্বীকার করানো, দাস-দাসি বা যৌনতা নিবৃত্তির জন্য। এটা করা হতো গুহা-ভূগর্ভস্থ কুঠরিতে। সেই আটকের নিয়ম-বিধি ছিল না। গোত্রপ্রধানের সিদ্ধান্তই ছিল সব কিছু। সময়ের বিবর্তনে রাজা, মহারাজা, সম্রাটরা রাজ্য শাসনের প্রয়োজনে বিদ্রোহীগোষ্ঠী, প্রতিপক্ষ, এমনকি নিজ বংশের প্রতিদ্বন্দ্বী উত্তরাধিকারীদেরও কয়েদ করত। সেই কয়েদের মেয়াদকাল দীর্ঘায়িত হতো না। বেশির ভাগেরই ভাগ্যে ঘটত নিষ্ঠুর মৃত্যু, হাতির পৃষ্টে, নাঙ্গা তরবারির আঘাতে, বাঘের মুখে বা শূলে চড়ে। কারো মৃত্যু ঘটত গভীর মৃত্যুকূপে। এদের কথা লেখাজোখা থাকত না। প্রাচীন দুর্গগুলোতেও থাকত এই কয়েদখানা। আমাদের এই বাংলার কোনো কোনো মহাপ্রতাপশালী জমিদাররাও কয়েদখানা রাখত বিদ্রোহী প্রজাদের আটকের জন্য। হেরেমখানা ও মহলগুলোও ছিল প্রকারান্তরে নারী বন্দিশালা।

নবাবি আমল পর্যন্ত এ দেশে বিধি-বিধানসহ কোনো কয়েদখানা বা বন্দিশালা ছিল না। ১৭৫৭ সালে বাংলার নবাবের পরাজয়ের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি প্রকারান্তরে বাংলা, বিহার, ওড়িশার শাসনভার গ্রহণ করে। সেই সময়ের বিদ্রোহী, দেশীয় সিপাহি, রাজা, শেঠ এবং কিছুসংখ্যক বড় তস্করকে আটক রাখা নিয়ে বড় রকমের সমস্যা দেখা দেয়। ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গে কিছুসংখ্যককে আটক রাখা হতো। সেই ধারাবাহিকতায় ঢাকায় নাজিমউদ্দিন রোডে প্রথম কারাগার স্থাপিত হয় ১৭৮৮ সালে। এটাকে তখন বলা হতো ক্রিমিনাল ওয়ার্ড। পরবর্তী সময়ে একই স্থানে ক্রিমিনাল ওয়ার্ডটি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রূপান্তরিত হয়। ক্রিমিনাল ওয়ার্ড স্থাপনের ৭৬ বছর পর মোটামুটি কারাগার ব্যবস্থাপনার একটা বিধান সম্মিলিত কোড তৈরি হয়েছিল। সেটি ছিল ১৮৬৪ সাল। এর আগেও আংশিক কিছু বিধান চালু হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল কারাবন্দিদের কাছ থেকে জরিমানাসংক্রান্ত ১৮৮০ সালের বিধান, যা সংশোধনের প্রক্রিয়া এখন চলমান। জরিমানা আদায়সংক্রান্ত জেল কোডের ৫৩৩ ধারা একটি জটিলতা তৈরি করে রেখেছে। ১৮৬৪ সালে জেল কোড চালুর পর থেকে সাতবার সংশোধন করা হয়েছে। সর্বশেষ ১৯৩৭ সালে। অবশ্য বাংলাদেশ সৃষ্টির পর নির্বাহী আদেশে জেল কোডে কিছু সংশোধন এসেছে।

দেশে এখন কারাগারের সংখ্যা ৬৮টি, কেন্দ্রীয় কারাগারসহ এরই মধ্যে গাজীপুরের কাশিমপুরে একটি বৃহৎ এবং অন্যটি কেরানীগঞ্জের তেঘড়িয়া ইউনিয়নে ১৯৫ একর জমির ওপর সর্বশেষ কারাগার চালু হয়েছে। পরেরটি দেশের সর্ববৃহৎ কারাগার, যার বন্দি ধারণক্ষমতা চার হাজার ৫৯০ জন। ২০১৮ সালের আগস্টের হিসাব মোতাবেক দেশের ৬৮টি জেলখানায় বসবাসকারীর সংখ্যা ছিল ৮৮ হাজার ৪২৪—সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ৩৬ হাজার ৬১৪ জনের বিপরীতে। বর্তমানে দেশের জেলখানাগুলোতে ধারণক্ষমতার চার গুণ অধিবাসী বসবাস করছে।

