kalerkantho


এই সময়

ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক কোন পথে

তারেক শামসুর রেহমান

৮ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক কোন পথে

সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও পাকিস্তানকে কেন্দ্র করে একাধিক সংবাদের জন্ম হয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে একটি প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সংস্থা স্পুটনিক (Sputnik) আমাদের জানাচ্ছে, ভারত সাফল্যের সঙ্গে পারমাণবিক বোমা বহনযোগ্য অগ্নি-২ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। ওড়িশা রাজ্যের বালাসোরে অবস্থিত আবুল কালাম দ্বীপের ক্ষেপণাস্ত্রঘাঁটি থেকে এই পরীক্ষা চালানো হয়। অগ্নি-২ ক্ষেপণাস্ত্রটি এক হাজার ২৪২ মাইল দূরে অবস্থিত শত্রুঘাঁটিতে হামলা চালাতে সক্ষম। স্পুটনিক আমাদের আরো জানাচ্ছে যে ভারত অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে বর্তমানে গবেষণা করছে, যা কিনা সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপযোগ্য ও ছয় হাজার ২০০ মাইল দূরে অবস্থিত শত্রুর টার্গেটে আঘাত করতে পারে। দ্বিতীয় আরেকটি সংবাদ প্রকাশ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম The wire। সংবাদের শিরোনাম! At Uri ground zero of India-Pakistan tension, Villagers are fleeing in panic। অর্থাৎ উরি সীমান্ত এলাকায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। গ্রামবাসী পালাচ্ছে। তৃতীয় আরেকটি খবর গত ২৩ ফেব্রুয়ারির। ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারে বলেছেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশ থেকে লোক ঢোকানো হচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে পাকিস্তান। চীনের মদদে একটি ছায়াযুদ্ধের অংশ হিসেবে ভারতের ওই এলাকাকে ‘অস্থির’ করে তুলতেই এ কাজ করা হচ্ছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য। পাকিস্তান এই বক্তব্যকে ‘অলীক কল্পনা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। উপরোল্লিখিত প্রতিটি সংবাদের সঙ্গে ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কের প্রশ্নটি জড়িত। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চীন-পাকিস্তান ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে ভারত ভালো চোখে দেখছে না। চীন পাকিস্তানে তার প্রভাব বাড়াচ্ছে। এটাকে ভারত এক ধরনের নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখছে। ভারত মহাসাগরে চীন তার নৌ-তৎপরতা বাড়াচ্ছে। সর্বশেষ মালদ্বীপের ঘটনাবলিতে ভারত যাতে সেখানে নাক না গলায় সে ব্যাপারে চীন ভারতকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে। মালদ্বীপে একটি চীনা নৌঘাঁটি নির্মাণের কথাও শোনা যাচ্ছে। এমনকি পাকিস্তানেও চীন একটি ঘাঁটি করতে পারে! বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনে পাকিস্তান চীনের মুদ্রা ব্যবহার করবে—এমন একটি সংবাদও ছাপা হয়েছে অতি সম্প্রতি। চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ৬১টি দেশ নিয়ে ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ নামে যে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছেন, তাতে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশীদার। ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ বা ওবিওআরে ছয়টি অর্থনৈতিক করিডর আছে। এর একটি হচ্ছে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর। এই করিডর চীনের শিনজিয়াং প্রদেশের খাসগর থেকে ভারত মহাসাগরঘেঁষা পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের গাওদার সমুদ্রবন্দরকে সংযুক্ত করছে। এই করিডরে রেলপথ, স্থলপথ সংযুক্ত রয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ৬২ বিলিয়ন ডলার। এই করিডর খাসগর, গিলগিট, বেলুচিস্তান, ডেরা ইসমাইল খান ও গাওদারকে সংযুক্ত করছে। ভারতের আপত্তিটা এ কারণেই যে এই করিডর পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরের পাশ দিয়ে গেছে। আজাদ কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণভার পাকিস্তানের। এটা ভারত স্বীকার করে না। ভারত ওবিওআরে যোগও দেয়নি। পাঠক স্মরণ করতে পারেন, দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় প্রতিটি দেশই (বাংলাদেশসহ) এই ওবিওআরে যোগ দিয়েছে। একমাত্র ব্যতিক্রম ভারত। ভারত প্রথম থেকেই চীনের ভূমিকাকে সন্দেহের চোখে দেখছে। আর পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের বৈরিতা তো প্রায় ৭০ বছরের। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ছাত্ররা জানেন, ভারত মহাসাগরের ‘নিয়ন্ত্রণ’কে কেন্দ্র করে ভারত ও চীনের মধ্যে এক ধরনের ‘সূক্ষ্ম’ প্রতিযোগিতা অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে। ভারত মহাসাগর চীনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীনের জ্বালানি চাহিদা মেটানো হয় ভারত মহাসাগরের অনেক সমুদ্র রুট ব্যবহার করে। চীন এ অঞ্চলে একাধিক নৌঘাঁটি স্থাপন করেছে। ঠিক তেমনি ভারতও নৌঘাঁটি নির্মাণ করছে। যুক্তরাষ্ট্র চীনকে ‘ঘিরে ফেলার’ এক ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে! প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীন সফর করে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে আরো উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বটে; কিন্তু যুদ্ধবাজ স্ট্র্যাটেজিস্টদের একটা মহাপরিকল্পনা রয়েছে চীনকে ভেঙে ফেলার! সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে ভেঙে যাওয়ার পর চীন এখন তার অর্থনৈতিক শক্তি ও সামরিক শক্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে আঘাত করছে! পাঠক লক্ষ করলে দেখবেন, যুক্তরাষ্ট্র তার এশিয়া-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি ভারত মহাসাগর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করেছে। এর ফলে পুরো প্যাসিফিক ও ভারত মহাসাগর এলাকাকে এরা নাম দিয়েছে ইন্দো-প্যাসিফিক। যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের স্ট্র্যাটেজিতে ভারত একটি বড় ভূমিকা পালন করছে। এ ক্ষেত্রে ভারত-পাকিস্তান যে উত্তেজনা তার পেছনে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক একটি ভূমিকা পালন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের অবনতির পরিপ্রেক্ষিতে ভারত-পাকিস্তান মধ্যকার উত্তেজনা কতটুকু দায়ী, তা বিবেচনায় নিতে হবে। ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ক্রয় করছে। ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তিও রয়েছে।

ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বের ইতিহাস অনেক পুরনো। এই দ্বন্দ্বের কারণে তিন-তিনবার দেশ দুটি পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। এর মধ্যে কাশ্মীর নিয়ে যুদ্ধ হয়েছে দুই-দুইবার—১৯৪৭-৪৮ সালে একবার, আর ১৯৬৫ সালে দ্বিতীয়বার। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশ দুটি তৃতীয়বারের মতো যুদ্ধে জড়িয়ে গিয়েছিল। এর বাইরে কারগিলকে কেন্দ্র করে আরো একবার যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, যা কিনা জেনারেল মোশাররফকে ক্ষমতা দখল করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। পাকিস্তান-ভারত দ্বন্দ্ব, উত্তেজনা আর অস্ত্র প্রতিযোগিতা এ অঞ্চলের উন্নয়নের পথে অন্যতম অন্তরায়। ভারত ও পাকিস্তান পারমাণবিক শক্তির অধিকারী। ভারত পর পর দুইবার পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অন্যতম পারমাণবিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ওই ঘটনা পাকিস্তানকে পারমাণবিক কর্মসূচি গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। সিপরির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী পাকিস্তানের কাছে বর্তমানে ১৩৫টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে আর ভারতের রয়েছে ১২৫টি। ২০১৭ সালে উভয় দেশ ১০টি করে ওয়ারহেড তাদের পারমাণবিক শক্তিবহরে সংযুক্ত করে (Knoema January 23, 2018)। ভারত এরই মধ্যে রাশিয়ার কাছ থেকে ৩৯ হাজার কোটি রুপি ব্যয়ে পাঁচটি আকাশ প্রতিরক্ষার মিসাইল এস-৪০০ কিনতে চূড়ান্ত আলোচনা শুরু করেছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরেই এ চুক্তি চূড়ান্ত করতে চায় তারা। তাহলে পরবর্তী ২৪ থেকে ৫৪ মাসের মধ্যে এসব অস্ত্র ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী সরবরাহ শেষ হবে। ৩০ কিলোমিটার উঁচু দিয়ে এই মিসাইল সর্বোচ্চ ৪০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এর আগে জানুয়ারিতে (২০১৮) ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ভারত সফরের সময় ভারত সাত কোটি ডলারের অস্ত্র ক্রয় চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এস-৪০০ মধ্যপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল বহনে সক্ষম। তাদের মতে, বহুমুখী ব্যবহার উপযোগী এস-৪০০ এ অঞ্চলের প্রতিরক্ষাব্যবস্থাই পাল্টে দেবে। মিসাইলটি পাকিস্তানের স্বল্পপাল্লার পারমাণবিক মিসাইল নসরকেও নিষ্ক্রিয় করতে পারবে। রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের এই অস্ত্র চুক্তি নতুন নয়। তবে নিঃসন্দেহে এই চুক্তি রাশিয়ার সঙ্গে অন্যতম বড় চুক্তি। এর আগে এক হাজার ২০০ কোটি ডলার দিয়ে যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ বিক্রমাদিত্য কিনেছিল ভারত।

