kalerkantho


‘মার্চ মাস মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্ব’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



‘মার্চ মাস মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্ব’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেছেন, ইতিহাসের আলোকে মূল্যায়ন করলে বলতে হয়, ১৯৭১ সালের মার্চ মাস ছিল মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্ব। পটভূমিটা তৈরি হয়েছিল ছয় শতকে শশাঙ্ক যখন ৫৯৪-তে পশ্চিমবঙ্গে গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করলেন, স্বাধীনতার সূচনা ওই থেকে। ১৯৪৭ সালে যেদিন পাকিস্তান সৃষ্টি হলো সেদিন থেকেই বাংলাদেশের বীজ বপন করা হয়েছিল। শুক্রবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ইনডিপেনডেন্টের টক শো ডেটলাইন ঢাকা অনুষ্ঠানে ‘রক্তঝরা মার্চ’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ১ মার্চ মোটামুটি একটি প্রস্তুতি ছিল, ৩ মার্চ ঢাকায় সংবিধান সভার অধিবেশন শুরু হবে এবং আওয়ামী লীগের একটি প্রস্তুতি হচ্ছে ছয় দফা ও ১১ দফার ভিত্তিতে একটি নতুন সংবিধান তৈরি করা হবে। কিন্তু হঠাৎ বজ্রপাতের মতো দুপুরে ইয়াহিয়া খানের ভাষণ প্রচার করা হলো যে ওই অধিবেশন স্থগিত। খবর পেয়ে ছাত্রদের অনেকে মিছিল নিয়ে পূর্বাণী হোটেলের দিকে যায়। সেখানে বঙ্গবন্ধু পার্লামেন্টারি বোর্ডের একটি মিটিং করছিলেন। সেখান থেকে তিনি বেরিয়ে এসে ঘোষণা দিলেন যে ২ থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত আধাবেলা হরতাল হবে। আর তিনি পরবর্তী দিকনির্দেশনা দেবেন ৭ মার্চ। ২ তারিখ সকাল ১১টার আগেই বটতলা মোটামুটি ভর্তি হয়ে গিয়েছিল। জয় বাংলা স্লোগান চলছিল। আরেকটি স্লোগান ছিল, ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর’। ১১টার পর কলাভবনের গেটে দেখলাম ছাত্রলীগের জাহিদ নামে একজন পতাকা নিয়ে আসছে। আ স ম আবদুর রব জমায়েত থেকে বেরিয়ে এসে তার হাত থেকে পতাকাটা নিলেন। কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই পতাকাটা নিয়ে তিনি ছাদে চলে গেলেন। সেই সময় জমায়েতের সভাপতিত্ব করছিলেন নূরে আলম সিদ্দিকী। শাজাহান সিরাজ ও আবদুল কুদ্দুস মাখন ছিলেন। তবে পতাকাটা হাতে ধরে দোলাতে লাগলেন আ স ম আবদুর রব। একটি দেশ হয়নি; কিন্তু তার পতাকা আকাশে উড়ছে—এটা এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। তখন ছাত্র-জনতার যে প্রতিক্রিয়া ছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। পতাকা নিয়ে মিছিল বের করে ছাত্র-জনতা। খণ্ড খণ্ড সংঘর্ষও হয়। গুলিতে দুজন নিহত হয়।

১ মার্চ রাতেই স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ নামে একটি সংগঠন তৈরি হয়। সেই সংগ্রাম পরিষদ ৩ মার্চ পল্টনে একটি শোভাযাত্রার আয়োজন করেছিল। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই শোভাযাত্রায় শাজাহান সিরাজ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করলেন। ইশতেহারে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সব কথা বলা ছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশের চৌহদ্দি কী হবে, এই পতাকা বাঙালির পতাকা হবে, জয় বাংলা বাঙালির স্লোগান হবে, বঙ্গবন্ধু আমাদের মুক্তিসংগ্রামের সর্বাধিনায়ক। সব কিছু বলা হয়েছিল। সে সময় মুহুর্মুহু স্লোগান হয় যে বীর বাঙালি অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর। ২ তারিখে পতাকা উত্তোলন, ৩ তারিখে ইশতেহার পাঠ, আর ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণ দিলেন বঙ্গবন্ধু। এভাবেই স্বাধীনতার পটভূমি তৈরি হয়।

 



মন্তব্য