আমাদের সমাজে মানুষ নানাবিধ কারণে মামলায় জড়ায়। এলাকার বা আঞ্চলিক, সামাজিক, পারিবারিক এবং রাজনৈতিক কারণে অনেক নিরপরাধ ব্যক্তি মামলার আসামি হয়। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষও মামলার শিকার হয়। দুই থেকে সাত বছর, এমনকি ১৫ দিনের শিশুও মামলার আসামি হয়। পারিবারিক আইনে স্বামীর পক্ষের ব্যক্তিরা মামলায় আটক হয়ে হাজতবাস করে। সিলেটে দেখেছি প্রতিদ্বন্দ্বীদের ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করিয়ে তিন দিনের হাজতবাস করানোর জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে। বিচারে নির্দোষ ব্যক্তির সাজা, এমনকি যাবজ্জীবন জেল খাটার উদাহরণও আছে।

উল্লেখ্য, টাঙ্গাইলের জাহলামের তিন বছরের অধিক সময় জেলে আটক থাকার ঘটনা সবার জানা, নারী গৃহকর্মীর কথিত গুম ও খুনের ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীর যাবজ্জীবন সাজা খাটতে জেলে আটক দেখেছি। এ ছাড়া পাঁচ হাজার টাকা ঋণের দায়ে দরিদ্র কৃষকদের হাজতবাসের ঘটনাও কম নয়। আবার রাজনীতির শনির চক্রে বড় বড় রুই-কাতলাকেও জেল বা হাজত খাটতে হয়।

এবার জেলে আটক উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নির্দোষ ব্যক্তির দিন কেমন কাটে, তার খণ্ডিত চিত্র যা প্রকাশ পায়, তা-ই জনগণের পিলে চমকানোর জন্য যথেষ্ট। বিস্তারিত বর্ণনায় না গিয়ে শুধু কয়েকটি বিষয়ে দৃষ্টি দেব। জেলের গেট পার হলেই ‘রাইটার’ নামের জীবরা হাজতি ব্যক্তিকে কিনে ফেলে। বিরাট বড় গণকামরা তার ঠিকানা। সেখানে মোটা শিকের দরজা-জানালা আছে আর সিমেন্টের মেঝে। ইস্যুকৃত তিনটি সোঁদা গন্ধযুক্ত ছারপোকার আবাস এবং চর্মরোগসমৃদ্ধ অতি মলিন কম্বল। একটা মাথার বালিশ। একটা বিছানো, একটা গায়ে দেওয়ার চাদর। সঙ্গে একটা থালা ও মগ। কোনো তক্তপোশ নেই। নেই মশারি। ভাবুন, রাতের বেলা কেমন ঘুম হতে পারে। ঘুমাবে কোথায়? একজনের স্থানে চারজন। এরপর আছে গোদের ওপর সেই বিষফোঁড়া। ভয়ংকর অপরাধীরা রাতে নবাগতদের গা-হাত টেপা, শির মালিশ এবং বাতাস করতে লাগিয়ে দেয়, না হয় ঠায় বসে বা দাঁড়িয়ে রাতযাপন। পাদুকার কোনো আয়োজন নেই। শীত, বৃষ্টি এবং শৌচাগারে নগ্ন চরণে বিচরণ। এরপর খাদ্য যা দেওয়া হয়, তা গলাধঃকরণ করা খুবই কষ্টের। এরপর পানীয় জল। এখন সাধারণ মানুষও ফোটানো এবং ফিল্টারের পানি খায়। এত বিপুলসংখ্যক বন্দির জন্য কী ধরনের পানি সরবরাহ করা হয়, তা সহজেই অনুমেয়। গরমে ফ্যান ছাড়া মানুষ বাঁচে কিভাবে আজকাল? প্রতিটি মানুষেরই রোগবালাই থাকে। কারো কারো নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়। কারো চেকআপ করতে হয়। জেলে অবশ্য হাসপাতাল ও ডাক্তার আছে। সেটা বিত্তবান ও প্রভাবশালীদের বিশ্রামস্থল। সাধারণের জন্য নয়।

জেলের জীবন কিছু সহনীয় করতে হলে নিয়মিত কড়ি ঢালতে হয়। আদালতের জামিনের আদেশ পৌঁছার পর যথাসময়ে মুক্তি পেতেও খরচ করতে হয়। ২০১৮ সালের শেষের দিকে চট্টগ্রাম জেলের এক কর্মকর্তাকে নগদ ৫০ লক্ষাধিক টাকাসহ ভৈরব রেল থানার পুলিশ ট্রেন থেকে আটক করে। এই টাকার একটা অংশ তাঁর কোনো এক ঊর্ধ্বতন কর্তাকে দেওয়ার জন্য বহন করছিলেন তিনি। ভাবুন, জেলখানা চলছে কিভাবে। মন্দ লোকেরা বলে, এই পাপের টাকার ভাগ নিচ থেকে ওপরের দিকে বিচরণ করে।

