kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

যথার্থ কারণ ছাড়া মানবহত্যা নিষিদ্ধ

১৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



যথার্থ কারণ ছাড়া মানবহত্যা নিষিদ্ধ

৩৩. আল্লাহ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন, যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা কোরো না। কেউ অন্যায়ভাবে নিহত হলে তার উত্তরাধিকারীকে আমি অবশ্যই তা প্রতিকারের অধিকার দিয়েছি। কিন্তু হত্যার ব্যাপারে সে যেন বাড়াবাড়ি না করে। সে তো সাহায্যপ্রাপ্ত হয়েছে। [সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৩৩ (দ্বিতীয় পর্ব)]

তাফসির : আলোচ্য আয়াতে নরহত্যার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এ আয়াত থেকে প্রমাণিত হয়, অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা ফৌজদারি অপরাধ। কেননা এটি সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। মহান আল্লাহ বিশৃঙ্খলা পছন্দ করেন না। একটি হত্যা সমাজে বহুমুখী ক্ষত সৃষ্টি করে। এটি সমাজের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, সমাজের শৃঙ্খলা বিনষ্ট করে। হত্যা মানবসভ্যতার ধ্বংসের পথ প্রশস্ত করে।

‘আল্লাহ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন’—এর অর্থ শুধু অন্যকে হত্যা করা নিষিদ্ধ নয়, নিজেকে হত্যা করাও এর অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি চাইলেই আত্মহত্যা করতে পারবে না। আত্মহত্যা করা মহাপাপ। ইসলামে নিরপরাধ মানুষ হত্যা নিষিদ্ধ, আত্মহত্যাও নিষিদ্ধ। কেননা মানুষ নিজের প্রাণের মালিক নয়। প্রাণের পূর্ণ মালিক মহান রাব্বুল আলামিন। তিনিই জীবন ও মৃত্যু দান করেন। তিনি সব মানুষের জানের নিরাপত্তা দিয়েছেন। কাজেই মানুষ হত্যা যত বড় গুনাহ ও অপরাধ, আত্মহত্যা করাও তত বড় অপরাধ। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা নিজেদের হত্যা কোরো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু। যে ব্যক্তি সীমা লঙ্ঘন করে অন্যায়ভাবে তা করবে, তাকে অগ্নিতে দগ্ধ করা হবে। এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ২৯-৩০)

আলোচ্য আয়াতে যথার্থ কারণ ছাড়া কাউকে হত্যা করতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু কখনো কখনো হত্যা অনিবার্য হয়ে ওঠে। শান্তি প্রতিষ্ঠার তাগিদে, সমাজ থেকে অপরাধের চিহ্ন মুছে ফেলার লক্ষ্যে কখনো কখনো বিষফোড়া কেটে ফেলার মতো হত্যার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। হত্যার যথার্থ কারণ কী? এ প্রসঙ্গে হাদিস শরিফে এসেছে, ‘কোনো মুসলিমের রক্ত বৈধ নয়, যে এ কথার সাক্ষী দেয়—আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল। তবে তিন ব্যক্তির ক্ষেত্রে হত্যা প্রযোজ্য। এক. হত্যার বদলে হত্যা (কিসাস)। দুই. বিবাহিত ব্যভিচারী। তিন. ধর্মত্যাগকারী, যে মুসলিম দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৬৭৬)

এই তিনটি বিষয়ের পাশাপাশি ইসলামী আইনে আরো দুটি বিষয় যুক্ত রয়েছে। এক. আল্লাহর সত্য দ্বিনের পথে বাধাদানকারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা। ইরশাদ হয়েছে, ‘...তোমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধ করো, যেমন তারা তোমাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধ করে থাকে। আর জেনে রেখো, আল্লাহ অবশ্যই মুত্তাকিদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৩৬)

দুই. ইসলামী রাষ্ট্রে শাসনব্যবস্থা উত্খাত করার প্রচেষ্টাকারীদের শাস্তি দেওয়া। তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা বৈধ। ইরশাদ হয়েছে, ‘...তাদের এক দল অন্য দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলে তোমরা যুদ্ধ করবে, যতক্ষণ তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে না আসে...।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ৯)

উল্লিখিত পাঁচটি ক্ষেত্রে মানুষের প্রাণের মর্যাদা তিরোহিত হয় এবং তাকে হত্যা করা বৈধ গণ্য হয়। কিন্তু এ শাস্তি বাস্তবায়নের অধিকার ইসলামী রাষ্ট্রের সরকার ও প্রশাসনের।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ



মন্তব্য