kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

আল্লাহ অভাবগ্রস্ত ও দুর্দশাগ্রস্ত হন না

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



আল্লাহ অভাবগ্রস্ত ও দুর্দশাগ্রস্ত হন না

১১১. বলে দাও, সব প্রশংসা আল্লাহরই। তিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি এবং সার্বভৌমত্বেও তাঁর কোনো অংশীদার নেই। তিনি দুর্দশাগ্রস্ত হন না। তাই তাঁর কোনো সাহায্যকারীর প্রয়োজন হয় না। সুতরাং সসম্ভ্রমে তাঁর মাহাত্ম্য ও মহিমা ঘোষণা করো। (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ১১১)

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, আল্লাহর অনেক সুন্দর সুন্দর গুণবাচক নাম আছে। এসব নাম তাঁর গুণ, পবিত্রতা ও মহিমার স্মারক। আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ তাআলার পবিত্রতা ও মহিমাসূচক কয়েকটি বাক্য আনা হয়েছে। পাশাপাশি শিরকের সম্ভাব্যতা নাকচ করা হয়েছে।

কিছু কিছু সুরা শুরু হয়েছে আল্লাহর হামদ ও প্রশংসার মাধ্যমে। এই সুরাটিও শুরু হয়েছে আল্লাহর হামদের মাধ্যমে। এই সুরা সমাপ্তও করা হয়েছে তাঁর প্রশংসার মাধ্যমে। এ প্রশংসার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আল্লাহর পবিত্রতা ও উচ্চ মর্যাদার কথা। এ আয়াতে আল্লাহকে যেকোনো ধরনের শরিক, সহধর্মী ও সন্তান গ্রহণ থেকে অনেক ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তিনি যে দুর্বল ও অসহায় নন—তাও বর্ণনা করা হয়েছে। খুব স্বাভাবিকভাবেই এমন শ্রেষ্ঠ ও মহান স্রষ্টা প্রশংসার যোগ্য।

পৌত্তলিকরা ফেরেশতাদের ‘আল্লাহর কন্যা’ বলে বিশ্বাস করে। ইহুদিরা মনে করে উজাইর (আ.) ‘আল্লাহর পুত্র’। খ্রিস্টানরা হজরত ঈসা (আ.)-কে ‘আল্লাহর পুত্র’ বলে বিশ্বাস করে। ইসলাম এসব বিশ্বাস নাকচ করে দেয়। ইসলাম ধর্ম মতে, আল্লাহ সম্পূর্ণ অবস্তুগত সত্তা। তাঁর কোনো কিছুরই প্রয়োজন নেই। স্ত্রী, পুত্র, কন্যা গ্রহণ করা তাঁর অসীম সত্তার জন্য বেমানান। এ বিষয়ে কোরআনের অন্য আয়াতে এসেছে : ‘তারা বলে, দয়াময় (আল্লাহ) সন্তান গ্রহণ করেছেন। (এটা বলার কারণে) তোমরা তো এমন এক জঘন্য বিষয়ের অবতারণা করেছ, যার ফলে আকাশমণ্ডলী বিদীর্ণ হয়ে যাবে, পৃথিবী খণ্ডবিখণ্ড হবে এবং পর্বতমালা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে পড়বে। কেননা তারা দয়াময়ের (আল্লাহর) প্রতি সন্তান আরোপ করে। অথচ সন্তান গ্রহণ করা দয়াময় (আল্লাহর) জন্য শোভনীয় নয়।’ (সুরা : মারইয়াম, আয়াত : ৮৮-৯২)

কাফির-মুশরিকদের কিছু মানুষ বিশ্বাস করে, আল্লাহ নিজের সার্বভৌম কর্তৃত্বের বিভিন্ন বিভাগ কায়েম করেছেন। এবং নিজের রাজত্বের বিভিন্ন এলাকা তাদের ব্যবস্থাপনায় দিয়ে দিয়েছেন। তাদের এমন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এ বাক্যে রয়েছে একটি সূক্ষ্ম বিদ্রূপ। এ অর্থহীন বিশ্বাসের পরিষ্কার অর্থ হচ্ছে এই যে আল্লাহ নিজে তাঁর সার্বভৌম কর্তৃত্বের বোঝা বহন করতে অক্ষম! তাই তিনি নিজের জন্য কোনো সাহায্যকারী ও নির্ভর তালাশ করে বেড়াচ্ছেন! এ প্রসঙ্গে আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ অক্ষম নন। তাই তাঁর কোনো সহকারী ও সাহায্যকারীর প্রয়োজন নেই।

অমুখাপেক্ষিতা আল্লাহরই বিশেষ গুণ। কোনো মানুষই মুখাপেক্ষীহীন নয়। মানুষকে প্রাকৃতিক নিয়মেই অমুখাপেক্ষী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হয়নি। পৃথিবীতে কেউ মুখাপেক্ষীহীন নেই। প্রবল প্রতাপান্বিত রাজা-বাদশাহও চাকর-চাকরানির মুখাপেক্ষী। বিত্তশালী ও কলকারখানার মালিকরাও শ্রমিকদের মুখাপেক্ষী। শহুরে মানুষ গ্রামের কাঁচামাল ও পণ্যের মুখাপেক্ষী। গ্রামের মানুষও শহরের পণ্যের মুখাপেক্ষী। এরূপ না হলে কোনো ধনী ব্যক্তি কাউকে এক পয়সারও মূল্য দিত না। আর কোনো শ্রমিক কারো বোঝা বহন করত না।

আল্লাহর এমন কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি দুঃখিত, দুর্দশাগ্রস্ত ও কর্মসম্পাদনে ক্লান্ত হন না। তাই তাঁর কারো সাহায্য ও সহযোগিতার প্রয়োজন নেই।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ

 



মন্তব্য