kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো | ধারাবাহিক

ইসলামে গোসলের বিধান

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



ইসলামে গোসলের বিধান

১৭. অতঃপর সে [মারিয়াম (আ.)] তাদের সঙ্গে পর্দা করল। পরে আমি তার কাছে আমার রুহ [জিবরাইল (আ.)]-কে পাঠিয়েছি। সে তার কাছে পূর্ণ মানবাকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করল। [সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ১৭ (দ্বিতীয় পর্ব)]।

তাফসির : মারিয়াম (আ.) গোসল করার জন্য পরিবারবর্গ থেকে আলাদা হয়েছেন। পরে তিনি মানুষের দৃষ্টির আড়ালে গোসল করার লক্ষ্যে পর্দা দিয়ে পুরো জায়গা ঢেকে দেন। এ সময় তাঁর কাছে মহান আল্লাহর ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) মানবাকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করেছেন। এখানে দুটি বিষয় লক্ষণীয়। এক. গোসলের সময় করণীয়। দুই. পর্দার বিধান। গোসল সম্পর্কে মারিয়াম (আ.)-এর ঘটনা থেকে জানা যায় যে গোসল মানুষের দৃষ্টিসীমার বাইরে করা উচিত। এখানে গোসলের বিধি-বিধান সম্পর্কে আলোচনা করা হলো—

গোসলের ফরজ : গোসলের ফরজ কাজ হলো তিনটি। এ তিনটি কাজ যথাযথভাবে পালন না করলে ফরজ গোসল আদায় হয় না। এক. কুলি করা (বুখারি, হাদিস : ২৫৭, ২৬৫, ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৫৬৬)। দুই. নাকে পানি দেওয়া (বুখারি, হাদিস : ২৬৫, ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৫৬৬)। তিন. সারা শরীরে এমনভাবে পানি পৌঁছানো, যাতে কোনো স্থান শুকনা না থাকে (আবু দাউদ, হাদিস : ২১৭)।

গোসলের সুন্নত : গোসলের সুন্নত কাজ ছয়টি—এক. গোসল শুরু করার আগে বিসমিল্লাহ পাঠ করা (জমউল জাওয়ামে, হাদিস : ১৩০৭৩)। দুই. পবিত্রতা অর্জনের নিয়ত করা (বুখারি, হাদিস : ১)। তিন. উভয় হাত প্রথমে কবজি পর্যন্ত ধৌত করা, যেভাবে অজুতে ধৌত করা হয় (বুখারি, হাদিস : ২৪০)। চার. কাপড় বা শরীরে নাপাকি লেগে থাকলে তা গোসলের আগে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া (মুসলিম, হাদিস : ৪৭৪)। পাঁচ. গোসলের আগে অজু করা; কিন্তু জায়গা যদি এত নিচু হয় যে পানি জমে যায়, তাহলে পা পরে ধৌত করা (বুখারি, হাদিস : ২৪০, ২৪১)। ছয়. পুরো শরীরে তিনবার পানি প্রবাহিত করা (মুসলিম, হাদিস : ৪৭৪)।

গোসল কখন ফরজ হয় : চার কারণে গোসল ফরজ হয়। এক. দৈহিক কামনা পূরণের পর গোসল ফরজ। যেমন—সহবাস, স্বপ্নদোষ বা যেকোনো উপায়ে বীর্যপাত হলে। (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ৬)। দুই. নারীদের মাসিক রক্তস্রাব বন্ধ হওয়ার পর পবিত্র হওয়ার জন্য গোসল করা ফরজ (বুখারি, হাদিস : ৩০৯)। তিন. নারীদের সন্তান প্রসবের পরে রক্ত বন্ধ হওয়ার পর গোসল ফরজ (কানজুল উম্মাল : ৯/১১০৯)। চার. মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া জীবিতদের ওপর ফরজ (বুখারি, হাদিস : ১১৭৫)।

কখন গোসল করা সুন্নত : চার অবস্থায় গোসল সুন্নত। এক. জুমার নামাজের জন্য গোসল করা সুন্নত (তিরমিজি, হাদিস : ৪৮৬)। দুই. দুই ঈদের নামাজের জন্য গোসল করা সুন্নত (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৩০৬)। তিন. ইহরামের জন্য গোসল করা সুন্নত (তিরমিজি, হাদিস : ৭৬০)। চার. হজযাত্রীদের জন্য আরাফায় অবস্থানকালে গোসল করা সুন্নত (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৩০৬)।

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ



মন্তব্য