kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধা রা বা হি ক

কিয়ামতের দিন সবাই আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করবে

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কিয়ামতের দিন সবাই আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করবে

৮৭. সেদিন তারা (প্রকাশ্যে) আল্লাহর প্রতি আনুগত্য দেখাবে এবং তারা যে মিথ্যা উদ্ভাবন করত, তা তাদের জন্য নিষ্ফল হয়ে যাবে।

৮৮. আমি শাস্তির পর শাস্তি বৃদ্ধি করব কাফিরদের ও আল্লাহর পথে বাধাদানকারীদের। কারণ তারা অশান্তি সৃষ্টি করত। (সুরা : নাহল, আয়াত : ৮৭-৮৮)

তাফসির : আগের আয়াতে কিয়ামতের দিবসে কাফির ও মুশরিকদের পরিণতি সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছিল। আলোচ্য আয়াতেও সে প্রসঙ্গ ভিন্নভাবে আনা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, পরকালের বিভীষিকাময় আজাব প্রত্যক্ষ করে কাফির-মুশরিকদের বোধোদয় হবে। এ অবস্থায় আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করা ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা থাকবে না। তারা সেখানে নিরুপায় ও অসহায় হয়ে পড়বে। তাদের যত ভ্রান্ত চিন্তা ও কল্পিত উপাসনা ছিল, সেগুলো সেদিন অসার ও নিষ্ফল হয়ে যাবে।

দ্বিতীয় আয়াতের মূলকথা হলো, কুফর ও শিরকের পথে চলার জন্য যারা উসকানি দেয়, তাদের শাস্তি হবে সাধারণ পাপীদের চেয়েও অনেক বেশি। কেননা তাদের মাধ্যমে যারা পাপাচারে লিপ্ত হবে, তাদের পাপেরও অংশীদার হবে ওই সব ব্যক্তি। তা ছাড়া পরকালের আজাব অনন্তকালের। তাই সে আজাব কাফিরদের জন্য কখনো বন্ধ থাকবে না। ইরশাদ হয়েছে, ‘যখনই তা (জাহান্নামের আগুন) স্তিমিত হবে তখনই আমি তাদের জন্য অগ্নিশিখা বৃদ্ধি করে দেব।’ (সুরা : বনি ইসরাইল, আয়াত : ৯৭)

আলোচ্য আয়াত থেকে জানা যায়, অবিশ্বাসীরা দুনিয়ায় ঈমান না আনলেও পরকালে তাদের মধ্যে শুভবুদ্ধির উদয় হবে। তারা মুসলমান হওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করবে। তাফসিরবিদ জুজাজ (রহ.)-এর মতে, মুসলমান হওয়ার এ বাসনা সব কাফিরের মনে জাগ্রত হবে। কিয়ামতের দিন তারা যখন একের পর এক আজাব প্রত্যক্ষ করবে এবং জান্নাতবাসীদের সুখময় জীবনাচার দেখবে তখন তারা মুসলমান হওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করবে। কিন্তু সেদিন এই আকাঙ্ক্ষা কোনো কাজে আসবে না। (তাফসিরে মুনির : ১৩/৩১৩)

আলোচ্য আয়াতের কাছাকাছি বক্তব্য এসেছে সুরা ইবরাহিমে। সেখানে রয়েছে, ‘যেদিন তাদের শাস্তি আসবে, সেদিন সম্পর্কে তুমি মানুষকে সতর্ক করো। তখন (কিয়ামত এসে গেলে) জালিমরা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের কিছুকালের জন্য অবকাশ দাও, আমরা তোমার আহ্বানে সাড়া দেব ও রাসুলদের অনুসরণ করব। (এর জবাবে তাদের বলা হবে) তোমরা কি আগে শপথ করে বলতে না যে তোমাদের পতন নেই?’ (সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ৪৪)

দুনিয়ার জীবনেও বহু অমুসলিমের মনে মুসলিম হওয়ার বাসনা জাগ্রত হয়। কিন্তু পারিপার্শ্বিকতা ও নানা সীমাবদ্ধতায় তারা ইসলাম গ্রহণ করতে পারে না। অন্য আয়াতে এসেছে, ‘কখনো কখনো কাফিররা আকাঙ্ক্ষা করবে যে তারা যদি মুসলিম হতো!’ (সুরা : হিজর, আয়াত : ২)

সব শিশুই সত্য গ্রহণের যোগ্যতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। হাদিস শরিফে পরিষ্কার বলা আছে, প্রতিটি শিশুর মধ্যে সুকুমারবৃত্তি সুপ্ত থাকে। তারপর বড় হলে তার মাতা-পিতা তথা পরিবেশ তাকে ভিন্ন পথে পরিচালিত করে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘প্রতিটি নবজাতক ফিতরাত তথা সত্যের ওপর জন্মগ্রহণ করে। এরপর তার মাতা-পিতা তাকে ইহুদি বা খ্রিস্টান কিংবা অগ্নি উপাসকরূপে গড়ে তোলে। যেমন—চতুষ্পদ জন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ বাচ্চা জন্ম দেয়। তোমরা কি তাকে (জন্মগত) বিকলাঙ্গ দেখেছ?’ (বুখারি, হাদিস : ১৩৮৫)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য