kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধা রা বা হি ক

আল্লাহ সত্যবিমুখ সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



আল্লাহ সত্যবিমুখ সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না

১০৭. এটা (আল্লাহর ক্রোধ) এ জন্য যে তারা দুনিয়ার জীবনকে আখেরাতের ওপর প্রাধান্য দেয়। আল্লাহ সত্যবিমুখ সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না।

১০৮. এরাই তারা, যাদের হৃদয়, কান ও চোখে আল্লাহ মোহর মেরে দিয়েছেন। এরাই গাফিল (উদাসীন)।

১০৯. নিঃসন্দেহে এরা পরকালে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। (সুরা : নাহল, আয়াত : ১০৭-১০৯)

তাফসির : আগের আয়াতে আল্লাহ বলেন, কাফিরদের দুটি শ্রেণি রয়েছে।  প্রথম দলটি প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়ে বাহ্যিকভাবে কুফরির কথা উচ্চারণ করে, যদিও তারা প্রকৃত মুসলমান। আর দ্বিতীয় দলটি সরাসরি কাফিরদের দলভুক্ত। প্রকাশ্যে তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরোধিতা করে।

অবিশ্বাসীরা দুনিয়ার জীবনের প্রতি প্রচণ্ড মোহের কারণে আল্লাহ প্রদত্ত বিধান মেনে নিতে পারে না। তাদের কাছে পার্থিব সুখ ও সচ্ছলতাই মুখ্য। ফলে তাদের কাছে ধর্মীয় অনুশাসন খুব কঠিন মনে হয়। ধর্মীয় অনুশাসনকে তারা তাদের ভোগ-বিলাসিতার অন্তরায় মনে করে। ধর্মীয় অনুশাসন লাগামহীন ভোগ-বিলাসিতাকে প্রশ্রয় দেয় না। কাজেই ভোগবাদীরা যে ধর্মীয় অনুশাসনের বিরুদ্ধাচরণ করবে—এটাই স্বাভাবিক।

ঈমানদার বিশ্বাস করে পার্থিব জীবন ক্ষণস্থায়ী। পরকালের অনন্ত অসীম জীবনে এই জীবনের হিসাব হবে। সেখানে ভালো-মন্দের প্রতিদান দেওয়া হবে। তাই ঈমানদার সম্পদ অর্জনে আল্লাহর বিধি-নিষেধ মেনে চলে, সম্পদ ব্যয়েও সে আল্লাহর হুকুমের অনুসরণ করে। ঈমানদার দুনিয়াকে প্রয়োজনমতো ধারণ করে, কিন্তু দুনিয়া অর্জন কখনোই তার জীবনের লক্ষ্য হয় না। ঈমানদারের সামনে দুনিয়ার হাকিকত ও বাস্তবতা পরিষ্কার। দুনিয়ার হাকিকত কী—এ বিষয়ে অনেক কথা মানুষের মধ্যে প্রচলিত আছে। তবে এ বিষয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের যে জ্ঞান দিয়েছেন, তা-ই একমাত্র বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য। কারণ তিনিই এ জগতের সৃষ্টিকর্তা ও পরিচালক। তাঁর চেয়ে অধিক জ্ঞানী আর কেউ হতে পারে না। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা জেনে রেখো, দুনিয়ার জীবন ক্রীড়া-কৌতুক, শোভা-সৌন্দর্য, তোমাদের পারস্পরিক গর্ব-অহংকার এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে আধিক্যের প্রতিযোগিতা মাত্র। এর উপমা হলো বৃষ্টির মতো, যার উৎপন্ন ফসল কৃষকদের আনন্দ দেয়। তারপর তা শুকিয়ে যায়। ফলে তুমি তা হলুদ বর্ণের দেখতে পাও, অতঃপর তা খড়কুটায় পরিণত হয়...।’ (সুরা : হাদিদ, আয়াত : ২০)

দ্বিতীয় আয়াতে বলা হয়েছে, যাদের অন্তর দুনিয়া প্রেমে আবদ্ধ হয়ে গেছে, তাদের চোখ, কান ও অন্তরের উপলব্ধি করার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেছে। তারা অবস্তুগত আধ্যাত্মিক জগৎ সম্পর্কে উদাসীন। এরা সত্যবিমুখ।

বোধশক্তি দান করে, নবী-রাসুল পাঠিয়ে ও আসমানি গ্রন্থ নাজিল করে আল্লাহ মানুষকে হেদায়েতের পথে আহ্বান করেন। যারা হেদায়েতের পথে চলতে চায়, আল্লাহ তাদের জন্য হেদায়েতের পথে চলা সহজ করে দেন। আর যারা হেদায়েতের পথে চলতে চায় না, আল্লাহ তাদের জন্য সত্য গ্রহণের পথ রুদ্ধ করে দেন।

হেদায়েত ও গোমরাহি, কল্যাণ ও অকল্যাণ, ভালো ও মন্দ সব কিছুর পূর্ণ ক্ষমতা আল্লাহর। তবে তিনি মানুষ ও জিন জাতির সামনে ভালো-মন্দ ও বেঠিক-সঠিক পথ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছেন। যে এই ক্ষমতার সদ্ব্যবহার করবে, সে পুণ্য ও জান্নাতের অধিকারী হবে। আর যে এই ক্ষমতার অপব্যবহার করবে, সে আজাব ও জাহান্নামের অধিকারী হবে।

তৃতীয় আয়াতে বলা হয়েছে, এসব কাফির পরকালে সর্বতোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই ক্ষতিই চূড়ান্ত ক্ষতি। সে ক্ষতি অপূরণীয় ও অনন্তকালের।

 

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ

 



মন্তব্য