kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো। ধারাবাহিক

সফরে ও ব্যক্তিগত কাজে সঙ্গী রাখার বিধান

১২ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সফরে ও ব্যক্তিগত কাজে সঙ্গী রাখার বিধান

৬০. স্মরণ করো, যখন মুসা তার সঙ্গীকে বলেছিল, দুই সাগরের মিলনস্থলে না পৌঁছে আমি থামব না অথবা যুগ যুগ ধরে চলতে থাকব। [সুরা : কাহফ, আয়াত : ৬০ (দ্বিতীয় পর্ব)]

তাফসির : আলোচ্য দুই আয়াতে মুসা (আ.) ও খিজির (আ.)-এর ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ মুসা (আ.)-কে খিজির (আ.)-এর কাছে পাঠিয়েছেন। মুসা (আ.)-কে বলে দেওয়া হয়েছে যে আপনার উদ্দিষ্ট ব্যক্তিকে ‘মাজমাউল বাহরাইন’ তথা দুই সাগরের মিলনস্থলে পাওয়া যাবে। এখানে দুজন নবীর কথা বলা হয়েছে। একজনের নাম মুসা (আ.)। মুসা শব্দের অর্থ কী? এ বিষয়ে কোরআন ও হাদিসে কোনো বক্তব্য খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে এক দল আরবি ব্যাকরণবিদের মতে, ‘মুসা’ ইবরানি শব্দ। এর অর্থ কুড়িয়ে পাওয়া বা পানিতে ভেসে আসা। যেহেতু মুসা (আ.)-কে ফেরাউন পানি থেকে তুলে নিয়ে রাজদরবারে লালন-পালন করেছিল, তাই তাঁকে তখন থেকে ‘মুসা’ নামে ডাকা হয়। আরো একটি বিষয় হলো, এই নাম প্রথম ব্যবহার করেছে ফেরাউন। তবে এ বিষয়ে সঠিক তথ্য মহান আল্লাহই ভালো জানেন। অন্যদিকে খিজির (আ.)-এর নামের অর্থ হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে। এর অর্থ সবুজ-শ্যামল। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তাঁর নাম খিজির হওয়ার কারণ হলো, একবার তিনি একটি শুষ্ক জমিনে বসেছেন। যখন তিনি সেখান থেকে উঠেছেন, দেখা গেল ওই জায়গা সবুজাভ হয়ে গেছে। সেখানে উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়েছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩২২১)

মহান আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী মুসা (আ.) এক যুবককে সঙ্গে নিয়ে খিজির (আ.)-এর উদ্দেশে রওনা হলেন। তাফসিরবিদদের সবাই এ বিষয়ে একমত যে ওই যুবকের নাম ইউশা ইবনে নুন। সে ছিল মুসা (আ.)-এর খাদেম বা দাস। এই খাদেমের কথা বোঝানোর জন্য কোরআনে ‘ফাতাতুন’ শব্দ আনা হয়েছে। এর অর্থ যুবক। এ শব্দ কোনো বিশেষ ব্যক্তির সঙ্গে সম্বন্ধযুক্ত হলে এর অর্থ খাদেম। কেননা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যুবক দেখে খাদেম রাখা হয়, যাতে কাজকর্ম যথাযথভাবে সম্পাদন করা যায়। ভৃত্য ও খাদেমকে যুবক বলে ডাকা একটি ইসলামী শিষ্টাচার। ইসলামের শিক্ষা হলো, অধীনস্থদের চাকর-বাকর-গোলাম ইত্যাদি অপমানজনক শব্দ দিয়ে সম্বোধন করা অনুচিত।

এর আলোকে জানা যায়, সফরে ও ব্যক্তিগত কাজে সঙ্গী, সহকর্মী ও সহযোগী রাখা বৈধ।

জাগতিক নিয়ম অনুযায়ী, সমাজের ধনী, সম্মানী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নিজেদের সঙ্গে একান্ত সচিব রেখে থাকেন। ইসলাম মানুষের এই পারস্পরিক সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে না। বরং সমাজের দিকে তাকালে দেখা যায়, সমাজের সব মানুষকে একই মেধা, সম্পদ ও প্রভাব-প্রতিপত্তি দেওয়া হয়নি। এর কারণ হলো, যেন মানুষ একে অন্যের দ্বারা উপকৃত হতে পারে। এ বিষয়ে অন্য আয়াতে এসেছে, ‘তারা কি তোমার রবের করুণা বণ্টন করে? আমিই পার্থিব জীবনে তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বণ্টন করি। এবং একজনকে অন্যজনের ওপর মর্যাদায় উন্নীত করি, যাতে তারা একে অন্যের দ্বারা কাজ করিয়ে নিতে পারে। তারা যা জমা করে, তার চেয়ে তোমার রবের অনুগ্রহ উৎকৃষ্টতর।’ (সুরা : জুখরুফ, আয়াত : ৩২)

যা-ই হোক, মুসা (আ.) তাঁর খাদেমকে বলেছেন, ‘আমরা দুই সাগরের মিলনস্থলে না পৌঁছা পর্যন্ত থামব না। ওই জায়গা খুঁজে পাওয়ার জন্য প্রয়োজনে আমরা যুগ যুগ ধরে সফর করব।’ কোনো কোনো তাফসিরবিদের মতে, মুসা (আ.) বলেছেন, ‘আমরা কাঙ্ক্ষিত স্থান খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনে ৮০ বছর ভ্রমণ করব।’ (তাফসিরুল মাতুরিদি : ৭/১৯০)

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ



মন্তব্য