kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

আল্লাহর আছে সুন্দর সুন্দর নাম

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



আল্লাহর আছে সুন্দর সুন্দর নাম

১১০. বলে দাও, তোমরা আল্লাহ বা রহমান যে নামেই ডাকো না কেন, সব সুন্দর নাম তো তাঁরই। নামাজে তোমাদের স্বর খুব উচ্চ বা অতিশয় ক্ষীণ কোরো না। বরং এ দুইয়ের মধ্যপথ অবলম্বন করো। [সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ১১০ (প্রথম পর্ব)]

তাফসির : আগের কয়েকটি আয়াতে মহান আল্লাহকে সিজদা করার প্রসঙ্গে বর্ণনা করা হয়েছিল। সিজদা করার সঙ্গে আল্লাহকে ডাকার নিবিড় সম্পর্ক আছে। আলোচ্য আয়াতে আল্লাহর নাম ও তাঁকে ডাকা প্রসঙ্গে বর্ণনা করা হয়েছে। মক্কার মুশরিকরা আল্লাহর গুণবাচক নাম ‘রাহমান’ ও ‘রাহিম’-এর সঙ্গে পরিচিত ছিল না। মুশরিকদের কেউ কেউ যখন মহানবী (সা.)-এর মুখ থেকে ‘ইয়া রাহমান, ইয়া রাহিম’ শব্দ শুনল তখন বলে উঠল, এই লোক আমাদের এক আল্লাহকে ডাকতে বলে, আর সে নিজে দুজন উপাস্যকে ডাকছে! তাদের এ কথার জবাবে আলোচ্য আয়াত নাজিল হয়েছে। (ইবনে কাসির)

কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) পবিত্র কাবা শরিফে দোয়া করার সময় বলতেন, ‘হে আল্লাহ’, ‘হে রহমান’। এ কথা শুনে কিছু লোক ভেবেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী। একজন হলেন আল্লাহ আর দ্বিতীয়জন রহমান। তাদের এ ভ্রান্ত ধারণার জবাবে আলোচ্য আয়াতে বলা হয়েছে, এই দুটিই আল্লাহর নাম। এই দুটি নাম ছাড়া আল্লাহর আরো অনেক সুন্দর গুণবাচক নাম আছে। এসব নামের প্রতিটিতে তাঁর পরিপূর্ণ সত্তার একেকটি দিক ফুটে উঠেছে। কাজেই এসব নামের যেকোনো একটি ধরে তাঁকে ডাকা যায়।

মহান আল্লাহ গোটা বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তা। তাঁর রয়েছে অসংখ্য গুণবাচক নাম। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর জন্য রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম। অতএব, তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকবে। যারা তাঁর নাম বিকৃত করে, তাদের বর্জন করবে। শিগগিরই তাদের কৃতকর্মের ফল দেওয়া হবে।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১৮০)

প্রচলিত আছে, আল্লাহ তাআলার নামের সংখ্যা তিন হাজার। ফেরেশতাদের জ্ঞানে আছে এক হাজার নাম, নবী-রাসুলদের জ্ঞানে ছিল এক হাজার নাম, ঐশীগ্রন্থ চার কিতাবের মধ্যে তাওরাতে ছিল ৩০০, জবুরে ৩০০ এবং ইনজিলে ছিল আল্লাহর ৩০০ নাম।

দায়িত্বনিষ্ঠ আলেমদের মতে, আল্লাহ তাআলার তিন হাজার নামের এই হিসাবের কোনো দলিল নেই। তবে হাদিস শরিফে মহান আল্লাহর ৯৯টি গুণবাচক নামের কথা বলা হয়েছে। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহর ৯৯টি (এক কম এক শ) নাম আছে, যে তা গণনা করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (বুখারি, হাদিস : ২৭৩৬)

আল্লাহকে ডাকার জন্য মানুষ মুক্ত নয়। আল্লাহ তাআলা দয়া করে তাঁকে ডাকার জন্য নানা রকম গুণবাচক নামের শব্দও মানুষকে শিখিয়ে দিয়েছেন। আর মানুষ সেসব শব্দ দ্বারাই আল্লাহকে ডাকতে বাধ্য। মানুষ ইচ্ছামতো আল্লাহর গুণবাচক নামের শব্দ পরিবর্তন করতে পারে না। আল্লাহর গুণ-বৈশিষ্ট্যের সব দিক লক্ষ রেখে তাঁর মহত্ত্বের উপযোগী শব্দ চয়ন করতে পারা মানুষের সাধ্যের ঊর্ধ্বে।

পবিত্র কোরআন ও হাদিসে আল্লাহ তাআলার সুন্দরতম ও অর্থবোধক এসব নাম নিয়ে দোয়া করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মানুষ প্রতিনিয়ত নানা রকম কষ্ট-ক্লেশ, পেরেশানি, দুশ্চিন্তা ও জটিল বিষয়ের সম্মুখীন হয়ে পড়ে। তখন সে আশ্রয় নেবে আল্লাহর রহমতের ছায়ায়, সে ছায়া পড়ে আছে আল্লাহর নানা গুণবাচক নামের তাৎপর্যের মধ্যে।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ

 



মন্তব্য