kalerkantho


‘গণতান্ত্রিক ধারা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাচ্ছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ মে, ২০১৮ ০০:০০



‘গণতান্ত্রিক ধারা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাচ্ছে’

‘খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে হয়েছে। সব মিলিয়ে খুলনা সিটির ভোট খুব ভালো হয়েছে। কিছু অভিযোগ আছে, অভিযোগ থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। খুলনার এ নির্বাচনের ফলাফল, মানুষের অংশগ্রহণ এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমি খুব আশাবাদী যে এ দেশে গণতান্ত্রিক ধারাটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে যাচ্ছে।’

মঙ্গলবার রাতে টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের ‘রাজকাহন’ অনুষ্ঠানে ‘খুলনা নির্বাচন কেমন হলো?’ শীর্ষক আলোচনায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক এমপি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নবনীতা চৌধুরী।

বি এম মোজাম্মেল হক এমপি বলেন, ‘একসময় আমাদের দেশে ভোট ডাকাতি হতো, ভোট কারচুপি হতো। গুণ্ডারা মোটরসাইকেল নিয়ে বোমাবাজি করত; ভোটকেন্দ্র দখল, সিল কেড়ে নেওয়া, অন্য পোলিং এজেন্টদের মেরে বের করে দেওয়া হতো। খুলনা সিটি নির্বাচনে কিন্তু সেটি ছিল না।’ তিনি আরো বলেন, ‘ভোটগ্রহণ শেষে বিএনপি নেতা রিজভী বলেছেন, আওয়ামী লীগের কর্মীরা জাল ভোট দিয়েছে। কিন্তু কোনো নজির হাজির করতে পারেননি। উনি যদি মনগড়া কথা বলেন, স্বভাবগতভাবে অনর্গল মিথ্যাচার করেন—এটা কে রোধ করবে? প্রমাণ তো দেখাতে হবে। নির্বাচন কমিশন বলেছে, তিনটি কেন্দ্রে সমস্যা হওয়ায় সেখানে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এখন বিএনপি যদি বলতেই থাকে, সেটা কে থামাবে?’ তিনি আশাবাদী, দেশে নির্বাচন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করতে যাচ্ছে। খুলনায় রক্তপাতহীন নির্বাচন হওয়ায় সে আশা জেগেছে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন এক সঙ্গেই হওয়ার কথা ছিল। দুই ক্ষেত্রেই শুরুর দিকে বিএনপি যখন অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে গেছে তখন আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ যখনই গেছে, তখনই অ্যাকশন নেওয়া হয়েছে। খুলনায় রিটার্নিং অফিসারের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে অভিযোগ করার পর তাঁকে পর্যবেক্ষণের জন্য আরেকজনকে পাঠানো হয়। বিএনপি বলেছে, খুলনা পুলিশ কমিশনারকে বদলি করতে হবে, গাজীপুর পুলিশ সুপারকে বদলির কথা বলা হয়েছে। কিন্তু করা হলো না।

আলাল আরো বলেন, ‘হাইকোর্ট থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া নির্বাচনের কাজে সংশ্লিষ্ট কাউকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা যাবে না। আমরা খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু ভোটের দিন খবর পেলাম, একটি কেন্দ্রে ঢোকার সময় খুলনা যুবদল নেতা তুহিনকে সাদা পোশাকধারীরা নিয়ে গেছে। সে ওই কেন্দ্রের এজেন্ট ছিল। পথে পথে বাধা দেওয়া—সব তো আর সাংবাদিকদের ফলো করা সম্ভব নয়। বাসা থেকে অনেক এজেন্ট কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। তাই বিএনপির এজেন্ট না থাকাই স্বাভাবিক।’

বিএনপি নেতা বলেন, সরকার কৌশল পরিবর্তন করেছে। স্যাটেলাইটের যুগে লাঠিসোঁটা নিয়ে কেন্দ্র দখলের প্রয়োজন পড়ে না। কৌশল বদলেছে। সেই কৌশলের সঙ্গে রাষ্ট্রযন্ত্র যখন সংযুক্ত হয়ে যায়, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান যখন সরকারের মধ্যে বিলীন হয়ে যায়, তখন এ অবস্থা হবেই। এখন বিএনপির প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ নয়, রাষ্ট্রযন্ত্রকে বিএনপির বিপক্ষে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে পোলিং এজেন্টদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম থেকেই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না বলে যে আশঙ্কার কথা বিএনপি বলেছে, সেটাই বাস্তবে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপির স্বভাব মিথ্যাচার করা—এভাবে বলা ঠিক নয়। আওয়ামী লীগও করে, তার প্রমাণ আছে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি বলেন, খুলনা সিটিতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ভোটের ব্যাপারে সিরিয়াস ছিলেন বলে মনে হয় না। পার্টিও সিরিয়াস ছিল না। তাই কত ভোট পেয়েছেন সেটা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। কিন্তু বিএনপি যে অভিযোগগুলো করেছে সেগুলোর সব মিথ্যা তা বলব না। তবে বিএনপি চাইলে এগুলোর সায়েন্টিফিক ভিত্তি দেওয়া সম্ভব। যেমন—পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হলে রেজাল্ট শিটে তাঁদের স্বাক্ষর থাকবে না। কতগুলো কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্টের স্বাক্ষর নেই, তা বের করা সম্ভব। তিনি বলেন, ‘আমরা রংপুরের নির্বাচন নিয়ে অনেক শঙ্কার মধ্যে ছিলাম। নির্বাচনের সময় কেন্দ্রের বাইরে তরুণদের রেখে দিয়েছিলাম, কোনো অনিয়ম পেলে তার ছবি তুলে প্রচার করার জন্য। কিন্তু খুলনার নির্বাচনে সেই ধরনের কিছু দেখতে পাইনি। কোথাও পোলিং এজেন্টকে বের করে দিলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রার্থী সেখানে গিয়ে অন্যজনকে এজেন্ট নিয়োগ করতে পারেন। কিন্তু এসব কাজে বিএনপির ব্যর্থতা দেখা গেছে।’



মন্তব্য