kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

ফেরাউনের পরিণতি সম্পর্কে মুসা (আ.) আগেই জানতেন

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ফেরাউনের পরিণতি সম্পর্কে মুসা (আ.) আগেই জানতেন

১০২. মুসা বলল, (হে ফেরাউন) তুমি তো ভালোভাবেই জানো যে এসব অলৌকিক নিদর্শন আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর প্রতিপালকই অবতীর্ণ করেছেন প্রত্যক্ষ প্রমাণস্বরূপ। হে ফেরাউন! আমি অবশ্যই মনে করি তোমার ধ্বংস আসন্ন!

১০৩. অতঃপর ফেরাউন তাদের স্বদেশ থেকে উচ্ছেদ করার সংকল্প করে। তখন আমি ফেরাউন ও তার সঙ্গী-সাথি সবাইকে নিমজ্জিত করলাম। (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ১০২-১০৩)

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, মুসা (আ.) বনি ইসরাঈল ও ফেরাউনের কাছে ৯টি স্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে এসেছেন। এসব নিদর্শন দেখেও বেশির ভাগ বনি ইসরাঈল ও ফেরাউন ঈমান আনেনি।

মিসরের অত্যাচারী শাসক ফেরাউন মুসা (আ.)-এর অলৌকিক ক্ষমতা দেখে ঈমান আনার পরিবর্তে তাঁকে জাদুকর বলে উপহাস করে। আলোচ্য প্রথম আয়াতে তার প্রত্যুত্তর দেওয়া হয়েছে।

ফেরাউনের জাদুর অপবাদের বিরুদ্ধে মুসা (আ.) বলেছেন, আমি যা প্রদর্শন করেছি জাদু ছিল না, বরং এটি ছিল মানুষের ক্ষমতার ঊর্ধ্বে এমন একটি কাজ, যা আমি বিশ্বজাহানের প্রতিপালকের নির্দেশে করেছি। আমার দায়িত্ব শুধু বিশ্বপ্রতিপালকের বার্তা পৌঁছে দেওয়া। আর এটা স্বাভাবিক, যারা বিশ্বপালনকর্তার বার্তা গ্রহণ করে না, তাদের ধ্বংস অনিবার্য। তাই মুসা (আ.) বলে দিয়েছেন, হে ফেরাউন! আমি অবশ্যই মনে করি, তোমার ধ্বংস আসন্ন!

দ্বিতীয় আয়াতে মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের উচ্ছেদ করা প্রসঙ্গে বর্ণনা করা হয়েছে। অত্যাচারী ফেরাউন সত্যের আওয়াজ স্তব্ধ করার জন্য হত্যা ও উচ্ছেদের পথ বেছে নেয়। কিন্তু ফেরাউন জানত না মুসা (আ.)-এর সঙ্গে তাঁর পালনকর্তা রয়েছেন, যিনি সারাক্ষণ তাঁকে সহযোগিতা করছেন। এ জন্য যখন ফেরাউন তার বাহিনী নিয়ে মুসা (আ.) ও তাঁর সঙ্গীদের স্বদেশ থেকে বহিষ্কার করার জন্য তাড়া করে, তখন ফেরাউন তার বাহিনীসহ সাগরে ডুবে মরে। আর এভাবেই আল্লাহ তাঁর ক্ষমতা প্রদর্শন করেন।

মুসা (আ.) ফেরাউন ও তার অনুসারীদের বহুদিন সত্যের দাওয়াত দেন। কিন্তু তারা তাঁর আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে নানা ধরনের অত্যাচার ও উত্পীড়নের পথ বেছে নেয়। দীর্ঘ চেষ্টার পর মুসা (আ.) যখন বুঝলেন ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গ কোনোভাবেই সত্যপথে ফিরে আসবে না, তখন তিনি তাদের জন্য বদদোয়া করেন। মহান আল্লাহ তাঁর বদদোয়া কবুল করেন। তিনি ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গের জীবন ও সম্পদ ধ্বংস হওয়ার জন্য বদদোয়া করেন। বিভিন্ন বর্ণনায় দেখা যায়, মুসা (আ.)-এর বদদোয়ার ৪০ বছর পর ফেরাউন ও তার দলবল সাগরে নিমজ্জিত হয়েছিল।

আল্লাহর আজাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত পৃথিবীর আদি ছয়টি জাতির মধ্যে ফেরাউনের জাতি অন্যতম। ফেরাউন সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা কোরআনের ২৭টি সুরায় ৭৫টি স্থানে বর্ণনা করেছেন। এটি কোরআনে সর্বাধিক আলোচিত বিষয়। এর মাধ্যমে নব্য ফেরাউনদের সতর্ক করা হয়েছে। ফেরাউনের কাছে প্রেরিত নবী মুসা ও হারুন (আ.) সম্পর্কে কোরআনে সর্বাধিক আলোচনা স্থান পেয়েছে। এর একটি কারণ এটাও যে মুসা (আ.)-এর অলৌকিক ক্ষমতা অন্য নবীদের তুলনায় বেশি ছিল। আবার তাঁর জাতি বনি ইসরাঈলের মূর্খতা ও হঠকারিতার ঘটনাবলিও ছিল বিগত উম্মতগুলোর তুলনায় অধিক আলোচিত। কোরআনে ফেরাউনের আলোচনা বারবার করার মাধ্যমে এদিকে ইঙ্গিত রয়েছে যে যুগে যুগে ভিন্ন ভিন্ন নামে ফেরাউনরা আসবে। ঈমানদারদের ওপর তাদের জুলুমের ধারা প্রায় একই রকম হবে, যদিও পদ্ধতি হবে ভিন্ন।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ



মন্তব্য