kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

গোবিন্দচন্দ্র দেব

দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ গোবিন্দচন্দ্র দেবের প্রকৃত নাম গোবিন্দচন্দ্র দেবপুরকায়স্থ। তিনি ১৯০৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সিলেট জেলার বিয়ানীবাজারের লাউতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯২৯ সালে কলকাতার সংস্কৃত কলেজ থেকে দর্শনে বিএ এবং ১৯৩১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে এমএ পাস করে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। ‘রিজন, ইনটুইশন অ্যান্ড রিয়ালিটি’ শীর্ষক গবেষণার জন্য ১৯৪৪ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি লাভ করেন। কিছুকাল দিনাজপুর সুরেন্দ্রনাথ কলেজে অধ্যাপনা করে ১৯৫৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে যোগ দেন।

চিন্তাচেতনায় তিনি ছিলেন সক্রেটিসের ভাবশিষ্য। অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী এই দার্শনিক সব ধর্মকে দেখেছেন উদার ও সর্বজনীন দৃষ্টিকোণ থেকে। উপমহাদেশে সমন্বয়ী দার্শনিক ধারার সার্থক প্রবর্তক তিনি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৯। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আইডিয়ালিজম অ্যান্ড প্রগ্রেস, আমার জীবনদর্শন, অ্যাসপিরেশন অব দি কমনম্যান, দি ফিলোসফি অব বিবেকানন্দ অ্যান্ড দি ফিউচার অব ম্যান, তত্ত্ববিদ্যাসাগর, বুদ্ধ : দি হিউম্যানিস্ট ইত্যাদি। ১৯৬৭ সালে ড. দেবকে সম্মানসূচক ‘দর্শন সাগর’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। মানবতাবাদী দর্শন প্রচারের জন্য তিনি আমেরিকায় দ্য গোবিন্দ দেব ফাউন্ডেশন ফর ওয়ার্ল্ড ব্রাদারহুড প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে গোবিন্দদেব দর্শন গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করে। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ভবনে তাঁকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের গণকবরে তাঁর মরদেহ সমাহিত করা হয়। 

[বাংলাপিডিয়া অবলম্বনে]

 


মন্তব্য