kalerkantho


‘দুর্ঘটনার বিচার হতে দেখছি না’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



‘দুর্ঘটনার বিচার হতে দেখছি না’

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘বড় কোনো সড়ক দুর্ঘটনা হলেই স্বাভাবিকভাবে সবাই নড়াচড়া করে। বড় দুর্ঘটনার পর আমরা তদন্ত করে থাকি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় দুর্ঘটনার মূল কারণ বেশি গতি। তাই মহাসড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ব্যাপারে চালকদের সচেতন হতে হবে।’

সফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময় টিভির টক শো আজকের সম্পাদকীয় অনুষ্ঠানে ‘অনিরাপদ মহাসড়ক’ শীর্ষক আলোচনায় এসব কথা বলেন। এটি সঞ্চালনা করেন ওমর ফারুক।

সফিকুল ইসলাম আরো বলেন, জাতীয় মহাসড়ক যত বাড়বে, সেখানে কম গতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেন থাকবে। এটা একটু নিচু হবে। বর্তমানে জয়দেবপুর মহাসড়কে পরীক্ষামূলকভাবে এ রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। ধাপে ধাপে অন্য সড়কে হবে। ২০২৫ সালের মধ্যে সব মহাসড়কে এ ধরনের ব্যবস্থা হয়ে যাবে বলে মনে করি। নসিমন-করিমন ২২টি মহাসড়কে নিষিদ্ধ। প্রাইভেট সেক্টরে এসব যানবাহন তৈরি হচ্ছে। মানুষের প্রয়োজনে মহাসড়কের বাইরে কম গতির রাস্তায় এগুলো চলতে পারে, তবে তা নিয়ম-কানুন মেনেই চলতে হবে। বিকল্প যানবাহনের ব্যবস্থা করতে হবে। ফুটপাত উচ্ছেদে স্থানীয়ভাবে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জে বাস দুর্ঘটনার পেছনে বেশি গতি এবং চালকের মনোসংযোগের অভাব, অস্থিরতা, যাত্রীদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটিতে লিপ্ত থাকার কারণ পাওয়া গেছে। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কাভার্ড ভ্যানের পেছনে যাত্রীবাহী বাস ধাক্কা দেয়। চালকের অস্থিরতার কারণেই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। তা ছাড়া রাস্তার পাশে বিভিন্ন যানবাহন রাখার কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এ জন্য যানজট নিরসনে আমরা অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করছি। নসিমন-করিমন ২২টি মহাসড়কে নিষিদ্ধ যানবাহন। এর পরও এগুলো সমিতিবদ্ধ হয়ে চালায়। সুযোগ পেলেই রাস্তায় নেমে আসে। সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে এসব যানবাহন অনেক দায়ী। আমরা এগুলো নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে শুধু চালক নয়, এসব যানবাহনের পেছনে যারা আছে তাদেরও দায়ী করছি। তাদের মামলার মধ্যে আনছি। হাইওয়েকেন্দ্রিক হাট-বাজার যান চলাচলে অন্যতম একটি বাধা। ২২৬টি বাজারের একটি তালিকা আমরা করেছি। এগুলো অনেক পুরনো। অবৈধ ৪২টি বাজার আমরা উঠিয়ে দিয়েছি। নতুন আইনে হাইওয়ে বন্ধ করে রাখার বিষয়ে শাস্তির সুপারিশসংবলিত প্রস্তাব দিয়েছি।’

নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘ফেব্রুয়ারিতে যে ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে, আমি রীতিমতো ভয়ের মধ্যে আছি। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে চালকের দায়িত্ব গাড়ি থামিয়ে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা। বিদেশে এ ধরনের নিয়ম চালু আছে। কিন্তু আমাদের দেশে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেই চালক পালিয়ে যায়। দুর্ঘটনার পেছনে জড়িতদের শাস্তির জন্য আইন করার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু চালকরা সব সময়ই এর বিরোধিতা করছে। এ জন্য এখন পর্যন্ত নতুন আইন করা যাচ্ছে না। চালকও জানে, যে আইন আছে তাতে জনগণ সন্তুষ্ট না।’ তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনার বিচার হলে মানুষ চালকের গায়ে হাত তুলত না। আমি ২৪ বছর ধরে আন্দোলন করছি, কোথাও সড়ক দুর্ঘটনার বিচার হতে দেখছি না। কয়েকটির রায় হলেও বাস্তবায়িত হয়নি। চালক, মালিক ও যাত্রীসাধারণের সন্তুষ্টিজনক একটি আইন করতে হবে। তা না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটবে, আরেকটি দুর্ঘটনার পথ সৃষ্টি করবে। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা সবার আগে। শ্রমিক-মালিক সংগঠনের তা উপলব্ধি হওয়া উচিত। সরকারকেও এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে।’

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘দুর্ঘটনা একক কোনো কারণে হয় না। কোনো কোনো কারণে বেশি আবার কোনো কোনো কারণে কম দুর্ঘটনা হয়। কেউ বলবে চালকের দোষ, কেউ বলবে ফিটনেসের দোষ। ফিটনেসের কারণে কতটা দুর্ঘটনা ঘটছে সেটা কিন্তু কেউ মাথায় নিচ্ছে না। তবে আমরা আমাদের দেশের দুর্ঘটনার প্রধান যে কারণ দেখছি—চালকের বেপরোয়া মনোভাব, বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো, ওভার স্পিডে গাড়ি চালানো, ওভারটেকিং ইত্যাদি। কিন্তু চালকরা বলবে—রাস্তা ভালো না, আইন ভালো না, নানা রকমের অজুহাত। ২০১৫ সাল থেকে ২০১৬ সালে দুর্ঘটনা কমার হার দেখে আমরা খুশি হচ্ছিলাম। কিন্তু ২০১৬ সাল থেকে ২০১৭ সালে দুর্ঘটনা ২২ শতাংশ বেড়ে গেছে। এটাকে কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যায় না।

 



মন্তব্য