গত ডিসেম্বরে জেল কর্তৃপক্ষ উচ্ছ্বসিত হয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করে, যা সবার দৃষ্টি কাড়ে। জেলব্যবস্থা চালুর ২৩০ বছর পর তারা বন্দিদের জন্য কম্বলের বদলে বালিশের ব্যবস্থা করেছে। এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার বালিশ ক্রয় ও সরবরাহ করা হয়েছে। ধীরে ধীরে সব জেলে সবার জন্য বালিশ সরবরাহ করা হবে। কথাটি পুরোপুরি অসত্য। কারণ সরকার অনুমোদিত বন্দিসংখ্যা ৩৬ হাজার ৬১৪ জন। হয়তো ক্রমান্বয়ে সরবরাহ করা হবে; কিন্তু বাড়তি তিন গুণ মানুষের জন্য কে সরবরাহ করবে? ফলে এক বালিশ চারজনকে ব্যবহার করতে হবে, তা কিভাবে সম্ভব? মানুষের ঘাম আর লালায় এগুলো কত দিন ব্যবহারযোগ্য থাকবে? উল্লেখ্য, ক্লাস পাওয়া বন্দি আলাদা কক্ষে বালিশ, চৌকি, টেবিল-চেয়ার, একজন উমেদার এবং আলাদা খাদ্য পেতেন।

কেরানীগঞ্জে নতুন জেলখানা চালুকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কিছু অর্থবহ কথা বলেন, যেমন : (১) জেলখানাকে সংশোধনাগারে পরিণত করতে হবে, যাতে বন্দিরা মুক্তির পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে। (২) আইন প্রয়োগকারীরা অপরাধীদের আটকের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধ থেকে দূরে থাকতে উৎসাহিত করবেন। (৩) অপরাধীকে শাস্তি দেওয়াতেই সব শেষ হয় না, কারণ সিঁধেল চোর জেলে থেকে যাতে বড় অপরাধীতে পরিণত না হয়, তা-ও দেখতে হবে। (৪) জেলে অর্জিত আয়ের একটা অংশ তার পরিবার যাতে পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ তার কর্মের জন্য তার পরিবার কষ্ট পায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক ভাবনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জেল কর্তৃপক্ষকে এখন থেকেই কাজ শুরু করতে হবে। ১৯৯৯-২০০০ সালে জাতিসংঘ মিশনে বসনিয়ায় থাকাকালে Human Rights Investigator-এর দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলাম। সারায়েভো বিমানবন্দরের পাশে সার্ব এলাকায় কুলা IPTF Station ছিল কর্মস্থল। কুলায় ৫০০ বন্দি ধারণক্ষমতার একটি বড় জেলখানা আছে, যা মার্শাল টিটোর সময় তৈরি। সপ্তাহে দুই দিন ওই জেলখানা পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দিতে হতো। আন্তগোষ্ঠীগত, পূর্ব ইউরোপীয় আটক নারী যৌনকর্মী, যুদ্ধকালীন বন্দি, হত্যাসহ বড় অপরাধে অপরাধী, ধর্মীয় জাতিগত কারণে আটকদের সঙ্গে বৈষম্য করা হচ্ছে কি না বা মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে কি না, বন্দিদের কাছ থেকে একান্তে শুনে সুপারিশসহ প্রতিবেদন পেশ করতে হতো। প্রথম পরিদর্শনে দোভাষী তাতিয়ানসহ গিয়ে ভিরমি খাওয়ার অবস্থা। ১৫০ একর জায়গার ওপর অবস্থিত জেলটির তিন ফুট উচ্চতার সীমানাপ্রাচীর। কোনো ফটক নেই। তিনটি বৃহৎ দোতলা ভবন। অফিস কক্ষেও কোনো ফটক নেই, শুধু দরজা। সেই অফিস কক্ষে বসেন জেলার এবং সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা। পাশের কক্ষে সহকারী জেল সুপার, একজন ডাক্তার, পশু ডাক্তার, একজন হিসাবরক্ষক এবং জেল সহকারী। পুরো জেলখানার মেঝে মার্বেল পাথরে মোড়ানো। বন্দিদের আবাসন কক্ষগুলোর ছাদ ১৫ ফুট উঁচু, প্রতি কক্ষে ৪০ জন বন্দির থাকার ব্যবস্থা, শোয়ার জন্য তিন থাকের স্টিলের খাট, হাসপাতালের বেডের মতো সাদা ধবধবে বালিশ ও বিছানার চাদর, যা দৈনিক পাল্টানো হয়। প্রতি কক্ষে বন্দিদের বড় লকার, রুমের মাঝখানে পড়ালেখার জন্য বড় টেবিল ও চেয়ার। টিভি, পত্রিকা, পানির ফিল্টার এবং পিটিটি ফোন সংযুক্ত আছে টয়লেট কক্ষের ভেতর। এ ছাড়া আছে প্রতি ফ্লোরে টেবিল টেনিস, দাবা ও ইনডোর গেমসের ব্যবস্থা। আছে বিশাল ডাইনিং টেবিল, জিম। কেন্দ্রীয়ভাবে আছে আধুনিক হাসপাতাল। দর্শনার্থীদের সঙ্গে দৈনিক এক ঘণ্টা কথা বলার জন্য সাক্ষাৎকক্ষ। আউটডোর খেলা, বিশেষ করে ফুটবল ও বাস্কেটবলও আছে। খাবার সবজি ও মাংসের জন্য ভেড়া, শূকর ও গরু পশু ডাক্তারের উপস্থিতিতে কাটা হয়। বন্দিদের কাপড় ও বিছানার কাপড় ধোলাইয়ের জন্য ওয়াশিং প্লান্ট আছে। বিদেশি বন্দি বাদে বসনিয়ান বন্দিরা সবাই সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কাজে জেলের বাইরে যায়। দৈনিক উপার্জনের ৭০ শতাংশ নিজ হিসাবে জমা থাকে এবং ৩০ শতাংশ জেলের হিসাবে জমা হয়। যা থেকে তাদের খাবার ও অন্যান্য ব্যয় বহন করা হয়। সন্ধ্যা ৬টায় বন্দিরা জেলে প্রবেশ করে এবং সকাল ৭টায় বের হয়। ওখানে সর্বোচ্চ সাজা ১৪ বছরের, আবার ভালো আচরণকারীর জন্য ১১ মাস পর এক মাসের হোম লিভ। শুধু আগমন ও প্রস্থান স্থানীয় পুলিশকে জানাতে হয়। জেল পলায়নের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে নেই। জেলখানায় ঘুষ পদ্ধতি এরা বোঝেই না। বিদেশি বন্দিদের অভিযোগ ছিল, তাদের নিয়মিত আদালতে পাঠানো হয় না, ফলে মুক্তি বিলম্বিত হয়। স্থানীয় বন্দিদের অভিযোগ, জেলে তাদের মদ ও স্ত্রী বা বান্ধবী সঙ্গে পায় না। এখনো এটাকে আমি জেলখানা বলে ভাবতে পারি না। আমাদের জেলের কর্তারা ২৩০ বছর পর জেলের প্রকৃত অধিবাসীদের বালিশ সরবরাহ করতে পেরে খুশিতে দোতরা বাজাচ্ছেন। তাঁরা একবার ভাবুন, ২০০০ সালে কুলার জেলখানার অবস্থা। যেখানে ৫০০ জনের ধারণক্ষমতার বিপরীতে কখনো ৮০ জনের অধিক বন্দি থাকেনি।

