kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

নামাজে কোরআন তিলাওয়াত করতে হবে মধ্যপন্থায়

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



নামাজে কোরআন তিলাওয়াত করতে হবে মধ্যপন্থায়

১১০. বলে দাও, তোমরা আল্লাহ বা রহমান যে নামেই ডাকো না কেন, সব সুন্দর নাম তো তাঁরই। নামাজে তোমাদের স্বর খুব উচ্চ বা অতিশয় ক্ষীণ কোরো না, বরং এ দুইয়ের মধ্যপন্থা অবলম্বন করো। [সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ১১০ (দ্বিতীয় পর্ব)]

তাফসির : আলোচ্য আয়াতের মূলকথা হলো, ‘রাহমান’ ও ‘রাহিম’সহ আল্লাহর আছে সুন্দর সুন্দর নাম। যেকোনো নামে তাঁকে ডাকা যায়। নামাজে আল্লাহর কালাম তিলাওয়াত করার সময় কণ্ঠস্বর অতি উঁচু বা অতি ক্ষীণ করার প্রয়োজন নেই, বরং আওয়াজের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা উচিত।

নামাজের কেরাত পাঠের নিয়ম হলো—ইমাম হলে ফজর, মাগরিব ও এশার প্রথম দুই রাকাতে উচ্চৈঃস্বরে কেরাত পড়বে এবং শেষ দুই রাকাতে অনুচ্চৈঃস্বরে পড়বে। আর যদি মুনফারিদ (একাকী নামাজ আদায়কারী) হয়, তাহলে সে ইচ্ছাধীন। চাইলে উচ্চৈঃস্বরে পাঠ করবে। আর চাইলে চুপে চুপে পাঠ করবে। কেননা তার পেছনে এমন কেউ নেই, যাকে সে শোনাবে। যদি একাকী নামাজ আদায় করে, তাহলে কেরাত ততটুকু জোরে পড়বে যতটুকু জোরে পড়লে নিজে শুনতে পায়।

জোহর ও আসরে ইমাম ও একাকী নামাজ আদায়কারী চুপে চুপে কেরাত পড়বে।

নামাজে যে পরিমাণ কেরাত যথেষ্ট, তার সর্বনিম্ন পরিমাণ ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে এক আয়াত। আর ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে, ছোট তিন আয়াত অথবা দীর্ঘ এক আয়াত।

নামাজে কেরাতের সুন্নত সাতটি

এক. প্রথম রাকাতে ছানা পড়ার পর পূর্ণ আউজুবিল্লাহ পড়া। (আবু দাউদ, হাদিস : ৭৬৪)

দুই. প্রতি রাকাতে সুরা ফাতিহা ও সুরা মেলানোর আগে পূর্ণ বিসমিল্লাহ পড়া। (নাসায়ি, হাদিস : ৯০৪)

তিন. সুরা ফাতিহার পর ইমাম, মুক্তাদি বা একাকী নামাজি—সবাই নীরবে ‘আমিন’ বলা। (বুখারি ১/১০৮, হাদিস : ৭৮২, মুস্তাদরাকে হাকেম ২/২৩২, হাদিস : ২৯১৩, সুনানে দারা কুতনি ১/২৬৩, হাদিস : ১২৫৬)

চার. ফজর ও জোহরের নামাজে ত্বিওয়ালে মুফাসসাল তথা লম্বা কেরাত পাঠ করা। অর্থাৎ সুরা ‘হুজুরাত’ থেকে সুরা ‘বুরুজ’ পর্যন্ত যেকোনো সুরা পড়া। আসর ও এশার নামাজে আউসাতে মুফাসসাল তথা মধ্যম কেরাত পাঠ করা। অর্থাৎ সুরা ‘ত্বারিক’ থেকে সুরা ‘লাম-ইয়াকুন’ পর্যন্ত যেকোনো সুরা পড়া। মাগরিবে কিসারে মুফাসসাল তথা ছোট কেরাত পাঠ করা। অর্থাৎ সুরা ‘ইজা জুলজিলাত’ থেকে সুরা ‘নাস’ পর্যন্ত প্রতি রাকাতে যেকোনো একটি সুরা পড়া অথবা অন্য বড় সুরা থেকে এ পরিমাণ কেরাত পাঠ করা। (নাসায়ি ১/১১৩, হাদিস : ৯৮২, মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক ২/১০৪, হাদিস : ২৬৭২)

পাঁচ. ফজরের প্রথম রাকাত দ্বিতীয় রাকাতের চেয়ে লম্বা করা। অন্য ওয়াক্তে উভয় রাকাতে কেরাতের পরিমাণ সমান রাখা উচিত। (মুসলিম ১/১৮৬, হাদিস : ৪৫১, ৪৫২)

ছয়. কেরাত অত্যন্ত তাড়াতাড়ি বা একেবারে ধীরগতিতে না পড়া, বরং মধ্যম গতিতে পড়া। (মুসলিম ১/২৫৩, হাদিস : ৭৩৩)

সাত. ফরজ নামাজের তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাতে শুধু সুরা ফাতিহা পড়া। (বুখারি ১/১০৭, হাদিস : ৭৭৬, মুসলিম শরিফ ১/১৮৫, হাদিস : ৪৫১)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ

 



মন্তব্য