kalerkantho


ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর উদ্যোগ ডেমোক্র্যাটদের

অনলাইন থেকে

১২ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



গত ৬ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরের কংগ্রেসম্যান এলিজা কুমিংস প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ডেমোক্রেটিক পার্টি হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের নিয়ন্ত্রণ পেলে রিপাবলিকানরা যা করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে তা-ই তাঁরা করবেন, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র, সত্যানুসন্ধানী এবং বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত পরিচালনার ব্যবস্থা করা হবে। আগামী জানুয়ারিতে হাউসের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে ডেমোক্র্যাটরা। হাউসের প্রধান তদন্তকারী অংশ ওভারসাইট কমিটির প্রধান হলেন কুমিংস।

নতুন কংগ্রেসের অন্যতম পরিচয় নির্ধারক তৎপরতা হচ্ছে নজরদারির এই প্রচেষ্টা। বর্তমানে অল্প কিছু ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সিনেটের রয়েছে। বাকি বিষয়গুলো দেখভাল করে প্রেসিডেন্ট, হাউসের ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানরা। সে কারণেই আগামী বছরই হয়তো সিনেটকে একটি সমঝোতায় আসতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে দেশের সড়ক, রেল, পাইপলাইন ও ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কের আধুনিকায়ন, ওষুধের ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণকারী কম্পানিগুলোকে নজরদারির আওতায় আনা।

বিপরীতে প্রেসিডেন্ট ও তাঁর দল তদন্তের বিষয়ে ডেমোক্র্যাটদের মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর চেষ্টা করে এসেছে এত দিন। তারা রবার্ট মুলারের গত ১৭ মাসের তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। মুলারের কাজ হচ্ছে কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা। এর মধ্যে রয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বলয়ভুক্ত কোনো ব্যক্তি কি নির্বাচনের সময় রাশিয়ার সঙ্গে আঁতাত করেছিলেন? প্রেসিডেন্ট কি তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছেন? তাঁর কর বিবরণীতে কি রাশিয়ার সঙ্গে ব্যাবসায়িক সম্পর্কের কোনো আভাস পাওয়া যায়?

তবে ওভারসাইট কমিটি নজরদারি করতে পারে—এমন বিষয়ের তালিকা এর চেয়ে আরো অনেকটাই লম্বা। এর মধ্যে রয়েছে ট্রাম্পের মালিকানাধীন হোটেল ও গল্ফ রিসোর্টগুলোতে করা সরকারি তহবিলের ব্যয়। অন্তত চারটি বিদেশি সরকার ট্রাম্পের মালিকানাধীন সম্পত্তিতে বিপুল পরিমাণ ব্যয় করেছে, যা সংবিধান পরিপন্থী হতে পারে। সংবিধানে সরকারি কর্মচারীদের বিদেশি সরকারের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের ওপর বিধি-নিষেধ রয়েছে। এ ছাড়া অতীত নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এমন লোকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও রয়েছে। অভিবাসনসংক্রান্ত বিচারক নিয়োগকে রাজনৈতিকীকরণ নিয়েও কমিটি তদন্ত করতে পারে। রক্ষণশীল ধর্মীয় নেতারা বিরোধিতা করেন—পরিবার পরিকল্পনা সংক্রান্ত এমন তথ্য সরকারি ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে দেওয়া নিয়েও তদন্তের মুখে পড়তে পারেন ট্রাম্প। আরো আছে, হোয়াইট হাউসের যেসব কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ই-মেইল অ্যাকাউন্ট অথবা নিরাপদ নয় এমন সেলফোন ব্যবহার করেন, তদন্তের আওতায় আসতে পারেন তাঁরাও। কারণ নির্বাচনের সময় হিলারি ক্লিনটনের এ ধরনের আচরণের জন্য কারাদণ্ড হওয়া উচিত—এমন দাবি তুলেছিল ট্রাম্পের সমর্থকরা।

এ ছাড়া প্রশ্ন উঠতে পারে হোয়াইট হাউসে গঠিত বহু সাবকমিটি নিয়েও। এগুলোর প্রধানরা একই সঙ্গে কয়েকটি কমিটির প্রধানের পদ দখল করে রয়েছেন। ট্রাম্পের আয়কর বিবরণী কংগ্রেসে তলব করা হতে পারে। ইভানকা ট্রাম্প বা তাঁর স্বামী জ্যারেড কুশনার ওয়েস্ট উইংয়ে কাজ করার পরও তাঁদের ব্যবসা সম্প্রসারণে তৎপর কি না, তা নিয়ে তদন্ত হতে পারে।

ডেমোক্রেটিক পার্টির একটি অংশ ট্রাম্পকে ইমপিচ করার চেষ্টা শুরু করতেও আগ্রহী, যদিও ন্যান্সি পেলোসির মতো দলের অনেক নেতাই এতে আগ্রহী নন। পেলোসি ডেমোক্রেটিক পার্টির হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের নেতা। এ ধরনের তৎপরতার জন্য বড় ধরনের মূল্য শোধ করতে হতে পারে ডেমোক্র্যাটদের। যদি তারা ২০২০ সালে ব্যর্থ হয়, যার আশঙ্কা রয়েছে। বরং নজরদারি বাড়ানোর মাধ্যমে ওই ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব।

মুলারের তদন্ত বাধাগ্রস্ত না করেই তাদের (ডেমোক্রেটিক পার্টির) তদন্ত চলতে পারে। হাউসের নেতাদের নিশ্চিত করতে হবে যে তাদের তদন্তের কারণে মুলারের তদন্ত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না। তবে তাদের সতর্ক থাকতে হবে, বিশেষ কাউন্সিলের তদন্ত যেন তাঁর বিচার বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের জন্য থেমে না যায়। ৭ নভেম্বর জেফ সেশন্স প্রেসিডেন্টের অনুরোধে তাঁর অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ থেকে ইস্তফা দেন। রাশিয়া প্রসঙ্গে ডেমোক্রেটিক পার্টির তদন্ত আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কংগ্রেসনাল কাজ হতে যাচ্ছে।

সূত্র : ইকোনমিস্ট

ভাষান্তর : তামান্না মিনহাজ



মন্তব্য