জেল ‘পশু খোঁয়াড়’ নয়। আটককৃতদের এক-চতুর্থাংশ নিরপরাধ সাধারণ মানুষ। মন্দ কপাল, তাই তারা বন্দি। তাই কি আমরা (১) বিশেষ সময়ে বিশেষ কারণে রুজুকৃত মামলায় গ্রেপ্তারকৃতদের দ্রুত জামিন দিয়ে এই শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার উন্নতি করতে পারি না? (২) বন্দিদের জন্য গণমশারি এবং তক্তপোশের ব্যবস্থা করতে পারি না? (৩) সাধারণ ওয়ার্ডগুলোতে সিলিং ফ্যানের ব্যবস্থা করতে পারি না? (৪) বিছানায় বিছানোর জন্য চাদর দিতে পারি না? (৫) জুতা-স্যান্ডেল পরার অনুমতি দিতে পারি না? (৬) চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ও উন্নত ব্যবস্থা করতে পারি না? (৭) স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সহজ ও ফিমুক্ত ব্যবস্থা করতে পারি না? (৮) উন্নতমানের পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য সরবরাহ করতে পারি না? (৯) পায়খানা ও গোসলের সুবিধা চার গুণ বাড়াতে পারি না? (১০) রাতের বেলায় ওয়ার্ডের ভেতর সংযুক্ত টয়লেটের ব্যবস্থা কি করা যায় না? (১১) পত্রিকা, টিভি, ইনডোর গেম এবং স্বজনদের সঙ্গে সপ্তাহে অন্তত দুবার যোগাযোগের জন্য মোবাইল ফোন দেওয়া যায় না? (১২) মাদক, ভয়ংকর আসামিদের এবং জেল ওয়ার্ডানদের অত্যাচার কি বন্ধ করা অসম্ভব? নীতিনির্ধারকদের বিষয়টি জরুরিভাবে বিবেচনা করতে হবে।

লেখক : সাবেক আইজিপি

মন্তব্য