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী ভারত তার প্রতিরক্ষার জন্য বছরে খরচ করে মাথাপিছু ১০ ডলার আর পাকিস্তান করে ২৬ ডলার। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ভারত খরচ করে মাথাপিছু ১৪ ডলার আর পাকিস্তান খরচ করে ১০ ডলার। পাকিস্তান ও ভারত যে পরিমাণ অর্থ সামরিক খাতে ব্যয় করে, তা দিয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা সম্ভব। যেমন বলা যেতে পারে, একটি ট্যাংকের যে দাম, ওই পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে প্রাণঘাতী অসুখবিসুখ ঠেকানোর জন্য ৪০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া সম্ভব। একটি ট্যাংকের দাম ৪০ লাখ মার্কিন ডলার। আর একটি শিশুকে প্রাণঘাতী ছয় রোগের বিরুদ্ধে টিকা দিতে খরচ হয় মাত্র এক ডলার। একটি মিরেজ ২০০০ যুদ্ধবিমানের (যা ভারতীয় বিমানবাহিনীতে সংযুক্ত হয়েছে। দাম ৯ কোটি মার্কিন ডলার। অথচ একটি শিশুকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক বছর পড়ালেখার জন্য গড়পড়তা খরচ হয় ৩০ ডলার। মিরেজ ২০০০ যুদ্ধবিমান কেনা না হলে ওই অর্থে ৩০ লাখ শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার খরচ মেটানো সম্ভব। আনুষঙ্গিক সাজসজ্জাসহ আধুনিক একটি ডুবোজাহাজের দাম ধরা হয় ৩০ কোটি মার্কিন ডলার। অন্যদিকে এক বছরের জন্য একজনকে সুপেয় পানি সরবরাহ করতে মোটামুটি পাঁচ ডলারের মতো ব্যয় হয়। অর্থাৎ একটি ডুবোজাহাজ কেনা মানে ছয় কোটি লোককে সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত করা। ভারত ও পাকিস্তানে দারিদ্র্য আছে। শিশুরা অপুষ্টির শিকার হচ্ছে। মায়েরা সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় মারা যাচ্ছেন। ভারতে কৃষক ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে আত্মহত্যা করছে। অথচ এই দেশ দুটিতে সামাজিক খাতে অগ্রগতি হয়েছে অতি সামান্যই। দেশ দুটি সামরিক খাতে ব্যয় বরাদ্দ বাড়িয়েই চলেছে। ফলে উত্তেজনা থাকবেই। চির বৈরী এই দেশ দুটির মধ্যে অস্ত্র প্রতিযোগিতা কোনো ভালো খবর নয়। গত দু-তিন বছর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ করা যায়নি। ১৩ ডিসেম্বর (২০০১) ভারতীয় পার্লামেন্টে আত্মঘাতী বোমা হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। ওই হামলায় পাঁচজন হামলাকারীসহ ১৩ জন নিহত হয়েছিল। ভারত ওই হামলার জন্য কাশ্মীরি জঙ্গিগোষ্ঠী ‘লস্কর-ই-তৈয়বা’ এবং ‘জইশ-ই-মোহাম্মদ’-কে দায়ী করেছিল। এবং এই দুটি জঙ্গি সংগঠনকে মদদ দেওয়ার জন্য পাকিস্তানকে অভিযুক্ত করেছিল। ওই ঘটনার পর থেকে দেশ দুটির মধ্যে আস্থার সম্পর্ক আর ফিরে আসেনি। পাঠক স্মরণ করতে পারেন, সাবেক ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ির লাহোর সফর (১৯৯৯) ও সাবেক পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের আগ্রা সফরের (২০০১) পর একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল যে দেশ দুটি আরো কাছাকাছি আসবে; কিন্তু তা হয়নি। বরং দেশ দুটির মধ্যে অবিশ্বাস বাড়ছে। পাকিস্তান মনে করে, ভারত বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উসকে দিচ্ছে। অন্যদিকে ভারত মনে করে, পাকিস্তান সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন করছে এবং তাদের দিয়ে ভারতের ভেতরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করাচ্ছে! অতি সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গিও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। আফগানিস্তানে সন্ত্রাসীদের পাকিস্তান মদদ দিচ্ছে—এ ধরনের অভিযোগ প্রকাশ্যেই উচ্চারিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, পাকিস্তান তালেবান ও হাক্কানি নেটওয়ার্ককে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পাকিস্তানকে শাস্তি দেওয়ারও হুমকি দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের অবস্থান এখন ভারতের পক্ষে। সব মিলিয়ে পাক-ভারত উপমহাদেশে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

লেখক : অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

tsrahman09@gmail.com



মন্তব্য