kalerkantho


‘সরকারের উচিত নিরীহ মনোভাব নিয়ে থাকা’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



‘সরকারের উচিত নিরীহ মনোভাব নিয়ে থাকা’

‘কোন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে, জেরার আলোকে খালেদা জিয়ার বিচার হয়েছে তা আমাদের জানা নেই—যেহেতু রায়ের কপি এখনো প্রকাশ হয়নি। এই স্পেশাল বিচারে অনেক রকমের প্রভাব আসতে পারে। আমার কোনো সন্দেহ নেই। এই বিচার নিশ্চিতভাবেই প্রভাবিত করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার আইনজীবীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, একটি মিথ্যা মামলায় তাঁকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এটি সত্যিই যদি মিথ্যা হয়, সেটার জন্য স্পেস রয়ে গেছে। বিষয়টি দেখে হাইকোর্ট বিচার করবে বলে জাতি আশা করছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা উচিত ছিল যে আমরা কিছু জানি না। কিন্তু এটা হলে ওটা হবে ইত্যাদি বলে মামলাটিকে পলিটিসাইজ করে তারা বিষয়টির সঙ্গে এত বেশি সম্পৃক্ত হয়েছে যে তাদের বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। খালেদা জিয়ার সাজার বিষয়টি বিএনপি কতখানি ব্যবহার করতে পারবে, আর সরকার কতখানি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, তা আগামী দিনের রাজনীতিতে দেখা যাবে।’ বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যালায়েন্সের (বিএনএ) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা এ কথা বলেছেন।

গত মঙ্গলবার রাতে ইনডিপেনডেন্ট টিভির আলোচনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন খালেদ মুহিউদ্দিন।

নাজমুল হুদা বলেন, ‘আইন-আদালতের প্রতি আস্থা এই লেভেলে নেই। কারণ এটি ক্যাঙ্গারু কোর্টের মতো। আমি নিজে সেটার সাক্ষী। যেমন এক-এগারোর সময় স্পেশাল কোর্টে আর্মি অফিসার বসে থেকে তাঁর ইচ্ছামতো সাক্ষী ডেকে বিচার করতে বলতেন। এই অবস্থা জেনেও উচ্চ আদালতের সুযোগ গ্রহণের জন্যই বিএনপি স্পেশাল কোর্টের মামলায় অংশ নিয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আর এই মুহূর্তে সরকারের উচিত, সম্পূর্ণ নিরীহ একটি মনোভাব নিয়ে থাকা।’

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘খালেদা জিয়ার রায়কে আমি রাজনৈতিকভাবে দেখি। বিচার একটা হয়েছে, সেটি কারেক্টও হয়েছে। তবে বিচারটি ঠিক সময়ে হয়েছে কি না সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। আমার কাছে সময় এবং প্রেক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি আরো বলেন, অর্থমন্ত্রী একজনের নাম ধরে বলেছেন, তিনি জনতা ব্যাংককে শেষ করে দিয়েছেন। পাঁচ হাজার থেকে ছয় হাজার কোটি টাকার অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে। আরো অনেক ব্যাংকের ঘটনা আছে, যেগুলোতে ক্ষমতাসীন মন্ত্রীরা জড়িত ছিলেন। সেসব ঘটনা তো আমলে নেওয়া হয়নি। একটি জিনিস নিয়ে এত হৈচৈ হচ্ছে কেন? এত হুলুস্থুল সরকারের পক্ষ থেকেই প্রথমে করা হয়েছে। এখনো চলছে। মন্ত্রীরা কথা বলছেন। পত্র-পত্রিকায় তো লেখা হচ্ছেই। জাতিসংঘের মহাসচিব পর্যন্ত এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছেন।

মান্না বলেন, ‘ধরে নিই, দুই কোটি ১০ লাখ টাকার দুর্নীতি যদি হয়ে থাকে, তাহলে এর চেয়ে আরো অনেক বড় দুর্নীতি আছে। এটা নির্বাচনী বছর। যাঁকে সাজা দেওয়া হয়েছে, তিনি একটি দলের চেয়ারপারসন। তিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, সেটাই বড় কথা নয়, তিনি এখনো বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নম্বর বা দুই নম্বর পার্টির প্রধান। আমরা চাচ্ছি একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হোক, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হোক। কিন্তু খালেদা জিয়ার সাজার ঘটনায় সামনের নির্বাচন যে নিশ্চিতভাবেই বিতর্কিত হবে, প্রশ্নবিদ্ধ হবে, আরো জটিলতা সৃষ্টি হবে—তাতে কোনো সন্দেহ নেই।’

নাগরিক ঐক্যের নেতা বলেন, ‘বিএনপি গত নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি, এবার তারা অংশ নিতে চায়। তারা বলছে, আমরা নির্বাচনে যাব। বিএনপি চেয়ারপারসনও বলেছেন, যত যাই করেন আমাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে পারবেন না। কিন্তু এই যে দণ্ড হয়েছে, তাতে তিনি নির্বাচনে যেতে পারবেন কি পারবেন না তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মনে হতেই পারে, তাদের সাইজ করার জন্য খালেদা জিয়াকে এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে। ... একবার বলা হচ্ছে, তাঁকে অন্য মামলায় অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে, আবার শুনলাম তাঁকে অন্য কোনো মামলায় অ্যারেস্ট দেখানো হয়নি। এভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।’



মন্তব্য