kalerkantho


‘সীমান্তে মিয়ানমারের সেনা মোতায়েন উদ্বেগের’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



‘সীমান্তে মিয়ানমারের সেনা মোতায়েন উদ্বেগের’

নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘১৯৯২ সালের দিকে আমাদের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের জন্য মিয়ানমার বেশ জোরাজুরি করত। অথচ এখন পরিস্থিতি একটু উল্টো হয়েছে। এখন আমরা পতাকা বৈঠকের কথা বলছি। তার কারণ ১৯৯২ সালের পর মিয়ানমারের সামরিক শক্তি প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের এয়ারফোর্স খুব স্ট্রং। নেভির শক্তি প্রায় আমাদের সমান সমান। তারাও চায়না থেকে একই ক্লাসের সাবমেরিন জোগাড় করেছে। তার মানে তাদের একটি শক্তি বৃদ্ধি হচ্ছে। তাদের দেশে ৭০ বছর ধরে অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ চলছে। রাজনৈতিক দিক থেকেও দেশটি সামরিক নিয়ন্ত্রিত। মিয়ানমার একটি উগ্র বুড্ডিস্ট জাতি। ১৯৬২ সাল থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বাংলাদেশি হিসেবে আখ্যায়িত করে উৎখাত চালাতে শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। সেই থেকে এখনো চলছে।’ তিনি রবিবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের টক শো রাজকাহনে ‘মিয়ানমার কী চায়?’ শীর্ষক আলোচনায় এসব কথা বলেন। এটি সঞ্চালনা করেন নবনীতা চৌধুরী।

এম সাখাওয়াত হোসেন আরো বলেন, সম্প্রতি মিয়ানমার সীমান্তে সেনা মোতায়েন করার দুটি কারণ হতে পারে। একটি হলো তারা সিগন্যাল দিচ্ছে, আমরা যে রোহিঙ্গাদের বের করে দিয়েছি, তাদের ফেরত নেব কিভাবে? দ্বিতীয়ত, দেশটিতে রাখাইনদের নিয়েও একটি অস্থিরতা চলছে। এই অস্থিরতা মোকাবেলা করার জন্যও হয়তো সেনা জোরদার করছে। তিনি বলেন, ‘যে আর্মি রোহিঙ্গাদের ধর্ষণ, নির্যাতন করল তারা তাদের আবার ফেরত নেবে—এটা কি আশা করতে পারি? আর আর্মির ওপর রাজনৈতিক দলের এমন কোনো চাপ নেই যে তারা বাধ্য হবে। বরং আর্মিই রাজনৈতিক দলকে চাপ দিচ্ছে।’

আলোচনায় অংশ নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর ইসফাক ইলাহী চৌধুরী বলেন, সীমান্তে মিয়ানমারের সেনা মোতায়েন অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়। এর প্রতিবাদও বাংলাদেশ সরকার করেছে। তারা বলেছে, সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পতাকা বৈঠক যেকোনো সময়ই হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এ কথা বলার সুযোগ নেই যে বাংলাদেশের সামরিক শক্তি মিয়ানমারের চেয়ে পেছনে পড়ে আছে। সামরিক দিক থেকে বাংলাদেশ যথেষ্ট শক্তিশালী। বাংলাদেশ এ মুহূর্তে সামরিক খাতে খরচ করছে তিন বিলিয়ন ডলার। মিয়ানমারের সীমান্ত অনেক বেশি দেশের সঙ্গে। আমাদের তো শুধু ভারত আর মিয়ানমারের সঙ্গে। এই দুটি সীমান্তে কোনো বিরোধ নেই। আর মিয়ানমারের সীমান্তে বিরোধ লেগেই থাকে। তারা খরচ করে দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার।’ তিনি আরো বলেন, ‘মিয়ানমার যেভাবে তাদের সীমান্তে সেনা সমাবেশ ঘটাচ্ছে, আমাদেরও সেনা সমাবেশ করা যেতে পারে। তাদের হেলিকপ্টার যেভাবে আমাদের ক্যামেরায় ধরা পড়ছে, সীমান্ত অতিক্রম না করে আমাদের হেলিকপ্টারও তাদের ক্যামেরায় ধরা পড়ুক। তবে কোনো অবস্থায়ই তাদের উসকানিতে পা দেওয়া যাবে না। আমরা শান্তি বজায় রেখে পরিস্থিতির সমাধান চাই। তবে এর অর্থ কখনোই এই নয় যে আমরা সামরিক দিক থেকে পিছিয়ে আছি।’

সাবেক রাষ্ট্রদূত অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল অনুপ কুমার চাকমা বলেন, ‘মিয়ানমার চায় রোহিঙ্গারা যাতে বাংলাদেশে ফিরে আসুক। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ৯০ শতাংশ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে এসেছে। বাকিদের মধ্যে এক লাখ ২০ হাজার আইডিবি ক্যাম্পে বন্দি অবস্থায় আছে। তারা যা চায় তা-ই হচ্ছে। সম্প্রতি সেনা সমাবেশ ঘটিয়ে তারা জানাতে চাচ্ছে যে যারা বাংলাদেশে এসেছে তারা যেন ফিরে যাওয়ার জন্য তালিকাভুক্ত না হয়। পরিকল্পিতভাবে তারা এই প্ররোচনা দিচ্ছে। আমাদের দেশেরও অনেক এনজিও রোহিঙ্গাদের তালিকাভুক্ত না হওয়া এবং ফিরে না যাওয়ার জন্য বলছে। শুধু তা-ই নয়, রোহিঙ্গাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিও হচ্ছে। মিয়নমারের সঙ্গে সুর মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বলছে যে বাংলাদেশে আইসিস আছে। হলি আর্টিজান তার একটি বড় উদাহরণ।’ তিনি বলেন, মিয়ানমার নানা অজুহাতে প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়া বিলম্ব করছে। কারণ যতই দেরি হবে ততই তাদের লাভ।



মন্তব্য