kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা নিষিদ্ধ

১৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা নিষিদ্ধ

৩৩. আল্লাহ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন, যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা কোরো না। কেউ অন্যায়ভাবে নিহত হলে তার উত্তরাধিকারীকে আমি অবশ্যই তা প্রতিকারের অধিকার দিয়েছি। কিন্তু হত্যার ব্যাপারে সে যেন বাড়াবাড়ি না করে। সে তো সাহায্যপ্রাপ্ত হয়েছে। [সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৩৩ (প্রথম পর্ব)]

তাফসির : আগের আয়াতে ব্যভিচার থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছিল। ব্যভিচার ও ধর্ষণ কখনো কখনো হত্যা পর্যন্ত গড়ায়। তাই আলোচ্য আয়াতে নরহত্যার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। মানুষ হত্যা, সন্ত্রাস ও ত্রাস সৃষ্টি যেকোনো ধর্ম, মতাদর্শ ও সভ্যতাবিরোধী। খুনাখুনি ও রক্তপাত কেউ পছন্দ করে না। এর পরও হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য, ক্ষমতার লড়াইয়ে টিকে থাকার জন্য, আদর্শিক লড়াইয়ে ও পার্থিব-অপার্থিব কল্যাণের আশায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে। সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্ম নেই। তাদের ধর্ম সন্ত্রাস। মুসলমান সন্ত্রাসী হওয়ার পথে কোরআনই সবচেয়ে বড় বাধা। আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করবে, তার শাস্তি জাহান্নাম। সেখানে সে চিরকাল থাকবে।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৯৩)। ইসলাম ধর্ম মতে, কোনো মুসলমান হাজারো অপরাধ করলেও তার সমুদয় পাপের সাজা ভোগ করে সে জান্নাতে যাবে। অর্থাৎ কোনো মুসলিম অনন্তকাল জাহান্নামে থাকবে না। অথচ এ আয়াতে হত্যাজনিত অপরাধের কারণে অনন্তকাল জাহান্নামে থাকার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, একটি অন্যায় হত্যাকে ইসলাম বিশ্বমানবতাকে হত্যার সমতুল্য বলে ঘোষণা করেছে। কোরআন বলছে, ‘নরহত্যা কিংবা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কাজ করা ছাড়া কেউ কাউকে হত্যা করলে সে যেন দুনিয়ার সব মানুষকেই হত্যা করল।’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ৩২)

কোথাও হত্যাকাণ্ড ঘটতে দেখলে অন্যদের উচিত এর প্রতিরোধ করা। আল্লাহ বলেন, ‘আর যে কারো প্রাণ রক্ষা করল, সে যেন (বিশ্বের) সব মানুষের প্রাণ রক্ষা করল।’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ৩২)

ইসলাম অন্যায় হত্যা, নৈরাজ্য সৃষ্টি, সহিংসতা ও সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেয় না। পৃথিবীতে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি নিষিদ্ধ করে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে প্রয়াসী হইয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ বিপর্যয় সৃষ্টিকারীকে পছন্দ করে না।’ (সুরা কাসাস, আয়াত : ৭৭)

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘ফিতনা (দাঙ্গা, বিশৃঙ্খলা ও গৃহযুদ্ধ) হত্যা অপেক্ষা গুরুতর।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৯১)। অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করাকে ইসলাম বিশ্বমানবতার মৃত্যুতুল্য গণ্য করেছে। আর মুসলমানদের পারস্পরিক রক্তপাতের বিরুদ্ধে হাদিস শরিফে কঠিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের (মুসলমানদের) ওপর অস্ত্র উঠাবে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৮৪৪)। অন্য হাদিসে তিনি বলেন, ‘আল্লাহর কাছে গোটা পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়া কোনো মুসলমানের হত্যার চেয়েও অধিক সহনীয়।’ (নাসায়ি শরিফ, হাদিস : ৩৯৯২)

কেউ অন্যায় হত্যাকাণ্ডে লিপ্ত হলে ইসলাম তার জন্য মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছে। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা, নিহতদের ব্যাপারে তোমাদের জন্য কিসাসের বিধান দেওয়া হলো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৭৮)

শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের অনুমতি ইসলাম দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং দুনিয়ায় ধ্বংসাত্মক কাজ করে বেড়ায়, তাদের শাস্তি হলো তাদের হত্যা করা হবে অথবা ক্রুশবিদ্ধ করা হবে কিংবা বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত-পা কেটে ফেলা হবে কিংবা তাদের নির্বাসিত করা (বা জেলখানায় বন্দি) করা হবে।’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ৩৩)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ



মন্তব্য