kalerkantho


‘গণতান্ত্রিক চর্চা করতে ভোটে আসতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



‘গণতান্ত্রিক চর্চা করতে ভোটে আসতে হবে’

‘নির্বাচন নিয়ে নানা কথা হয়, হতেই পারে। কিন্তু বিএনপি তাদের দাবিকে ১৭ কোটি মানুষের দাবি বলে সবাইকে নিয়ে নিচ্ছে, তাহলে আমার ভোটটাও কি নেই? আমি তো আর ধানের শীষে ভোট দেব না। সুতরাং বিএনপি যে কথা বলছে তা ১৭ কোটি মানুষের কথা নয়, যারা বিএনপিকে সমর্থন করে তাদের কথা হতে পারে। গণতান্ত্রিক চর্চা করতে গেলে ভোটের রাজনীতিতে আসতে হবে। এই সত্যকে মান্য করেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে। এখন বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কি করবে না, সেটা তাদের ব্যাপার।’

সোমবার নিউজ টোয়েন্টিফোরের ‘জনতন্ত্র গণতন্ত্র’ অনুষ্ঠানে ‘ভোট-জোট-সংলাপ’ শীর্ষক আলোচনায় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল মান্নান এ কথা বলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রোবায়েত ফেরদৌস।

অধ্যাপক মান্নান বলেন, ‘বিএনপি যেটা চাচ্ছে, যে দর-কষাকষি করছে তা দেশ ও জাতির জন্য নয়, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য। তারা যেকোনোভাবে ক্ষমতায় যেতে চায়। কিন্তু যেকোনোভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ এখন নেই। ভোটের মাধ্যমে সুযোগ আছে। এখন বিএনপি যদি নির্বাচনে না আসে, তাহলে কী করার আছে? সব রাজনৈতিক দলকে জনগণের অধিকারকে মূল্যায়ন করা উচিত।’

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে যতটুকু বুঝতে পারছি এবং বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে যতটুকু জানতে পেরেছি, তাতে খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে এবং তারেক রহমানকে দেশের বাইরে রেখে বিএনপির কিছু লোক সরকারের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বা তাঁদের সিট নিশ্চিত করে সংসদে ঢুকবেন, ভালো ভালো কথা বলবেন আর নেতাকর্মীরা কোর্টের বারান্দায় ঘোরাঘুরি করবে—এসব বোধ হয় সম্ভব হবে না। যাঁরা এসবের মধ্যে আছেন তাঁরা হয়তো এরই মধ্যে সতর্কবার্তা পেয়ে গেছেন। বিএনপির সামনে দুটি পথ আছে—সরকারের সঙ্গে সংলাপ করে যদি একটি জায়গায় পৌঁছতে পারে, তাহলে তারা নির্বাচনে আসবে। সে ক্ষেত্রে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন এবং অন্য আনুষঙ্গিক বিষয়ের সমাধান হবে।’

জাতীয় পার্টির নেতা বলেন, অতীতে দল ভাঙা বহুবার হয়েছে। আওয়ামী লীগ ভেঙেছে, বিএনপি ভেঙেছে, জাতীয় পার্টিও ভেঙেছে। কিন্তু এ মুহূর্তে বিএনপি বলতে খালেদা জিয়া, আওয়ামী লীগ বলতে শেখ হাসিনা এবং জাতীয় পার্টি বলতে এরশাদ। এর বাইরে যারা যাবে তারা নিঃশেষ হয়ে যাবে। বিএনপি যদি সিদ্ধান্ত নেয়, তারা নির্বাচনে যাবে না, আর কিছু নেতা যদি বলেন, তাঁরা ভালো বোঝেন, তাঁরা নির্বাচনে গিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবেন, তাহলে বিএনপির কোনো কর্মী তাঁদের পেছনে থাকবে না। এই নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ খুবই দুরূহ। তাহলে কি বিএনপি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে? সেটা বিএনপিই ভালো বোঝে, সেই কৌশলের খেলা তারা খেলবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘যদি জনতন্ত্রের গণতন্ত্র থাকে, তাহলে বিএনপি অবশ্যই নির্বাচনে আসবে। জনগণের ভোট দেওয়ার যদি অধিকার আসে, তাহলে বিএনপি নির্বাচনে আসবে। আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব—এটা যদি না হয়, তাহলে জাতীয় পার্টিও আসবে কি না সন্দেহ আছে। মানুষ একটা অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে আছে। সরকারের কাছ থেকে জনগণ এখনো কোনো আশ্বাস পায়নি যে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন বাংলাদেশে হবে। নির্বাচন যে হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নির্বাচন হবে, কেউ ঠেকাতে পারবে না। কেউ ঠেকাতে চায়নি। কিন্তু তার আগেই তিনি বলে দিয়েছেন, কেউ ঠেকাতে পারবে না। তাঁর মনে হয়তো সন্দেহ হয়েছে, কেউ নির্বাচন ঠেকাতে আসতে পারে। এ ধরনের কথা শুনে জাতি হতাশ হয়, জাতি শঙ্কিতও হয়ে পড়ে।’

বিএনপি নেতা বলেন, বিএনপি একটি বড় গণতান্ত্রিক দল। নির্বাচনই ক্ষমতায় আসার একমাত্র মাধ্যম, এটা তারা মনে করে। জনগণের ওপর ভিত্তি করেই বিএনপি রাজনীতি করে। কিছুদিন আগে বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে কারাগারে সাক্ষাৎ করে এসে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ম্যাডাম নির্বাচন এবং অহিংস আন্দোলন—দুটির ব্যাপারেই প্রস্তুতি রাখতে বলেছেন। সুতরাং কেউ বলতে পারে না যে বিএনপি নির্বাচনে আসবে না। জাতি যে নির্বাচন আশা করে, যাতে সবাই অংশগ্রহণ করতে পারবে, সবাই নিজের ভোট দিতে পারবে সেই নির্বাচনে অবশ্যই বিএনপি অংশগ্রহণ করবে।



মন্তব্য