kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

আরবি ভাষার বৈশিষ্ট্য

৫ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



আরবি ভাষার বৈশিষ্ট্য

১০৩. আমি (আল্লাহ) তো জানি যে সত্যি তারা (কাফিররা) বলে, তাকে [মহানবী (সা.)] শিক্ষা দেয় একজন মানুষ। তারা যার কথা আরোপ করে, সে তো আরবিভাষী নয়, অথচ কোরআনের ভাষা বিশুদ্ধ আরবি। [সুরা : নাহল, আয়াত : ১০৩ (তৃতীয় পর্ব)]

তাফসির : এ আয়াতের মূল বক্তব্যের সঙ্গে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে কোরআনের ভাষা বিশুদ্ধ আরবি। কোরআনের জন্য আরবি ভাষা চয়ন করার বিভিন্ন কারণ আছে। আরবি ভাষা উচ্চারণের দিক দিয়ে অন্য ভাষার মধ্যে বিশেষ বৈশিষ্ট্য বহন করে। আরবি হরফ উচ্চারণের উৎপত্তিস্থল দুই ঠোঁট থেকে কণ্ঠনালির শেষ ভাগ পর্যন্ত। আরবি ছাড়া বিশ্বে অনেক অক্ষরবিশিষ্ট ভাষা আছে, যেগুলোর উচ্চারণের উৎপত্তিস্থল মুখের সংকীর্ণ জায়গার মধ্যে সীমাবদ্ধ। আরবি বর্ণের উচ্চারণের মধ্যেও শব্দের অর্থের ব্যবধান আছে। তাই কোরআন ও হাদিসের শব্দের উচ্চারণ সঠিকভাবে করতে না পারলে অর্থে তারতম্য ঘটে। ফলে পাঠক গুনাহগার হয়। আরবি বর্ণ উচ্চারণের উৎপত্তিস্থল ১৪০০ বছর ধরে আজও অবিচল আছে, যা অন্য কোনো ভাষায় দেখা যায় না।

শব্দাবলি ও সমার্থবোধক শব্দাবলির দিক থেকে আরবি অভিধান সবচেয়ে সমৃদ্ধ। কেননা আরবি হলো শব্দের ব্যুৎপত্তির ভাষা। যেমন—ফরাসি শব্দের সংখ্যা ২৫ হাজার, ইংরেজি শব্দের সংখ্যা এক লাখ আর আরবি মূল অক্ষর বা মাদ্দাহভিত্তিক শব্দের সংখ্যা চার লাখ। প্রসিদ্ধ আরবি অভিধান ‘লিসানুল আরব’ গ্রন্থে ৮০ হাজার মাদ্দাহভিত্তিক শব্দ উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো থেকে আরো অনেক শব্দ বের করা যায়।

আরবি শব্দ, বিশেষ করে ক্রিয়া তিন বর্ণের কমে গঠিত হয় না। আবার একটি ক্রিয়া তিন থেকে ছয়টি বর্ণ দ্বারা গঠিত হতে পারে। তেমনি অক্ষর বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অর্থের মধ্যেও আধিক্যের প্রভাব বিস্তার করে।

আরবি ভাষার কোনো শব্দ উচ্চারণ কঠিন হলে প্রয়োজনে কোনো অক্ষর ফেলে দেওয়া যায়। আবার প্রয়োজনে এক অক্ষর অন্য অক্ষরের মধ্যে প্রবেশ করানো যায়।

সমার্থক শব্দের আধিক্য আরবি ভাষার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আরবি ভাষা জীবন্ত থাকার পেছনে এটিও একটি কারণ যে মনের মাধুরী মিশিয়ে একই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন অসংখ্য শব্দ ব্যবহার করা যায়। যেমন—আরবি অভিধানের সর্বাধিক প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘লিসানুল আরবে’র তথ্য মতে, ‘আসাল’ শব্দের অর্থ মধু। আরবিতে এর সমার্থক শব্দ রয়েছে ৮০টি। ‘সাইফ’ শব্দের অর্থ তরবারি। আরবিতে এর সমার্থক শব্দ রয়েছে ১০টি।

প্রখ্যাত আরবি সাহিত্যিক ড. জুরজি জাইদান লিখেছেন, প্রতিটি ভাষার সমার্থক শব্দ আছে। কিন্তু আরব জাতি এ বিষয়ে সব জাতির চেয়ে এগিয়ে গেছে। আরবিতে ‘সানাহ’ শব্দের অর্থ বছর। এর জন্য ২৪টি শব্দ ব্যবহার করা যায়। ‘নূর’ শব্দের অর্থ আলো। এর জন্য ২১টি শব্দ ব্যবহার করা যায়। ‘জলাম’ শব্দের অর্থ অন্ধকার। এর জন্য ৫২টি শব্দ ব্যবহার করা যায়। সূর্যের আরবি হলো ‘শামস’। এর সমগোত্রীয় ২৯টি শব্দ রয়েছে। ‘সাহাব’ শব্দটি আরবি। এর অর্থ মেঘ। আরবিতে মেঘ বোঝাতে ৫০টি শব্দ ব্যবহার করা যায়। বৃষ্টির আরবি ‘মাত্বার’। বৃষ্টি বোঝাতে আরবিতে ৬৪টি শব্দ ব্যবহার করা যায়। পানির জন্য ১৭০টি শব্দ, উটের জন্য ২৫৫টি শব্দ ও সিংহ বোঝাতে ৩৫০টি শব্দ ব্যবহার করা সম্ভব। (তারিখু আদাবিল লুগাতিল আরাবিয়্যা, পৃষ্ঠা ৪৫)

আরবি ভাষার আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো, এর ভাষাভাষীরা ১৪০০ বছর আগের বা তারও পরের কিংবা আরো প্রাচীন সাহিত্য পড়তে ও বুঝতে সক্ষম। এটি অন্য ভাষায় অসম্ভব।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য