kalerkantho


পবিত্র কোরআনের । আলো ধা রা বা হি ক

কোরআন ঈমানদারদের অন্তর সুদৃঢ় করে

১ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



কোরআন ঈমানদারদের অন্তর সুদৃঢ় করে

১০২. বলে দাও, তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে পবিত্র আত্মা [রুহুল কুদুস জিবরাইল (আ.)] সত্যসহ কোরআন নিয়ে এসেছে, ঈমানদারদের (হৃদয়কে) অধিকতর দৃঢ় করার জন্য। আর মুমিনদের জন্য তা পথনির্দেশ ও সুসংবাদস্বরূপ। (সুরা : নাহল, আয়াত : ১০২)

তাফসির : আগের আয়াতে কোরআনের বিধান পরিবর্তন নিয়ে কাফিরদের আপত্তির বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছিল। ‘রাসুল (সা.) নিজের ইচ্ছামতো কোরআনে পরিবর্তন এনেছেন’ বলে কাফিররা অপবাদ দিয়েছিল। এ আয়াতে কাফিরদের সে অপবাদের জবাব দেওয়া হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, কোরআন মুহাম্মদ (সা.)-এর রচিত গ্রন্থ নয়। কোরআন আল্লাহর কালাম। আল্লাহর পক্ষ থেকে শ্রেষ্ঠ ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে মহানবী (সা.)-এর ওপর তা অবতীর্ণ করা হয়েছে। এ কোরআনে কোনো ধরনের পরিবর্তন বা পরিবর্ধন হয়নি। যদি কোনো নির্দেশে সামান্য পরিবর্তন এসে থাকে, তা করা হয়েছে মুমিনদের কল্যাণে। এর মাধ্যমে তারা অন্তরে স্বস্তি অনুভব করে। তাদের মনোবল ও ঈমান বৃদ্ধি পায়।

আলোচ্য আয়াতে পবিত্র কোরআনের তিনটি বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কোরআন মনোবল বৃদ্ধিকারী, পথনির্দেশক ও সুসংবাদস্বরূপ। এই তিনটি বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ঈমানদার বা মুমিন শব্দ জুড়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কোরআন গোটা বিশ্ববাসীর জন্য অবতীর্ণ হলেও এর থেকে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয় ঈমানদাররা।

এ আয়াতে ওহি, বিশেষত কোরআন নিয়ে জিবরাইল (আ.)-এর আগমনের কথা বলা হয়েছে। ওহি নিয়ে জিবরাইল (আ.) আদম (আ.)-এর কাছে ১২ বার এসেছেন। ইদরিস (আ.)-এর কাছে চারবার এসেছেন। নুহ (আ.)-এর কাছে ৫০ বার এসেছেন। ইবরাহিম (আ.)-এর কাছে ৪২ বার এসেছেন। মুসা (আ.)-এর কাছে ৪০০ বার এসেছেন। ঈসা (আ.)-এর কাছে ১৩ বার এসেছেন। ইয়াকুব (আ.)-এর কাছে চারবার এসেছেন। আইয়ুব (আ.)-এর কাছে ৩০ বার এসেছেন। আর হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে ২৪ হাজারবার এসেছেন। (সূত্র : আল ইতকান ফি উলুমিল কোরআন)

কোরআন মহান আল্লাহর কালাম। আসমানি ধর্মগ্রন্থগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ পবিত্র কোরআন। এই কোরআন নাজিলের জন্য আল্লাহ তাআলা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মহামানব মুহাম্মদ (সা.)-কে নির্বাচিত করেছেন। এ কিতাব সারা বিশ্বের সব কিছুর ওপর আলোকপাতকারী। এ মহাগ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা এর মধ্যে আলোচিত বিষয়াদির তুলনায় অতি অল্প। মানুষ এসব বিষয় নিয়ে লিখতে চেষ্টা করলে এর পৃষ্ঠাসংখ্যা হতো সীমাহীন। এর প্রতিটি ছত্রে রয়েছে জ্ঞান-বিজ্ঞানের রহস্যভাণ্ডার। রয়েছে যুক্তি, প্রমাণ ও প্রভাবপূর্ণ কথার সমারোহ; যা এর দশ গুণ কোনো গ্রন্থের মধ্যেও সংকুলান হয় না। বরং তার থেকেও বহু বহু গুণ বড় পুস্তকে এসব বিষয় বর্ণনা করা সম্ভব নয়। এ মহাগ্রন্থের যেকোনো আয়াতের অর্থ, তথ্য ও বিভিন্ন বিষয়ের ওপর যে ব্যাপক আলোকপাত দেখা যায়, তার নজির অন্য কোনো গ্রন্থের ক্ষেত্রে দেখা যায় না। এর প্রভাব বিস্তারকারী গুণ এত ব্যাপক, যা পরিমাপ করা সম্ভব নয়। এর একটি হরফ পাঠ করলে ন্যূনতম ১০টি নেকি পাওয়া যায়। এ কোরআন নিয়ে হাজারো ব্যাখ্যাগ্রন্থ, সহায়ক পুস্তিকা ও তাফসিরের কিতাব রচিত হয়েছে, তবু কেউ এর সবটুকু জ্ঞান আয়ত্ত করতে পারেনি। কোরআনের অফুরন্ত জ্ঞানভাণ্ডার দিন দিন প্রতিভাত হচ্ছে। দিন যতই গড়াচ্ছে কোরআনের নিত্যনতুন রহস্য ততই উন্মোচিত হচ্ছে।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য