kalerkantho

পবিত্র কোরআনের আলো ধা রা বা হি ক

দ্বিন ও ঈমান রক্ষায় ইবরাহিম (আ.)-এর ত্যাগ

১৮ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দ্বিন ও ঈমান রক্ষায় ইবরাহিম (আ.)-এর ত্যাগ

৪৮. [ইবরাহিম (আ.) তাঁর পিতাকে বলেন] আমি আপনাদের ত্যাগ করছি এবং আপনারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদের ডাকেন, তাদেরও। আমি তো আমার রবকেই ডাকব। আমার রবকে ডেকে আমি ব্যর্থ হব না। (সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ৪৮)

তাফসির : মূর্তিপূজার বিরুদ্ধে কথা বলায় ইবরাহিম (আ.)-এর পিতা তাঁকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন এবং চিরদিনের জন্য চলে যেতে বলেছেন। এ বিষয়ে আগের আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছিল। আলোচ্য আয়াতে ইবরাহিম (আ.)-এর প্রত্যুত্তর উল্লেখ করা হয়েছে। ইবরাহিম (আ.) বলেছেন, হে পিতা, যেহেতু আপনি চাচ্ছেন যে আমি আপনাদের কাছ থেকে দূরে চলে যাই, তাহলে আমি অবশ্যই দূরে চলে যাব। এতে আমার কোনো ক্ষতি হবে না। আমি অন্যত্র গিয়ে আমার রবকে ডাকব। তাঁর ওপর আমার আস্থা আছে যে তিনি আমাকে তাঁর দয়া ও অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত করবেন না।

আলোচ্য আয়াতে ওই সব তরুণের জন্য শিক্ষণীয় বার্তা রয়েছে, যারা বিভ্রান্ত ও ধর্মহীন পরিবারে জীবন যাপন করছে, আর পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশিত পথে চলতে পারছে না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে তরুণদের উচিত হলো ইবরাহিম (আ.)-এর পথ অনুসরণ করা। প্রয়োজনে ওই পরিবেশ থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া। এ ধরনের নির্দেশ বর্ণিত হয়েছে অন্য আয়াতে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন তুমি দেখো, তারা আমার আয়াতগুলো নিয়ে উপহাস করছে তখন তুমি তাদের কাছ থেকে সরে যাও, যে পর্যন্ত না তারা অন্য প্রসঙ্গে প্রবৃত্ত হয়। শয়তান যদি তোমাকে ভুলিয়ে দেয়, তাহলে স্মরণ হওয়ার পর জালিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে বসবে না।’ (সুরা আনআম, আয়াত : ৬৮)।

‘সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ’—এ নীতিবাক্যটি সর্বজনবিদিত। পবিত্র কোরআনে বহু স্থানে সৎকর্মপরায়ণশীলদের সঙ্গে চলাফেরা ও বন্ধুত্ব স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সঙ্গে থাকো।’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ১১৯)। একইভাবে অসৎ সঙ্গ ত্যাগের প্রতিও বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ইমাম আবু বকর জাসসাস (রহ.) বলেন, ‘যে মজলিসে ইসলামী শরিয়তবিরোধী কথাবার্তা ও কাজকর্ম হয়, সামর্থ্য থাকলে তা প্রতিহত করবে, অন্যথায় সে মজলিস ত্যাগ করবে।’ (আহকামুল কোরআন)

উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রা.) একবার মদ্যপায়ী কয়েকজনের সঙ্গে অমদ্যপায়ী এক ব্যক্তিকে দেখতে পান। তাদের সংস্রবে থাকার অপরাধে ওই ব্যক্তিকেও তিনি শাস্তি দিয়েছেন।

এ আলোচনা থেকে জানা যায় যে বাতিলপন্থী, মিথ্যাবাদী, ধর্মদ্রোহী, ধর্মবিদ্বেষী ও ধর্ম নিয়ে উপহাসকারীদের সঙ্গ, সংস্পর্শ ও সাহচর্য ত্যাগ করতে হবে।

এখানে উল্লেখ্য যে অশ্লীলতা, ধর্মীয় বিদ্বেষ, ধর্ম অবমাননা, মিথ্যা, কুরুচিপূর্ণ ও বাতিলপন্থী বইপুস্তক ও লেখা পাঠের বিষয়েও একই বিধান। অর্থাৎ এসব বইপুস্তক পড়া থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকবে। তবে অন্যকে সংশোধনের জন্য ধর্মীয় বিষয়ে বিজ্ঞ ও পরিপক্ব জ্ঞানের অধিকারী ব্যক্তিরা তা পাঠ করতে পারবেন।

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ

মন্তব্য