kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

সুফি মোতাহার হোসেন

কবি সুফি মোতাহার হোসেনের জন্ম ১১ সেপ্টেম্বর ১৯০৭ সালে ফরিদপুরে। তাঁর বাবা মোহাম্মদ হাশেম পুলিশ বিভাগে চাকরি করতেন। তিনি ফরিদপুর জিলা স্কুল থেকে এন্ট্রান্স, ঢাকার জগন্নাথ কলেজ থেকে এফএ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৩১ সালে প্রথম বিভাগে বিএ পাস করেন। পড়াশোনা শেষ করে প্রথমে তিনি ফরিদপুর জজকোর্টে যোগ দেন। কিন্তু বছর দুয়েক পরে নিউরেস্থিনিয়া ও ডিসপেপশিয়া রোগে আক্রান্ত হন। এ রোগ ক্রমেই তাঁর মস্তিষ্কে আঘাত করে। ফলে কবির সারা দেহ অবসন্ন হয়ে পড়ে। ডাক্তার বিধান রায় ও ডা. নীল রতন সরকারের চিকিৎসায়ও তিনি সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করতে ব্যর্থ হয়ে তালতলার পীর সাহেব আরশেদ আলীর শরণাপন্ন হন এবং অলৌকিকভাবে আরোগ্য লাভ করেন। সুস্থ হওয়ার পর শুরু করেন শিক্ষকতার জীবন। মাদারীপুর ও ভাঙ্গা পাইলট হাই স্কুল, ময়েজউদ্দীন হাই মাদরাসা ও পটুয়াখালী স্কুলে শিক্ষকতা করেন। ১৯৫০ সালে তিনি ঈশান ইনস্টিটিউশনে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। তিনি কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে পরিচয় ও যোগাযোগসূত্রে সাহিত্যচর্চায় উদ্বুদ্ধ হন এবং পাশ্চাত্য আদর্শে সনেট লিখে খ্যাতি অর্জন করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদিত বাংলা কাব্য পরিচয় পাঠ্য পুস্তকে তাঁর ‘দিগন্ত’ নামক সনেট স্থান পায়। ১৯৬৫ সালে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ সনেট সংকলন প্রকাশিত হয়। প্রেম, প্রকৃতি ও মানবতা তাঁর সনেটের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৬৫ সালে তিনি আদমজী পুরস্কার, ১৯৭০ সালে প্রেসিডেন্ট পুরস্কার ও ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৭৫ সালের ৭ আগস্ট ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

[বাংলাপিডিয়া অবলম্বনে]



মন্তব্য