kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো। ধারাবাহিক

হেদায়েতের জন্য সত্যের সন্ধান অব্যাহত রাখতে হবে

৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



হেদায়েতের জন্য সত্যের সন্ধান অব্যাহত রাখতে হবে

১০৪. যারা আল্লাহর আয়াতে বিশ্বাস করে না, আল্লাহ তাদের হেদায়েত করেন না। তাদের জন্য আছে ভয়াবহ শাস্তি। ১০৫. যারা আল্লাহর আয়াতে বিশ্বাস করে না, তারাই মিথ্যা উদ্ভাবন করে। প্রকৃতপক্ষে এরাই মিথ্যাবাদী। (সুরা : নাহল, আয়াত : ১০৪-১০৫)

তাফসির : আগের আয়াতে কোরআন বিষয়ে কাফিরদের একটি অপবাদের অপনোদন করা হয়েছিল। সে আলোচনার উপসংহার টানা হয়েছে আলোচ্য দুই আয়াতে। প্রথম আয়াতের মূলকথা হলো, যারা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ হওয়া আয়াতে বিশ্বাস করে না ও কোরআনের ওপর ঈমান আনার ইচ্ছা পোষণ করে না, মহান আল্লাহ তাদের হেদায়েত করেন না। তাদের পক্ষে সঠিক পথের দিশা পাওয়া সম্ভব নয়। কেননা হেদায়েত গ্রহণের যোগ্যতা তাদের মধ্যে নেই। এদের জন্য পরকালে কঠিন শাস্তি রয়েছে।

এখানে একটি প্রশ্ন জাগে যে আল্লাহ যদি হেদায়েত না করেন, তাহলে বান্দার কী দোষ! ঈমান না আনা মানুষের জন্য কেন অপরাধ বিবেচিত হবে, যখন আল্লাহ নিজেই তাকে হেদায়েত করছেন না? এ প্রশ্নের জবাব আয়াতের প্রথম অংশেই আছে। সেখানে বলা হয়েছে, যারা আল্লাহর আয়াতে ঈমান আনে না, অর্থাৎ ঈমান আনার চেষ্টা করে না, আল্লাহ তাদের হেদায়েত করেন না। সুতরাং ঈমান না আনা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে ঈমানের পথ অন্বেষণ না করার কারণে, সত্যের সন্ধান না করার কারণে। এর বিপরীতে কেউ যদি ঈমান ও সত্য পথের সন্ধান করতে থাকে, তাহলে আল্লাহ তাআলা তাকে পথ দেখিয়ে দেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা আমার উদ্দেশ্যে সংগ্রাম করে, আমি অবশ্যই তাদের আমার পথে পরিচালিত করব। আল্লাহ অবশ্যই সৎকর্মপরায়ণদের সঙ্গে থাকেন।’ (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ৬৯)

আল্লাহ ইচ্ছা করলে মানুষকে শুরু থেকেই এমনভাবে সৃষ্টি করতে পারতেন, যেসব মানুষ সৎপথ, ন্যায় ও সততা ছাড়া আর কিছুই চিনত না, যেভাবে তিনি ফেরেশতাদের সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু আল্লাহ এটা চাননি। তিনি মানুষের মনে হেদায়েত ও গোমরাহি উভয় দিকে ধাবিত হওয়ার যোগ্যতা ও আগ্রহ ঢুকিয়ে তাদের পরীক্ষা করতে চেয়েছেন। যে ব্যক্তি হেদায়েতের দিকে ধাবিত হবে, তিনি তাকে হেদায়েত লাভে সাহায্য করেন। আর যে ব্যক্তি গোমরাহির দিকে ধাবিত হবে, তিনি তাকে সেদিকে যাওয়ার সুযোগ করে দেন। এই ইচ্ছা অনুসারে জগৎ পরিচালনা করাই আল্লাহর রীতি। তবে এটা সত্য যে আল্লাহ চাইলে পৃথিবীর সব মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারেন। এ কথা কোরআনে বহু স্থানে এসেছে। কিন্তু এরই সঙ্গে তিনি তাদের পরীক্ষা করতে চেয়েছেন। তাই তিনি মানুষকে ভালো-মন্দ গ্রহণের ইচ্ছাশক্তি দিয়ে একে তাঁর নিজ ইচ্ছার অধীন করে দিয়েছেন। ফলে দুনিয়ার পরীক্ষাকেন্দ্রে তিনি কাউকে জোরপূর্বক ঈমান আনতে বাধ্য করেন না। ইরশাদ হয়েছে, ‘দ্বিন গ্রহণে জোর-জবরদস্তি নেই। সত্যপথ ভ্রান্তপথ থেকে স্পষ্ট হয়ে গেছে...।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৫৬)

সুরা নাহলের ১০৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছিল, অবিশ্বাসীরা দাবি করে যে ‘কোরআন মানবরচিত। মুহাম্মদ (সা.) এক অনারবি দাসের কাছ থেকে এ কোরআন শিখেছেন (নাউজুবিল্লাহ)।’ এর জবাবে ১০৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যারা আল্লাহর কোরআনের ওপর ঈমান আনে না, তারা বিভিন্ন মিথ্যা উদ্ভাবন করে।

মুহাম্মদ (সা.) মিথ্যাবাদী নন। কোরআন মানবরচিত গ্রন্থ নয়। কোরআন আল্লাহর বাণী। এরাই বরং মিথ্যাবাদী।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য