kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

ধর্ষণের শিকার ব্যক্তির করণীয়

১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



ধর্ষণের শিকার ব্যক্তির করণীয়

৩২. ‘তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। অবশ্যই এটা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ।’ [সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৩২ (চতুর্থ পর্ব)]

তাফসির : আলোচ্য আয়াতে ব্যভিচারের কাছে যেতেও নিষেধ করা হয়েছে। এর অর্থ ব্যক্তি শুধু ব্যভিচার থেকে দূরে থেকেই ক্ষান্ত হবে না, বরং এ পথে ধাবিতকারী বিষয় থেকেও দূরে থাকবে। ব্যভিচারের সমগোত্রীয় অথচ তার চেয়েও ভয়ংকর অপরাধ হলো ধর্ষণ। ইসলামী শরিয়তে ব্যভিচারের পাশাপাশি ধর্ষণও কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। কেননা ইসলামে ব্যভিচার কবিরা গুনাহ হিসেবে স্বীকৃত। সে ক্ষেত্রে ব্যভিচারের চেয়েও ভয়ংকর অপরাধ ধর্ষণ কবিরা গুনাহ হওয়া সহজেই অনুমেয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘(রহমানের বান্দা তারাই) যারা আল্লাহর সঙ্গে কোনো ইলাহকে ডাকে না, আল্লাহ যার হত্যা নিষেধ করেছেন, যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। যে এগুলো করে, সে পাপে পতিত হয়। কিয়ামতের দিন তার শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে। সেখানে সে স্থায়ী হবে হীন অবস্থায়।’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৬৮-৬৯)

কোনো ব্যক্তি যদি ধর্ষণের শিকার হয়, তাহলে তাঁর সর্বপ্রথম করণীয় হলো, সম্ভব হলে তা প্রতিরোধ করা। এমনকি যদিও তা ধর্ষণকারীকে হত্যা করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে, তাতেও ইসলাম সায় দিয়েছে। সাইদ ইবনে জায়েদ (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে যে ব্যক্তি নিহত হয়েছে, সে শহীদ। জীবন রক্ষা করতে গিয়ে যে নিহত হয়েছে, সে-ও শহীদ। দ্বিন রক্ষা করতে গিয়ে যে নিহত হয়েছে, সে শহীদ। আর সম্ভ্রম রক্ষা করতে গিয়ে যে নিহত হয়েছে, সে-ও শহীদ।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৭৭২; তিরমিজি, হাদিস : ১৪২১)

এ হাদিসের আলোকে ইবনুল মুনজির (রহ.) লিখেছেন, ইমাম শাফেয়ি (রহ.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ধর্ষণের শিকার সে যদি ধর্ষণকারীকে হত্যা করে, তাহলে এর কোনো ক্ষতিপূরণ নেই।’ (সুবুলুস সালাম : ৩/৫০৭)

ইসলামী আইন বিশ্বকোষে রয়েছে, ‘যে ব্যক্তি ধর্ষণের শিকার সে যদি ধর্ষণকারীকে আত্মরক্ষার্থে হত্যা করে, তাহলে তার কোনো ক্ষতিপূরণ নেই। এটা সর্বসম্মত অভিমত। এর কোনো কিসাস নেই, কাফ্ফারা নেই, জরিমানাও নেই। এ কাজে তার কোনো পাপও নেই। কেননা এর জন্যই তাকে আদেশ করা হয়েছে।’ (আল মাওসুআতুল ফিকহিয়্যা আল কুয়েতিয়্যা : ২৮/১০৬)

ইসলামী আইনবিদরা এ মর্মেও ঐকমত্যে রয়েছেন যে ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিকে ধর্ষণের কারণে অভিযুক্ত করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে তার কোনো পাপ নেই। কেননা ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার ওপর বল প্রয়োগ করা হয়েছে। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের ভুলবশত করা অপরাধ, ভুলে যাওয়া কাজ ও বল প্রয়োগকৃত বিষয় ক্ষমা করে দিয়েছেন।’ (ইবনে মাজাহ, তালাক অধ্যায়, হাদিস : ২০৪৫)

ধর্ষণের শিকার হওয়ার দরুন যদি পেটে সন্তান চলে আসে, এ ক্ষেত্রে চার মাস তথা এক শ বিশ দিন অবধি বিশেষ ক্ষেত্রে তা নষ্ট করে ফেলার অনুমতি আছে। কিন্তু চার মাস পর যেহেতু প্রাণের সঞ্চার হয়ে যায়, তাই এরপর গর্ভস্থ সন্তান নষ্ট করা যাবে না। এটি তখন মানবহত্যার শামিল হবে। আর এ ধরনের সন্তানকে ঘৃণার চোখে দেখা অন্যায়। কেননা তার কোনো অপরাধ নেই। এবং এমন সন্তানের বংশ মায়ের দিক থেকে সাব্যস্ত হবে। সে তার অবৈধ বাবার পরিচয়ে পরিচিত হবে না। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘সন্তান বৈধ স্বামীরই গণ্য হবে, আর ব্যভিচারী বা ধর্ষণকারী বঞ্চিত হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ২০৫৩)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ



মন্তব্য