kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো। ধারাবাহিক

শিরককারী কিয়ামতের দিন নিন্দিত ও লাঞ্ছিত হবে

১৭ মে, ২০১৮ ০০:০০



শিরককারী কিয়ামতের দিন নিন্দিত ও লাঞ্ছিত হবে

২২. তুমি আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে উপাস্যরূপে গ্রহণ কোরো না। অন্যথায় নিন্দিত ও লাঞ্ছিত হয়ে পড়বে। (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২২)

তাফসির : আগের আয়াতে জান্নাতে মর্যাদার ভিত্তিতে জান্নাতবাসীর বিভিন্ন স্তরের কথা বলা হয়েছিল। জান্নাতের পথে প্রধান অন্তরায় কুফর ও শিরক। আলোচ্য আয়াতে কুফর ও শিরকের বিরুদ্ধে বর্ণনা করা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, কেউ কুফর ও শিরকে লিপ্ত হলে কিয়ামতের দিন নিন্দিত ও অসহায় হয়ে পড়বে। যেকোনো ধরনের শিরকি বিশ্বাস ও কর্মকাণ্ড মানুষের জন্য লজ্জা ও অপমানের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কেননা আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের তাঁর অনুগ্রহ ও রহমত থেকে দূরে রাখেন। আল্লাহর সঙ্গে শিরক করার অর্থ হলো, কোনো ব্যক্তিকে আল্লাহর সমকক্ষ মনে করা, তার কাছে প্রার্থনা করে কোনো কিছু আশা করা, তার ওপর চূড়ান্ত ভরসা করা, তার কাছে পরকালীন মুক্তির জন্য সুপারিশ চাওয়া, তার কাছে বিপদ মুক্তির জন্য ফরিয়াদ করা, আল্লাহর অবাধ্য হয়ে তার আনুগত্য করা, তার কাছ থেকে শরিয়তের বিধান গ্রহণ করা, তার নামে পশু জবেহ করা, মানত করা ইত্যাদি। পৃথিবীতে যত ধরনের অপরাধ আছে, আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা ইসলামের চোখে সবচেয়ে বড় অপরাধ। শায়েখ ইসমাঈল শহিদ দেহলভি (রহ.)-এর মতে, ‘শিরক হওয়ার জন্য কোনো মানুষকে হুবহু আল্লাহর সমকক্ষ স্থির করা শর্ত নয়। বরং এমন কোনো কাজ ও আমল করাই শিরক, যেগুলো আল্লাহ নিজ সত্তার জন্য নির্ধারিত করেছেন এবং সেগুলো ইবাদতের নিদর্শন বানিয়েছেন। যেমন—কাউকে সিজদা করা, কারো নামে জবাই করা, মানত করা ইত্যাদি।’ (রিসালাতুত তাওহিদ, পৃ. ৩২-৩৩)

আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তাঁর কোনো অংশীদার বা সহযোগী নেই। কোরআন ও হাদিসে আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলি সম্পর্কে যেসব বিশ্বাসের কথা বলা হয়েছে, ওই ধরনের বিশ্বাস সৃষ্টিজগতের কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর সম্পর্কে পোষণ করা শিরক। শিরকের ভয়াবহতা সম্পর্কে কোরআনে এসেছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না। এ ছাড়া অন্য সব গুনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৪৮)

শিরক আল্লাহর একত্ববাদের প্রতিপক্ষ। শিরক মহান আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহের শামিল। বিশ্বজগতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর সৃষ্টি। মানুষ আল্লাহর সঙ্গে যেসব বস্তু শরিক করে, সেগুলোও আল্লাহর সৃষ্টি। সৃষ্ট বস্তু মানুষের ভাগ্য নিয়ন্ত্রক হতে পারে না। সৃষ্ট বস্তুর ভাগ্য আল্লাহর কুদরতের হাতে। সুতরাং শিরকের ভিত্তি অসত্য, অন্ধবিশ্বাস ও অযৌক্তিকতার ওপর স্থাপিত। অন্যদিকে যেসব বস্তুকে আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা হয়, সেগুলো মানুষকে কোনো সাহায্য করতে পারে না। বিশেষ করে মানুষ যে মূর্তি বা প্রকৃতি পূজা করে, এগুলো নিজেদেরই রক্ষা করতে সক্ষম নয়। প্রশ্ন হলো, এগুলো কিভাবে মানুষকে সাহায্য করবে? এগুলো কিভাবে মানুষের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করবে? মহান আল্লাহ মানুষের একমাত্র ভাগ্য নিয়ন্ত্রক। ইরশাদ হয়েছে, ‘যিনি প্রত্যেক মানুষের কাজকর্মের পর্যবেক্ষক, তিনি কি তাদের সমান, যাদের তারা (আল্লাহর সঙ্গে) অংশীদার সাব্যস্ত করে? অথচ তারা আল্লাহর বহু শরিক (অংশীদার দাঁড়) করেছে...।’ (সুরা : রাদ, আয়াত : ৩৩)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ



মন্তব্য